পীরগাছায় কৃষি প্রণোদনা তালিকার ৭০ ভাগই ভূয়া : বিক্রি হচ্ছে বাজারে, হতাশ ক্ষতিগ্রস্থরা

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর থেকে : পীরগাছায় কৃষি প্রণোদনা তালিকার ৭০ ভাগই ভূয়া : বিক্রি হচ্ছে বাজারে, হতাশ ক্ষতিগ্রস্থরা। রংপুরের পীরগাছায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ বিতরনের নামে চলছে তুঘলকি কান্ড! প্রকৃত কৃষকরা পাচ্ছেনা এসব সার ও বীজ। দেয়া হচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দলীয় লোকজনকে।

এ তালিকায় আছেন- চাকুরিজীবি, সার ও বীজ বিক্রেতা ও বিত্তবানরা। যাদের ৭০ ভাগই কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। সরকারি এসব সার ও বীজ বিতরনের নামে বিক্রি করা হচ্ছে কৃষি অফিস চত্ত¡র এবং স্থানীয় বাজারে। ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে যোগসাজসে করে এ তালিকা করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। এছাড়াও নিম্ন মানের এসব বীজ নিয়ে শংকা প্রকাশ করছে প্রকৃত কৃষকরা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করছেন বেশ কিছু কৃষক। তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আহবান জানান।

জানা গেছে, বেশ কয়েক বার বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রবি শস্যে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার কৃষি অধিদপ্তর থেকে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৭শ ১০জন কৃষককে বোরো, গম, ভুট্টা, সূর্যমুখী, চীনা বাদাম, পেয়াজ. রসুন, খেসারী, টমেটো, মরিচ ও মুগ ডালের বীজ বিতরনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এসব ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা তৈরি করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। এ তালিকায় ঠাই পান চাকুরিজীবি, সার ও বীজ বিক্রেতা, রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ও কিছু সুযোগ-সন্ধানী ব্যক্তি। যাদের নিজের জমি আছে, কিন্তু চাষাবাদ করেন না এমন ব্যক্তিও রয়েছে তালিকায়।

কৃষকরা অভিযোগ করে বলছেন, যাদের এ তালিকায় নাম আছে তারা কৃষি প্রণোদনার সার ও বীজ তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এদের মধ্যে ৩০ ভাগ কৃষক থাকলেও ৭০ ভাগই ভুয়া। ফলে এ উপজেলায় ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসুচী।

উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের কৃষক জয়নাল আবেদীন, ছাওলার মজিবর রহমান, পারুলের নিতাই চন্দ্র, কৈকুড়ীর আবুল হাসেম, কান্দির নজরুল ইসলাম বলেন, বন্যায় আমাদের ক্ষতি হয়েছে। বেশির ভাগ মানুষের আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কারো শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু আমরা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পিছনে ঘুরেও সার ও বীজ পেলাম না। অনন্তরাম গ্রামের কৃষক সামাদ মিয়া বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে চাষাবাদ করছি। কিন্তু এখনো উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে দেখিনি। তারা তো মাঠে থাকেন না! আরামের চাকুরি বলে কথা!

মন্তব্য

মন্তব্য