বরগুনায় অতিভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হাজারো মানুষ,  ধানের ক্ষেত, পুকুর ও ঘের তলীয়ে ক্ষতীর সম্মুখীন কৃষক ও মাছচাষী!

মো: জাফর খান,  বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে তিন দিন ধরে অতিবর্ষণ আর ঝোড়ো বাতাসে  দক্ষিণ উপকূলীয় জেলা বরগুনার জীবনযাত্রা থমকে গেছে।  বরগুনা জেলায় অতিভারী বর্ষণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে বরগুনার হাজারো মানুষকে পোহাতে হচ্ছে  দুর্ভোগ ।ভারী বর্ষণের পাশাপাশি নদ-নদীতে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এলাকায় অসংখ্য পুকুর, ঘের পানিতে ডুবে অনেক মাছ ভেসে গেছে। আউশখেত, আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে।ঝড়ো বাতাসে উপড়ে পড়েছে গাছপালা। বরগুনায় ঝড়ে গত মঙ্গলবার(২৭ জুলাই)  রাতে থেকে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল বুধবার(২৮ জুলাই)  বিকেলে তা চালু হয়। এতে মুঠোফোনের নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পটুয়াখালী ও কলাপাড়া আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনা জেলায় ২৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবর্ষণে বরগুনাসহ জেলার সবগুলো উপজেলায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বরগুনা সদরের জেলখানা গ্রামের কৃষক আবদুল বারেক (৪৫) বলেন, ‘শ্রাবণ মাসে এত অল্প সময়ে এমন বিরামহীন ভারী বৃষ্টি দেখিনি। বীজখলা পানিতে তলীয়ে গেছে এতে বীজপারা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে আমাদের।  বরগুনা সদর উপজেলার কিছু মাছচাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অতিবর্ষনে তাদের  পুকুর, ঘের পানিতে তলীয়ে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া আমতলী উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।’আমতলীর পূজাখোলা গ্রামের মাছচাষি আমির হোসেন বলেন, তিন একর জমির মাছের ঘেরের অন্তত ৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এই এলাকার ২৫টি ঘেরের মধ্যে ১০টি ঘেরই পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হবে।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোসাম্মাৎ হালিমা সরদার বলেন, ১২ হাজার পুকুর এবং ১৫০টি ঘেরের ক্ষতি হয়েছে। এতে এক কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতে মাটি আলগা হয়ে অন্তত এক হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উপড়ে পড়েছে। এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উপড়ে সড়কে পড়ে থাকায় মানুষের চলাচলে বিঘ্নিত হচ্ছে।বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায় , বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে তিন দিন ধরে প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো আবহাওয়া বিরাজ করছে। তবে বরগুনা ও পটুয়াখালীতে প্রবল বর্ষণ হয়েছে, যা নজিরবিহীন। সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল আছে। আজ বৃহস্পতিবার(২৯ জুলাই)  বিকেল নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

মন্তব্য

মন্তব্য