জর্ডানে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহাণ বিজয় দিবস উদযাপন

মো: খোকন মিয়া, জর্ডান থেকে : জর্ডানে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহাণ বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। আজ ১৬ ডিসেম্বর বুধবার জর্ডান আম্মানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ৫০তম বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়।

মহাণ বিজয় দিবসের শুরুতেই বৃষ্টিস্নাত সকালে জর্ডানস্থ বাংলাদেশী দূতাবাস প্রাঙ্গনে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দূতাবাসের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাবা নাহিদা সোবহান। এসময় দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও জর্ডানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডান সরকার কর্তৃক আরোপিত COVID19 জনিত বিধিনিষেধ প্রতিপালন এবং নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাস প্রাঙ্গনে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাবা নাহিদা সোবহান সহ প্রবাসী বাংলাদেশী প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তারা বীর শহীদদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তাঁরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতার জন্য তাঁর আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাবা নাহিদা সোবহান তাঁর বক্তব্যে জর্ডানের সকল বাংলাদেশিকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনির্মাণে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া বক্তব্যে তিনি জর্ডান সরকার কর্তৃক আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং স্থানীয় আইন কানুন মেনে চলার অনুরোধ জানান।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে মান্যবর রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, আমাদের জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্র যাত্রাকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান তুলে ধরেন। বক্তব্য শেষে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- দূতাবাসের প্রথম সচিব মনিরুজ্জামান, প্রথম সচিব মোঃ বশির, প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বশির, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জর্ডান শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কহিনুর রহমান প্রমূখ। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সব শেষে জাতির পিতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করে দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য

মন্তব্য