সন্দ্বীপের মগধারা ইউনিয়নে স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা

সাব্বির রহমান, সন্দ্বীপ থেকে : সন্দ্বীপের মগধারা ইউনিয়নে স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। বেলাল, এরশাদ,নুরনবী, মিলাদ নামের এই চারজন মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন যাবত সন্দ্বীপে ইয়াবা ও গাঞ্জার ব্যবসার সাথে জড়িয়ে রয়েছে। এদের নামে সন্দ্বীপ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক মামলা ও রয়েছে বলে জানা যায় ।

এই চারজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে অনুসন্ধান টিম জানতে চাইলে তারা অস্বীকার করেন, তারা বলেন আমরা এই ধরনের কোন ব্যবসার সাথে জড়িত নেই, শহিদুল্লাহ কে আমরা ভালোভাবে চিনিনা ও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।

এইদিকে শহিদুল্লার দাবি স্থানীয় প্রসাশন যেন বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে, এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শহিদুল্লাহ সব রকম সহযোগিতা করবে।

বিশেষ সূত্রে জানা যায় যে, বেলাল নামের এই মাদক ব্যবসায়ী ওর্য়াবদ্ধা সফিকের ছেলে, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের জায়গা দখল করে তৈরি করেছে নিজের বাসস্থান এই জাগায় থেকে বিক্রি করছে গাঞ্জা ও ইয়াবা।

বেলাল এর এক অনুসারী শহিদুল্লার সাথে কথা বললে তিনি অনুসন্ধানে জানায়, বেলাল আমাকে দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত গাঞ্জা ও ইয়াবা বিক্রি করাইতো। আমি বেলাল এর ইয়াবা গাঞ্জা বিক্রি করতে গিয়ে সন্দ্বীপ থানার পুলিশ আমাকে অনেক বার গ্রেফতার করে। আমি দীর্ঘদিন যাবত জেল খেটে আসি। আমি আসার পরে বেলাল এর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দি, এর পর থেকে বেলাল আমাকে বিভিন্ন রকম হুমকি দেই। আমি সন্দ্বীপ কোর্টে মামলার হাঁজিরা দিতে গিয়ে ছিলাম আমাকে ওখানে মারার জন্য ধরে।

এছাড়াও বেলাল এর কাছে দুইটি জাতীয় পরিচয় পত্র রয়েছে, সে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম পরিচয় দিয়ে করে যাচ্ছে অবৈধ কার্যক্রম। আমি জেল থেকে এসে বিগত ৭-৮ মাস পর্যন্ত কোন অবৈধ কার্যকালাপে সাথে জড়িত নেই আমি ভালো হয়ে বাঁচতে চাই।

শহিদুল্লাহ মগধারা ইউনিয়ন ২ নং ওর্য়াড এর ভূমিহীন অস্থায়ী বাসিন্দা হামিদুল্লার ছেলে শহিদুল্লাহ মাদক ব্যবসা ছেড়ে সাধারণ জীবনযাপন করার জন্য স্থানীয় প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও প্রসাশনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

প্রায় ১২ বছর ধরে মাদকের প্রধান ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন শহিদুল্লাহ । তাঁর বিরুদ্ধে ৮ থেকে ১০ টি মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এ মামলাগুলোতে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন । কিন্তু অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য শহিদুল্লাহ অনুতপ্ত। মাদকের ব্যবসা ভালো কোনো কাজ নয়—তাঁর মধ্যে এমন উপলব্ধি হয়েছে। তাই শহিদুল্লাহ মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। শহিদুল্লাহ এখন ভূমিহীন জীবন যাপন করেন, তিনি বলেন, এখন আমার জীবনের নিরাপত্তা কে নিবে।

মন্তব্য

মন্তব্য