গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য করার চেষ্টা

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য করার চেষ্টা। নিয়োগ বানিজ্যের জন্য এক অভিনব কৌশলে গোবিন্দপুর উচ্চ বিদয়ালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদ শূর্ন্য করার চেষ্টা। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদয়ালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকে চাকরি চ্যুত করে সেই পদে নিয়োগ বানিজ্য করার জন্য প্রধান শিক্ষক একটি ও স্বার্থান্বেসী একটি মহলসহ এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের নিকট থেকে প্রাপ্ত কাগজ পত্র ও সরোজিনে অনুসন্ধানে জানা যায়। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরিকল্পনায় বিদ্যালয়ের একজন খন্ডকালীন শিক্ষক জনাব হোসেন গাজী সহ একটি জামাত বিএনপির চক্র বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক জনাব সোলায়মান পাটোয়ারী কে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।

গত ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলেও তাদের এই পরিকল্পনা শুরুতে ফাঁস হয়ে যায়। তখন ম্যানিজিং কমিটি সিন্ধান্ত নেয় বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের যে সকল শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ আছে তাদের আবেদন গ্রহন করা হবে না,ফলে ঐ শিক্ষক আবেদন করা থেকে বিরত থাকে কারন ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছিল।

গত ২০১৮ সালের জুন মাসে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিয়োগ পক্রীয়ায় প্রথম হওয়ার পরও প্রধান শিক্ষক এক লক্ষ টাকা না দিলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয় জানালে ভুক্তভোগী শিক্ষক তা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়। প্রধান শিক্ষক এখানেই ক্ষান্ত হননি ১৫ মাস চাকরি চলার পর সহঃ প্রঃ শিক্ষকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ইসলাম ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত আনে এমন একটি পোস্ট করে বিক্ষোভ মিছিল করে।

প্রধান শিক্ষক অত্যান্ত নাটকীয়তায় বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে বিদ্যালয় থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষকে নিয়ে থানায় চলে যায়। এদিকে প্রধান শিক্ষকের কেডার খন্ডকালীন শিক্ষক হোসেন গাজী ০১/০৯/২০১৯ তারিখ থেকে পোষ্টের প্রিন্ট কপি জামাত বিএনপির লোকদের কাছে বিতরন করে বিক্ষোভের আয়োজন করে। ০২/০৯/১৯ তারিখে বিদ্যালয়ে এসে বাহিরের বিক্ষোভ কারীরা বিদ্যালয়ের আসে পাশে এলেই শ্রেণিকক্ষে গিয়ে হোসেন গাজী ছাত্র ছাত্রীদের মিছিলে যেতে নির্দেশ দেয়, শিক্ষার্থীরা যেতে না চাইলে ছাত্রদের মিছিলে নিতে সক্ষম হয়। অতপর সঃ প্রঃ শিঃ জিডির কারনে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

পুলিশ কে ঐ হোসেন গাজী চেলেন্চ করে যে আইডি হ্যাক হয়নি। সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব বিপ্লব কান্তি সরকার প্রথমে আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে আইডি ফেরত পেয়েই একটি সচেতনতামুলক পোস্ট দেয় পরে থানায় জিডি করে। গত ০৩/০৯/২০১৯ তারিখে সভাপতির মৌখিক নির্দেশে প্রধান শিক্ষক সহকারী প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে, যা সভাপতির ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেখতে পান। যার কোন কপি সঃ প্রঃ শিঃ কে প্রদান করা হয় নাই। গত ০৫/০৯/২০১৯ তারিখে আইসিটি এ্যাক্ট ২০১৮ মতে ফরিদগঞ্জ থানায় জনৈক ব্যাক্তি সাহাদাত হোসেন সুজন ফরিদগন্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন,যাহার নং ০৫।

