ফুলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব সাকিল আহম্মেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় : কর্তৃপক্ষ নীরব

স্টাফ রিপোর্টার : ফুলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব সাকিল আহম্মেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় : কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকায়। সারাদেশে দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চিরুনী অভিযান চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করছেন। তারপরেও থেমে নেই কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের দূর্নীতির প্রতিযোগিতা।

দূর্নীতি ও অনিয়মের কালো মেঘ খুলনার কয়েকটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপর পড়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ফুলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এ ভূমি অফিসের নায়েব গাজী সাকিল আহম্মেদ একটানা প্রায় ১১ বছর খুঁটি গেড়ে রয়েছে ফুলতলাতে। নামমাত্র বদলি হলেও ঘুরে ফিরে আবারও দেখা যায় ফুলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েবের চেয়ারে। তাঁর বিরুদ্ধে সীমাহীন অভিযোগের পাহাড় জমে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বরং বহুল তবিয়তে নানা অনিয়ম করেও বীরদর্পে রয়েছেন এই নায়েব।

তথ্যমতে, ২০০৬ সালে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা বা সহকারি নায়েব হিসেবে যোগদান করেন গাজী সাকিল আহম্মেদ। চাকরি জীবনের ১৪ বছর পার হতে না হতেই খুলনার বানরগাতি সিদ্দিকিয়া মহল্লায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িতে হরেক রকম বিদেশী আসবাবপত্র রয়েছে। বাড়ির দেওয়ালে প্রতিটি টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে যা ব্যায় বহুল। একজন ১৭ গ্রেডের কর্মচারির পক্ষে এতবড় বিলাশবহুল বাড়ি বৈধ টাকায় নির্মাণ করা অসম্ভব। এছাড়া খুলনার বিল ডাকাতিয়া মৌজায় নিজের নামে এবং স্ত্রী ও শালীর নামে মোটা দাগে জমি রয়েছে।

তথ্যমতে আরো জানা যায়, সাকিল কোন সম্পত্তি ক্রয় করতে গেলে তাঁর বেশিরভাগ স্ত্রী ও শালির নামে ক্রয় করেন। যাতে সহজেই আয়কর বা দুদকের চোখ এড়িয়ে যাওয়া যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ফুলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক পদে ৩ জন কর্মচারি রয়েছে। তারপরেও তাদেরকে কোন কাজে না লাগিয়ে বহিরাগত অজিয়ার নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে সকল গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ করিয়ে থাকেন নায়েব সাকিল আহমেদ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভূমি অফিসের অভ্যান্তরে নায়েব সাকিলের একান্ত কর্মচারি হিসেবে কাজ করেন অজিয়ার। সরকারি আরও ফাইল , খাস জমির বিভিন্ন ফাইল অজিয়ার নিজেই দেখভাল করেন। যেকোন মূহুর্তে পুরাতন জীর্ণশীর্ণ সরকারি ফাইলের কাগজ বিনষ্ট বা বেহাত হওয়ার সম্ভনা রয়েছে এই কথিত ভূমি অফিসের কর্মচারি অজিয়ারের মাধ্যমে। এখানেই শেষ নয় নায়েব সাকিল আহম্মেদ এর অনিয়মের সাতকাহন।

অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ফুলতলার দক্ষিনডিহি আনোয়ারুল ইসলামের ক্রয়কৃত ১৮ শতক জমি, যার দাগ নং-৯৯৬,১০০৪, এস খতিয়ান-৩২৬, ৪নং দক্ষিনডিহি মৌজার খাজনা দিতে গেলে ফুলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব সাকিল আহমেদ মূল খাজনার টাকার পরিমান থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। এছাড়া ওই একই দাগ নম্বরে মিউটিশেন করার কথা বললে ২০,০০০/= (বিশ হাজার) টাকা চান ওই নায়েব।

সূত্রে আরো জানা যায়, অতিরিক্ত টাকা না দেওয়াতে সাকিল আহম্মেদ এক পর্যায় আনোয়ারুলকে অফিস থেকে বের করে দেন। এ বিষয় কথা হয় ভুক্তভোগি আনোয়ারুল ইসলাম চঞ্চল (৪৩), পিতা-মৃত আবুল কালাম আজাদ, সাং-যুগ্নীপাশা, থানা-ফুলতলা, জেলা-খুলনার সাথে। তিনি বলেন, আমার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রথমে এসি ল্যান্ড স্যারকে জানাই। তবে ওনার কাছ থেকে কোন সুরহা না পেয়ে আমি খুলনা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট অভিযোগ করতে বাধ্য হই।

ফুলতলায় সৈয়দপুর ট্রাস্টের নাউদারী মৌজা, জেল নং ১৫ ও এসএ দাগ নং ৫৬১ তে মোট ৭০ শতক জমি কয়েকযুগ ধরে অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন একটি মহল। তবে সাম্প্রতিক সৈয়দপুর ট্রাস্টের ওই ৭০ শতাংশ জমির অন্যতম কথিত মালিক শহিদুল ইসলাম খান সেনা সদস্য তমজিদ হোসেনের কাছে ০.০৭৮৫৭৫ একর জমি বিক্রয় করে। একে তো অবৈধ মালিক শহিদুল, তার উপর সৈয়দপুর ট্রাস্টের সম্পত্তি বিক্রয় করেছেন ।

সেনা সদস্য তমজিদের নামপত্তনের কাগজে দেখা যায় ফুলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহাকারী কর্মকর্তা (নায়েব) গাজী সাকিল আহম্মেদ খতিয়ানের প্রস্তাবনা করেছেন। সবকিছু জেনে শুনে ও ঠান্ডা মাথায় নায়েব সাকিল বিশেষ সুবিধা নিয়ে তমজিদকে নাম পত্তন করিয়ে দিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু তমজিদের বেলায় নয়, বেশকিছু সরকারি খাস জমির দাখিলা কেটে দিয়েছেন নায়েব সাকিল এমন তথ্য দিয়েছেন স্থানীয়রা। নায়েব সাকিলের অনিয়ম নতুন কিছুই নয়। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে অনিয়মের পাহাড় সমান অভিযোগ। জেলা প্রশাসক, দূর্নীতি দমন কমিশন সহ বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত অভিযোগ ইতিমধ্যে দিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

এর আগেও খুলনার স্থানীয় পত্রিকায় সাকিল আহম্মেদের অনিয়মের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ শুধু তদন্ত করেই যায়,কোন প্রকার দৃশ্যামান ব্যবস্থা নায়েব সাকিলের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত গ্রহণ করেনি বলে জানান স্থানীরা। তবে সাকিলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে আরো অনিয়মের তথ্য এমন মন্তব্য সচেতন মহলের।

কথা হয় খুলনা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জিয়াউর রহমানের সাথে । তিনি জানান, নাউদারি মৌজার সৈয়দপুর ট্রাস্টের হাল জরিপের রেকর্ড বাতিল করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সাকিল আহম্মেদের বিষয় জানতে চাইলে জিয়াউর রহমান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগামী প্রতিবেদনে নায়েব সাকিলের আরো কিছু অনিয়মের সুরতাহাল রিপোর্ট আসছে (চলবে)।

মন্তব্য

মন্তব্য