প্রকৃত সুখ ও সফলতার জায়গা হলো জান্নাত

দুঃখ-কষ্ট, বিপদাপদ, পাওয়া না-পাওয়া, সফলতা-ব্যর্থতা নিয়েই জীবন। প্রকৃত সুখ ও সফলতার জায়গা দুনিয়া নয়, প্রকৃত সুখ ও সফলতার জায়গা হলো জান্নাত। যারা মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনে এবং সব ধরনের পরিস্থিতিতে তাঁর ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখে, দুঃখ-কষ্ট, রোগ-ব্যাধি কিংবা শত্রুর অনিষ্ট—কিছুই তাদের ব্যর্থ করতে পারে না। কারণ তারা সব পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করে। এবং আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখে ধৈর্য ধারণের কারণে প্রতিটি বিপদ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে, তাদের জান্নাতকে সুসজ্জিত করে এবং তারা এও বিশ্বাস করে যে কষ্টের পরই সুখ আছে। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে।’ (সুরা : আল ইনশিরাহ, আয়াত : ৬)

দুঃখ, ক্ষুধা, ভয় ও ব্যর্থতা—এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষামাত্র। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যারা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করতে পারে, তাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ আছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি (আল্লাহ) তোমাদের অবশ্যই পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের। যারা তাদের ওপর বিপদ এলে বলে, আমরা তো আল্লাহরই। আর নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫-১৫৬)

কোনো বিপদে পতিত হওয়ার আগেই যদি সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সে বিপদে ধৈর্যধারণ সহজ হয়ে যায়। কেননা, হঠাৎ করে বিপদ এসে পড়লে দুশ্চিন্তা অনেক বেশি হয়। যেহেতু মহান আল্লাহ সব মানুষকে লক্ষ্য করেই পরীক্ষার কথা বলেছেন, সেহেতু সবার অনুধাবন করা উচিত যে এ দুনিয়া দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার স্থান। সুতরাং এখানে যেসব সম্ভাব্য বিপদাপদের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোকে অপ্রত্যাশিত কিছু মনে না করলেই ধৈর্যধারণ করা সহজ হতে পারে। পরীক্ষায় সমষ্টিগতভাবে উত্তীর্ণ হলে পরে সমষ্টিগতভাবেই পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া ধৈর্যের পরীক্ষায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে যারা যতটুকু উত্তীর্ণ হবে, তাদের ততটুকু বিশেষ মর্যাদাও প্রদান করা হবে।

জীবনে বিপদাপদ আসা মানেই আল্লাহর আজাব নয়, আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বেশি পরীক্ষা করেন। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘বিপদ যত তীব্র হবে, প্রতিদানও তদনুরূপ বিরাট হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতিকে ভালোবাসলে তাদের পরীক্ষা করেন। যারা তাতে সন্তুষ্ট থাকে তাদের জন্য আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর যারা তাতে অসন্তুষ্ট হয়, তাদের জন্য আছে অসন্তুষ্টি।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৩১)

যারা মুমিন, তাদের আসলে হারানোর কিছুই নেই। শত্রু ও হিংসুকরা তাদের আঘাত দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়; কিন্তু মহান আল্লাহ ওই আঘাতগুলোর বিনিময়ে তাদের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি করে দেন।

আয়েশা (রা.) বলেন, আমি শুনেছি, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যেকোনো মুসলমানের গায়ে একটি কাঁটা বিদ্ধ হয় কিংবা তার চেয়েও বেশি ছোট্ট কোনো আঘাত লাগে, তার বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৫৫)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, জাবির (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামত দিবসে বিপদে পতিত (ধৈর্যধারী) মানুষের যখন প্রতিদান দেওয়া হবে, তখন (পৃথিবীতে) বিপদমুক্ত মানুষরা আকাঙ্ক্ষা (পরিতাপ) করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি কাঁচি দিয়ে তাদের শরীরের চামড়া কেটে টুকরা টুকরা করে দেওয়া হতো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪০২)

সুবহানাল্লাহ, মহান আল্লাহ এত দয়াময় যে সাধারণ অসুস্থতা ও দুঃখ-কষ্টের বিনিময়েও তিনি বান্দাকে পাপমুক্ত করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-এর সামনে জ্বরের বিষয় উল্লিখিত হলে এক ব্যক্তি জ্বরকে গালি দেয়। নবী (সা.) বলেন, জ্বরকে গালি দিয়ো না। কেননা, তা পাপ দূর করে, যেমন—আগুন লোহার ময়লা দূর করে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৪৬৯)

তাই যেকোনো ধরনের বিপদে বিচলিত না হয়ে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত। ধৈর্যধারণ করা উচিত। কারণ মুমিনের হারানোর কিছুই নেই, প্রতিটি কষ্ট তার জন্য সফলতার দ্বার খুলবে। তার মর্যাদা আরো বেশি গুণ বাড়িয়ে দেবে।

মহান আল্লাহ সবাইকে বিপদাপদমুক্ত রাখুন। কেউ বিপদে পড়ে গেলে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার তাওফিক দান করুন।

মন্তব্য

মন্তব্য