সাময়িক বরখাস্তের বিধিমালা অনুযায়ী সাময়িকী বরখাস্তকালীন সময়ে বেতনের অর্ধেক বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন, যা কেবল সাময়িক বরখাস্তের প্রথম মাসে অনুসরণ করা হয়েছে, দ্বিতীয় মাস থেকে অধ্যাবদি সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূতভাবে সম্পূর্ণ বেতন ভাতা বন্ধ রাখে।

যা কেবল সাময়িক বরখাস্ত বিধির লঙ্ঘন নয় সম্পূর্ণ অমানবিক ও বটে । হাইকোর্টের নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন রয়েছে যে, যদি কোন শিক্ষককে ৬০ দিনের বেশি সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয় তবে তাকে সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা পরিশোধ করিতে হইবে। হাইকোর্টের নির্দেশ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন কিছুই প্রধান শিক্ষক আমলে নেননি।

এদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক মামলা ফেস করে গত ২৩/১১/২০২০ তারিখে ঢাকাস্থ্য সাইবার ট্যাইবুনাল সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সিআইডির তদন্তে সত্যতা না পাওয়ায় তদন্তকারি কর্মকতার সুপারিশের আলোকে মামলাটি খারিজ করে দিয়ে উক্ত মামলা থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষকে অব্যাহতি প্রদান করেন। এই দিকে মামল চলাকালীন ও করোনাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষক এক তরফা ভাবে (কোনো নোটিশ না করে ) সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের আপিল এন্ড আরবিউট্রেশনে চুড়ান্ত বহিষ্কার অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন।

প্রধান শিক্ষক উক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একটি সুচতুর কৌশল অবলম্বন করেন উক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষকের গ্রামের ঠিকানায় যেখানে ওনি থাকেন না সেই ঠিকানায় চিঠি প্রদান করেন। যা স্থায়ী ঠিকানা।অথচ সঃ প্রঃ শিঃ উপজেলা সদরে থাকেন এবং বর্তমান ঠিকানা হিসাবে যা দেওয়া আছে। চিঠি গুলো ফেরত আসে যে প্রাপক এখানে বসবাস করেন না,মর্মে ডাক বিভাগ কতৃক।

অতঃপর সহকারী প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের কাজে যোগদান করেন না দীর্ঘ দিন থেকে এই মর্মে পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেন। উক্ত চূড়ান্ত বহিষ্কার প্রক্রিয়ার একটি অংশে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সত্যতা প্রমাণ করিতে হয় । উক্ত তদন্ত চলাকালীন দিন সহকারী প্রধান শিক্ষকে অবহিত করা হয়নি।তথাপি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ঐ দিন ফোন করে প্রধান শিক্ষক,অফিস সহকারী ও তদন্ত কমিটির একজন সদস্যকে অবহিত করেন যে ওনি তার উপজেলা সদরের বাসায় অবস্থান করিতেছেন তদন্তের প্রয়োজনে ডাকলে উপস্থিত থাকিয়া তদন্তে সহায়তা করিবেন,কিন্তু ওনাকে না ডাকিয়া সম্পূর্ণ একতরফা ভাবে একপেশে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করে বোর্ডে আবেদন করা হয়।

এদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক গত ২০/০১/২০২০ তারিখে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করে জানান যে, মামলা চলমান থাকায় চাকরিতে পুনঃ বহাল করার জন্য আবেদন করেন। তাতে শিক্ষা বোর্ড কোনো ব্যবস্থ্যা গ্রহন না করায়।গত ০৫/১০/২০ তারিখে ৫০০০/ টাকা ফী দিয়ে চাকরিতে পুনবহালের জন্য আবেদন করলেও বোর্ড কোনো ব্যাবস্থা গ্রহন করেনি। অতপর মামলা নিশপত্তী হওয়ার পরে মামলার কপি রায়ের কপি সিআইডির তদন্ত রিপোর্ট সহ পুনবহালের আবেদন দুই বার করা সত্বেও বোর্ড অদ্যাবদি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের একতরফা চুড়ান্ত বহিষ্কার অনুমোদনের জন্য বোর্ডে করা আবেদনের ১ম শুনানি গত ২১/০১/২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হলে মামলায় নির্দোশ প্রমানিত হওয়ার কাগজ পত্র প্রদান সাপেক্ষে উপস্থাপন করলে বোর্ড বিষয়টি পরবর্তী শুনানীর জন্য সিন্ধান্ত গ্রহন করে। সেই শুনানীর পর প্রধান শিক্ষক মিমাংশার জন্য প্রস্তাব দেন সেই প্রস্তাবটি হলো যেহেতু আদালত কতৃক সঃ প্রঃ শিঃ নির্দোশ প্রমানিত হয়েছে, সেহেতু কমিটি পুনবহাল করে তার কপি বোর্ডে দিয়ে দিলে অভিযোগ খারিজ হয়ে যাবে।

