হাইকোর্টের রুল জারি মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল

মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার (২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ) ঘোষিত ফল কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র আদালতে দাখিল করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালককে আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা’র হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার এ রুল জারি করেন। ১৯৫ জন পরীক্ষার্থীর পক্ষে করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার।

এর আগে গত ২৭ মে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ফেরদাওউস জাহান মারিয়াসহ ৩২৪ শিক্ষার্থীর পক্ষে করা এক রিট আবেদন কিছু পর্যবেক্ষন দিয়ে খারিজ করে দেন। আদেশে বলা হয়, যদি কোনো শিক্ষার্থী তার ফলাফল ‘ত্রুটিপূর্ণ’ মনে করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন, তবে তা ৭দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া তথ্য গোপন করে কোনো প্রার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ নিয়ে থাকলে এবং তা চিহ্নিত হলে তাদের ভর্তি তাৎক্ষণিক বাতিল হবে।

রিট আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী একজন পরীক্ষার্থী কোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তি থাকাবস্থায় তিনি যদি দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তবে তার মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৭.৫ নম্বর কর্তন করা হবে। আবার কোনো পরীক্ষার্থী যদি গতবছর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকে তাহলে তার ৫ নম্বর কাটা যাবে। কিন্তু গত ৪ এপ্রিল প্রকাশিত ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল থেকে দেখা যায়, অনেক পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই এই নিয়মটি পালন করা হয়নি। যেসব পরীক্ষার্থীর ৭.৫ নম্বর কর্তন করার কথা সেখানে মাত্র ৫ নম্বর কর্তন করা হয়েছে। ওইসব ভর্তি পরীক্ষার্থীর ২.৫ নম্বর বেশি দিয়ে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। আবার প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীর যেখানে কোন নম্বর কাটবার কথা নয়, সেখানে অনেক পরীক্ষার্থীর থেকেই ৫ নম্বর কর্তন করে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে এরকম অসংখ্য ভুল এবং বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

রিট আবেদনে আরো বলা হয়, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী অন্তত দুটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর ছিল দুটি করে। এছাড়া অন্তত তিনটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর ছিলনা। সংরক্ষিত জেলা ও উপজাতি কোটার আসন পূরণেও ব্যাপক অসঙ্গতি করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা জেলা কোটা আবেদনকারী পরীক্ষার্থীকে দেখানো হয়েছে মেহেরপুর জেলার পরীক্ষার্থী হিসেবে। এসব ত্রুটি ও অসংগতি রেখে মেধা তালিকা প্রণয়ন করার ফলে হাজার হাজার যোগ্য ও মেধাবী পরীক্ষার্থী মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার মুখে পড়েছেন

মন্তব্য

মন্তব্য