প্রশংসিত আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ গোলাম কবির

আহসান উল্লাহ বাবলু, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) থেকে : প্রশংসিত আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ গোলাম কবির। করোনাকালে নিরলস ভাবে সেবা দিয়ে এলাকায় বেশ প্রশংসিত আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ গোলাম কবির। তিনি রাত হলেই নিজেই পাহাড়া দিয়ে বেড়াচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথার ইতিহাসকে বুকে ধারণ করে স্ব-গৌরবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সু-সমন্বিত রাখতে পুলিশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ঠিক তেমন হয়েছে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম কবিরের।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে। সরকার পুলিশ বাহিনীকে একটি দক্ষ, জনবান্ধব ও প্রতি শ্রুতিশীল বাহিনীতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ গোলাম কবির ২০২০ সালের ০৭ই জুন থানায় যোগদানের পর থেকেই পাল্টে গেচ্ছে আশাশুনি থানার দৃশ্যপট।তিনি যোগদানের পর পরই মানবিক পুলিশিং সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

সেই কথা অনুযায়ী কোন প্রকার অর্থ ছাড়াই সাধারণ মানুষকে পুলিশিং সেবা প্রদানের কাজ তিনি এখনো অব্যাহত রেখেছেন। মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চোরাচালান, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি থানাকে সু-সর্জ্জিত মডেল ও মানবিক থানা হিসেবে গড়েছেন। সকল ধরণের পেশিশক্তি, অপশক্তিকে উপেক্ষা করে মেধা, প্রজ্ঞা, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে তার কাজের এই সাফল্যে আশাশুনির ইতিহাসে কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। অভিজ্ঞ মহলের মন্তব্য এমন (ওসি) যদি বাংলাদেশের সব কয়টি থানায় থাকতো তাহলে বাংলাদেশে কোন দুর্নীতি ও অনিয়ম হতো না। এলাকার সাধারণ মানুষ কোন প্রকার হয়রানী ছাড়াই পুলিশিং সেবা পাচ্ছে।

গোলাম কবির যোগদানের পর আশাশুনিতে আইন শৃংখলার ব্যপক উন্নয়ন হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন জিডি ও অভিযোগ করতে কোন টাকা লাগে না। এরই ধারাবাহিকতায় অসহায় নির্যাতিত সাধারণ মানুষের প্রতিনিয়ত থানার মেন ফটকের সামনে উঁপচেপড়া ভিড় করতে দেখা গেছে।

এছাড়া তিনি যোগদানের পর থানায় অভিযোগ করতে আসা অসহায় অভিযোগকারীকে নগদ অর্থ ও ত্রাণ দিয়ে সাহায্য করেছেন। জানাগেছে, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষেরা সরাসরি ওসির সাথে দেখা করতে পারেন এবং তাদের সমস্যার কথা মন খুলে ওসি সাহেবকে জানাতে পারেন। দেখা গেছে থানা ভবন সংস্কার, বাউন্ডারীর প্রচীরের পাশদিয়ে থানার ভিতরের চতুর্দিকে চওড়া ঢালাই রাস্তা নির্মাণ, থানা চত্বরে ফুলের বাগান, সজ্বির বাগান লাগিয়ে সৌন্দযর্য বৃদ্ধি, গোলঘরটি টাইলস বসিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা, প্রাচীর সংস্কার, থানার ভিতরের পুকুর নালা পরিষ্কার করে পুকুরে মাছ চাষ করা, থানা ভবনের ব্যারাকে পর্যাপ্ত লাইট ব্যবস্থা, গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ, ওয়াইফাই সংযোগ ও গোটা থানা এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা ও তার আপ্রাণ চেষ্টায় থানায় একটি নতুন গাড়িসহ নানামুখি উন্নয়নমূলক কাজ করে তিনি ইতিমধ্যে সকলের নজর কেড়েছেন।

এছাড়া প্রথম ধাপে করোনা কালীন সময় নিজের জীবন বাজি রেখে থানা এলাকায় জন সচেতনাতা মূলক কর্মকান্ড, বিদেশ ও ইটভাটা থেকে ফেরা শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করণ, করোনা ভাইরাসের ঘরবন্দি মানুষদের খাদ্য সরবরাহ, মাস্ক বিতরণ, করোনায় মৃত ব্যক্তিদের লাশ দাফন, করোনার হাত থেকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছেন।

প্রত্যক্ষ দেখা গেছে, উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর চন্দ্র শেখর হত্যার ২৪ ঘন্টার ভিতরে তথ্য উদঘাটন করে আসামীকে আটক, কুল‍্যার ডাকাতি হওয়ার এক দিনের মধ্যে তথ্য উদঘাটন করে আসামী আটক করা, বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারের চায়না বাংলা শোরুম থেকে চুরি হওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে আসামী আটক করাসহ ক্যান্সার আক্রান্ত নাছিমা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এবং তাকে চিকিৎসার জন্য ফান্ড তৈরি করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও আম্পান মোকাবেলায় জন সচেতনাতা মূলক কর্মকান্ডে বিশেষ ভূমিকা রেখে আধুনিক ও মডেল থানা গড়ার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাস্তবায়নে করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। চুরি, ডাকাতি ছিনতাই প্রতিরোধে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় বিভিন্ন মেন সড়কের মোড়ে বসিয়েছেন পাহাড়া। যার ফলে অপরাধ প্রবনতা অনেকাংশে কমে এসেছে।

ইতিমধ্যে তিনি অপরাধ দমন, চুরি ডাকাতি প্রতিরোধ এবং মাদক উদ্ধারেও বেশ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে চলমান লকডাউন কার্যকর এবং আশাশুনি থানার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনসাধারণকে সচেতন করাসহ করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ করে তিনি এলাকায় করোনা যোদ্ধা হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে খ্যাতি পেয়েছেন।

উপজেলার একাধিক সচেতন মহলের বক্তব্য (ওসি) গোলাম কবির একজন সদালাপী ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ যেকোন তথ্য নিতে ফোন করলে তিনি কোন রকম বিরক্ত বোধ না করেই মন খুলে কথা বলেন। থানার সকল এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল বৃন্দ ওসি’র আচার-আচরণে ভিষণ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন গোলাম কবির স্যার খুব ভালো মানুষ। আমাদের নিজের ছোট ভাইয়ের মত যত্ন করেন আবার শাসনও করেন। তিনি খুব দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্ব পালন করছে।

অপরদিকে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকেই (ওসি) গোলাম কবির পুলিশ সুপারের সকল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছেন তিনি। পাশাপাশি জনসাধারণকে করোনা থেকে বাচঁতে সচেতন মুলক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন নিজ উদ্যোগে। মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে বাচঁতে সাধারণ মানুষ যেন লকডাউন মেনে ঘরে থাকেন সেই লক্ষ্যে (ওসি) গোলাম কবির এর নেতৃত্বে থানার অফিসার বৃন্দরা প্রতিনিয়তই মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য