তার জন্য সঃ প্রঃ শিঃ কে, যা করতে হবে ৩০ শে জুন ২০২১ তারিখ দিয়ে রিজাইন লেটার দিতে হবে, আর বকেয়া বিল পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দিবে তার জন্য আড়াই লাখ টাকা দিতে হবে। সঃ প্রঃ শিঃ উক্ত প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সহকারি প্রঃ শিঃ মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ও প্রধান মন্ত্রী বরাবরে আবেদন করে চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন করেছেন।

সব শেষ গত ২১/০৬/২০২১ তারিখে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আপিল এন্ড আর বিউট্রেশন কমিটির মিটিং এ উভয় পক্ষকে ডাকলে সহঃ প্রঃ শিঃ উপস্থিত থাকলেও প্রধান শিঃ অনউপস্থিত ছিলেন, চিঠিতে যদিও উল্যেখ ছিল কেউ অনুপস্থিত থাকলে বোর্ড একতরফা সিন্ধান্ত নিবে, কিন্ত সিন্ধান্ত না নিয়ে পরর্বতী তারিখের জন্য সিন্ধান্ত গ্রহন করে। করোনা মহামারিতে দুই বছর বেতন ভাতা না পেয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছেন ষড়যন্ত্রের আগুনে দাহ্য সহঃ প্রঃ শিক্ষক।
জানা যায় সহঃ প্রঃ শিঃ একজন নিরুর্দেশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তার পত্রীক বাড়ীটিও বেদখল হয়ে যায়।

দেশ সৃষ্টিতে যাদের অবদান আজ স্বাধীনতার স্বপক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্বেও জামাত বিএনপি দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধার সন্তানেরা। সঃ প্রঃ শিঃ কে বহিষ্কারের সময় যে কমিটি ছিল তার ৯ জন সদস্যের মধ্যে আজীবন দাতা সদস্য সহ বেশ কয়জন সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রধান শিক্ষক দায়ীত্ব নিয়ে তাদেরকে এনশিউর করেছিল যা করা হচ্ছে তা আইন অনুযায়ী করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক নিজে স্বউদ্যোগী হয়েই রেজুলেশন লিখে কেবল কোরাম মিলিয়ে ডেকে এনে স্বাক্ষর করিয়েছেন।তবে প্রধান শিক্ষক যে তাদেরকে মিথ্যা তর্থ্য দিয়েছে এটি কমিটির সদস্য সচেতন অভিভাবক বুঝতে পেরেছেন, তাই ঐ কমিটির সদস্যদের বক্তব্য যেহেতু সঃ প্রঃ শিঃ আদালত কতৃক নির্দোশ সেহেতু ওনাকে চাকরিতে পুনবহাল করতেই হবে,তার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক বানিজ্য প্রতিহত করতে বদ্ধ পরিকর।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোনকরা হলেও প্রঃ শিঃ ফোন রিসিভ করেন না। সঃ প্রধান শিক্ষক জানান যেহেতু তিনি প্রধান মন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছিন তাই ধৈয্য ধারন করিতেছেন। এছারা একাধিক মামলা ও হাই কোটে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য