ফুলতলায় উপজেলা ঘাট মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মো: মাসুদ রানা ভূইয়া, ফুলতলা (খুলনা) থেকে : ফুলতলায় উপজেলা ঘাট মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। খুলনার ফুলতলায় উপজেলা ঘাট মালিক সমিতির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৭ জানুয়ারী রবিবার সন্ধ্যা ৬ টায় ফুলতলা বাজারস্থ ঘাট মালিক সমিতির কার্যালয়ে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফুলতলা উপজেলা ঘাট মালিক সমিতির সভাপতি আহসানুল হক লড্ডন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা উপজেলা ঘাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস সনজিৎ বসু, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার জসিম উদ্দিন সহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে- ঘাট মালিক সমিতির সদস্যবৃন্দ ফুলতলা উপজেলার ভৈরব নদীর তীরে দীর্ঘদিন যাবত সার, কয়লা, সিমেন্ট, পাথর, গম, ভুট্টা, চালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য লোড আনলোডের ব্যবসা করে আসছে। যা পোর্ট এ্যাক্ট ১৯০৮ ও পোর্ট রুলস্ ১৯৬৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারার নওয়াপাড়া নদীবন্দর সীমানা বর্হিভূত এলাকা। এসব পণ‍্য লঞ্চ, স্টিমার, কার্গো, ট্রাক ইত্যাদি পরিবহন যোগে আনা নেওয়া করা হয়। এই লোড আনলোড কাজের সাথে ফুলতলাসহ আশেপাশের এলাকার প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের রুটি রুজি জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২২ ডিসেম্বর ২০২০ ইং তারিখে অভয়নগর নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ফুলতলা উপজেলার ঘাট ব্যবসায়ীদের মালামাল উঠানামার কাজে ব্যবহৃত জেটি উচ্ছেদের লক্ষ্যে যে চিঠি প্রদান করা হয়। সেই চিঠির অনুলিপি অভয়নগর নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যশোর জেলা প্রশাসক, যশোর পুলিশ সুপারসহ যশোর জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু চিঠিটির অনুলিপি খুলনা জেলা প্রশাসক, ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রদান করা হয়নি কেন তা প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ফুলতলা উপজেলায় যে সকল ঘাট রয়েছে এ সকল ঘাট হতে জেটি উচ্ছেদ না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে আরো বলা হয়, এমতাবস্থায় নওয়াপাড়া নদী বন্দর (অভয়নগর, যশোর) কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক(বওপ) মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়া উচ্চ আদালতের রায়কে অপব্যাখ্যা করে আমাদের ফুলতলা উপজেলা ঘাট ব্যবসায়ীদের মালামালের উঠানামার কাজে ব্যবহৃত জেটি উচ্ছেদের নামান্তরে চিঠি প্রদান করেন। চিঠিতে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যশোর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, যশোর অভয়নগরের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট করা হলেও খুলনা জেলা প্রশাসক কিংবা ফুলতলা উপজেলার কোনো কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট করা হয়নি।

এমতাবস্থায় বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে বর্তমানে ইরি চাষের মৌসুম ও ইটের ভাটার উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে জেটি উচ্ছেদের নামে সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি চাল, গম, ভূট্টা, ডাল, চিনি, লবণ ইত্যাদি ও ধান উৎপাদনের নিয়ামক সার, বীজ, কীটনাশক ও ইট উৎপাদনের কাঁচামাল কয়লাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি উঠানামায় বাধাগ্রস্থ করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এইরূপ দায়িত্বহীন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করলে ইরি চাষে সার, বীজ, কীটনাশকের মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হবে। নৌপরিবহন ও সড়ক পরিবহন ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে। হাজার হাজার শ্রমজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। যার ফলশ্রুতিতে হরতাল, ধর্মঘট, বিক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি দেখা দিতে পারে।

তিনি আরোও বলেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ের সহিত জড়িত কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন ঘাট মালিক সমিতি, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন, হ‍্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন, বণিক সমিতির সাথে আলোচনা না করিয়া উচ্চ আদালতের রায়কে অপব্যাখ্যা করে আমাদের ফুলতলা থানা, উপজেলা ও খুলনা জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উক্ত বিষয়ে কিছু না জানিয়ে সংযুক্ত চিঠিগুলো প্রেরণ করিয়াছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসক্লাব ফুলতলার সভাপতি তাপস বিশ্বাস, দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিনের সম্পাদক-প্রকাশক মো: সুমন সরদার, ফুলতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গৌর হরি দাস, সাংবাদিক মনির, সাংবাদিক মামুন মোল্যা, মাসুদ রানা ভূঁইয়া, হাদিউজ্জামান প্রমূখ।

মন্তব্য

মন্তব্য