কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় :মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি

জাহেদুল ইসলাম:
বিশ্বে মহামারী করোনাভাইরাসের আবহাওয়া বিরূপ থাকলেও বিজয় দিবসের ছুটিতে প্রতিবারের মতো লাখো পর্যটকে মুখর ছিলো পর্যটন নগরী কক্সবাজার। করোনা উপেক্ষা করে দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদভারে এবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সৈকত, অলিগলি ও পর্যটন স্পটগুলো।
সমুদ্র সৈকতসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের কোলাহলে নতুন করে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে। তবে অধিকাংশ ভাঙ্গা রাস্তাঘাটে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক যানজট। একদিকে যানজট, অপরদিকে মিলছে না যানবাহন সাথে করোনা তো আছেই!
তবুও খালি নেই চার শতাধিক হোটেলের কোনো কক্ষ! বিজয় দিবসের ছুটিতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে কোথাও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে হয়রানির অভিযোগ। পাশাপাশি করোনায় স্ব্যস্থবিধি মানার কথা থাকলেও অধিকাংশ হোটেলে মানছে না বলে আসছে অভিযোগ।
ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনায় বেশ জমজমাট থাকবে কক্সবাজার। খবর নিয়ে জানা গেছে, শহরের চার শতাধিক হোটেলের প্রায় কক্ষ কয়েকভাগে আগাম বুকড হয়ে গেছে।
এদিকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের কোন জাহাজেই সিট মিলছে না। সব জাহাজের টিকেট অগ্রীম বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতি বছর বিজয় দিবসের ছুটির মাধ্যমে নতুন বছরের প্রথম দশদিন পর্যটকের ভিড়ে ডুবে যায় কক্সবাজার। এবছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমণের ভয় নিয়েও সতর্ক-অসতর্ক অবস্থায় বিপুলসংখ্যক পর্যটক ছুটে এসেছেন পৃথিবীর দীর্ঘতম এই সৈকতে।
পাশাপাশি সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়ানগর, সোনাদিয়া, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ পর্যটন এলাকাগুলো বিপুল পর্যটক সমাগমে যেন পর্যটনে সুদিন ফিরেছে। কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেট, বৌদ্ধ মন্দির ও রামুর বৌদ্ধ মন্দিরেও পর্যটক আনাগোনা প্রচুর। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বিজয় দিবসের ছুটিতে হোটেল, গেস্ট হাউজ ও কটেজ পর্যটকে ভরে গেছে।
পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এর আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের জাহাজে টিকেট সঙ্কট রয়েছে। এতদিন ভ্রমণপিপাসু লোকজন বের হতে পারেননি করোনাসহ নানা কারণে। এখন প্রতিদিন যাত্রী ও পর্যটকরা টিকেটের জন্য ভিড় করছেন।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম রেজা জানান, এ মাসের শুরু থেকে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। হোটেল মোটেলে যেন ঠাঁই নেই অবস্থা! সেন্টমার্টিনগামি জাহাজ সমূহের টিকেটও আগাম বুকিং হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আশা করেন, এ মাসে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসবেন। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা এক সাংবাদিক দম্পতি জানান, গত দু’বছর আসা হয়নি। তার উপর এবছর সারা পৃথিবীর উপর করোনার একটি মহা সংকট বয়ে যাচ্ছে সব মিলিয়ে নিজেদের একটু সময় দিতে কক্সবাজার আসা । দেখলাম ভিড়ের মাঝে পর্যটকরা কক্সবাজারে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার না হন সে জন্য সাদা পোশাকধারি পুলিশ ও সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশ বেশ সক্রিয় রয়েছে। এটি ভালো হয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, বিজয় দিবসের ছুটিতে চার শতাধিক হোটেল, গেস্ট হাউজ ও কটেজ পর্যটকে ভরে গেছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস ভরপুর থাকবে পর্যটকে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিজয় দিবসের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামে কক্সবাজার সৈকতে। সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত লাখো পর্যটকের উপস্থিতি দেখার মত। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য

মন্তব্য