এরদোয়ান বললেন, ‘আকাশে তাকাও, চাঁদ দেখ’

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি স্থানে সম্প্রতি রহস্যময় কিছু ধাতব স্তম্ভের আবির্ভাব ঘটে। পরে সেগুলো উধাও-ও হয়ে যায়। এসব স্তম্ভ পরিচিত মনোলিথ হিসেবে। আর গত সপ্তাহে সেই মনোলিথের দেখা মিলে দক্ষিণপূর্ব তুরস্কের একটি অঞ্চলে। কয়েকদিন পর আবার সেটি উধাও-ও হয়ে যায়।

তুরস্কের সানলিউরফা সিটি সেন্টার থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গত শুক্রবার এই ধাতব স্তম্ভের দেখা মিলে। তিন মিটার (৯ দশমিক ৮ ফুট) লম্বা এবং এক মিটার (৩ দশমিক ২ ফুট) প্রস্থের এই ধাতব স্তম্ভের দেখা মিলার পরই অনেক কৌতূহলী মানুষ স্তম্ভটি দেখতে যান। ওই মনোলিথে প্রচীন তুর্কি শব্দ ব্যবহার করে কিছু লিখা ছিল বলে জানায় তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজিন্সি।

আনাদুলু জানিয়েছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান রহস্যময় ধাতব স্তম্ভের লেখাগুলো প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন। একটি অনুষ্ঠানে তিনি ওই লেখাগুলো নিয়ে মন্তব্যও করেছেন। দেশটির রাজধানী আঙ্কারায় ‘নতুন স্পেস প্রোগ্রাম’ উন্মোচন অনুষ্ঠানে এরদোয়ান প্রাচীন তুর্কি শব্দ দিয়ে ওই লেখাগুলোর অর্থ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আকাশের দিকে তাকাও, চাঁদ দেখ।’ তিনি আরো বলেন, আমি এটির সঙ্গে ১০ বছরের জন্য তুরস্কের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির উদ্বোধন করছি।

দক্ষিণপূর্ব তুরস্কের যে জায়গায় এই মনোলিথটির পাওয়া যায়; সেই জায়গার মালিক ফুয়াত ডেমিরডি। তিনি জানিয়েছেন, এই মনোলথকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জমিতে পুঁতে রেখেছেন। কি কারণে রেখেছেন তিনি জানেন না। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি এই মনোলিথকে আর দেখতে পাননি। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে আনাদুলু জানিয়েছে, প্রথমে যে জায়গায় মনোলিথ দেখা গিয়েছিল; সেই জায়গায় মনোলথ নেই। এটি অদৃশ্য হয়ে গেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে দু’টি মনোলিথ অবির্ভাবের পর কয়েকটি গ্রুপ এটিকে নিজেদের বলে দাবি করে। ওই গ্রুপগুলোর মধ্যে ছিল চারজনের একটি দল। তাদের দাবি, তারা নিজেরা একটি মনোলিথ তৈরি করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘অ্যা পিস অব গেরিলা আর্ট’র অংশ হিসেবে তারা এটি তৈরি করেছিলেন। তবে অন্যান্য মনোলিথগুলোর মূল উৎস হতে পারে শিল্প কিংবা অতিপ্রাকৃত কোনো তত্ত্ব।

নিউইয়র্ক টাইমের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এগুলো তৈরি করা যথেষ্ট সহজ। ইচ্ছাশক্তি ও বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা এগুলো তৈরি করতে পারেন।

সূত্র: আনাদুলু এজিন্সি, নিউইয়র্ক টাইম।

মন্তব্য

মন্তব্য