এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা আনিছের দুর্দশায় দিন কাটছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা আনিছের দুর্দশায় দিন কাটছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও (সদর উপজেলা) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন একসময়ের তরুণ ছাত্র নেতা মোঃ আনিছুর রহমান আনিছ (৪৫) ১৯৯৬ ইং সালের ১৫ ইং ফেব্রুয়ারীর প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনে সবসময় রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতেন সাবেক এই ছাত্র নেতা।

মোঃ আনিছুর রহমান আনিছ (৪৫) সাংবাদিকদের জানান ১৯৯৬ ইং সালের ১৫ ইং ফেব্রুয়ারীর প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনে যা এক সময় অসহযোগ আন্দোলনে রুপ দিতে হয়। সেই কঠিন দুঃসময়ের দিন আমি নিজের জীবনের মায়া-না করে, নিজের ভবিষ্যত চিন্তা না করে, সেদিন আমিও আমার সহযোদ্ধা রংপুর কোতয়ালী থানা ছাত্রলীগ প্রান পন চেষ্টা চালিয়ে আন্দোলনকে গতিশীল রেখে ছিলাম।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ইংসালে যখন অসহযোগ আন্দোলন চলে রংপুরে মাটিতে তখন সামরিক, আধা-সামরিক, পুলিশ ও দলীয় কেডার দিয়ে সকল ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও নির্মম নির্যাতন চালিয়ে আমাদেরকে নিবৃত্ত করতে চেয়েছিল। সেই সময় আমাদের মধ্যে অনেকেই জীবনের ভয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। তখন আমাদের কোতয়ালী থানা শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি আখতারুজ্জামান লিটু সহ অনেকেরই যোগাযোগ না পেয়ে আমি উক্ত কমিটির সিনিয়র সহ – সভাপতি হিসাবে সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সেলিমকে দিয়ে আমার সভাপতিত্বে কোতয়ালী থানা শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের সংগঠিত করে আন্দোলন পরিচালনার জন্য একটি বর্ধিত সভা করি।

উক্ত সভায় রংপুর জেলা কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সভা অনুষ্ঠিত করি এবং সেখানে সভাপতিত্ব করি। উক্ত বর্ধিত সভায় আন্দোলন পরিচালনার জন্য আমাকে কোতয়ালী থানা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয় এবং আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন পূর্বক সে সময় বেগম খালেদা জিয়ার পতন হওয়া পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আশা পর্যন্ত আমি উক্ত দায়িত্বে বহাল থাকি।

আনিছ (৪৫) বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ১৯৯৪ ইং সালে উত্তরবঙ্গ সফরে যান তখন আমি রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক” ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলাম এবং সেখানে বিভিন্ন ছাত্র অধিকার আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সব সময় অগ্রণী ভুমিকা পালনের জন্য আমি উক্ত কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রীর কাছে এবং কলেজ শিক্ষক/শিক্ষিকা সহ কলেজের অধ্যক্ষ আ: কুদ্দুস বিশ্বাস স্যার সহ সকলকে নিয়ে বিএনপি ও জামাত হটাও আন্দোলনকে বেগবান করি।

জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন রংপুর সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন তখন কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রের পক্ষে অধ্যক্ষ সাহেবের মনোনয়নে রংপুর জেলা ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সফর সংগী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম এবং রংপুর জেলার তথা কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ বিদ্যালয়ের নানাবিধ সমস্যা তুলে ধরেছিলাম।

মোঃ আনিছুর রহমান আনিছ (৪৫) বলেন, ১৯৮৭ইং সালে রংপুর সদর উপজেলার ২নং ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি ও ১৯৯৩ সালে রংপুর কোতয়ালী থানা ছাত্রলীগ কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসাবে ও রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলাম। বতর্মানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এর কার্যকরী সদস্য পদে আছি।

আনিছুর রহমান আনিছ (৪৫) ১৯৮৭ইং সালে নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বাবার হাত ধরে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। আনিছের বাবা ছিলেন একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, একজন সহ-মুক্তিযোদ্ধা, (কিন্ত মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রাপ্ত নন)।

আনিস বলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সকল আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। হারিকেন জ্বালিয়ে রাতের আঁধারে পড়ায়/ মহল্লায় উঠান বৈঠক করেছিলেন। বাবার একটি ৩ ব্র্যান্ড রেডিও /ক্যাসেট ট্রেপ রেকর্ডার) ছিল বাবা যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সহ সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড খবর সকলের কাছে পৌছাতেন। এসব করতে গিয়ে বাবাকে জীবনের অনেক ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছিল।

বাবা মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে কাজ করছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন আস্থানায় পৌঁছানো, গোপন সংবাদ সংগ্রহ করা, খাদ্য সরবরাহ করা সহ সব ধরনের কাজে সহযোগিতা করতেন। এসব করতে গিয়ে রাজাকারের হাতে কয়েকবার ধরা পড়েন এবং ভাগ্য জোড়ে বেঁচে যান। বাবা তার মৃত্যুর অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে বুকে লালন করে রেখেছিলেন।

আমার বাবার চার সন্তান। তিন ভাই এক বোন। ভাই বোনদের মধ্যে আমি ২য়। বড় ভাই গোলাম ফারুক হোসেন আলতাফ ১৯৮৬ইং সালে এস. এস. সি. বিজ্ঞান বিভাগে ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হন, সে ১৯৯২ইং সালে তার বয়স তখন প্রায় ২৬ বছর। সে সময় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রংপুর সদর উপজেলাধীন ২নং হরিদেবপুর ইউনিয়ন শাখা কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরের কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৯২ইং সাল হইতে ১৯৯৭ইংসাল পর্যন্ত পরপর দু কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

অথচ আজ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার পরও আমার বড় ভাই ঢাকা শহরে অসুস্থ শরীর নিয়ে শহরে রিক্সা চালিয়ে স্ত্রী ও ৫ সন্তান নিয়ে একটি ছোট একরুমের মধ্যে কঠিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আমার জন্মদাত্রী মা, প্রতি জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রতিদিন নফল নামাজ পড়ে দোয়া করতেন এবং ভোটের আগের দিন ও নফল রোজ রেখে আল্লাহর কাছে নৌকার বিজয় কামনা করতেন।

কিন্তু সেই মা আজ সেই দল ক্ষমতায় থেকেও তার জন্য কোন সাহায্য সহযোগিতা নেই। জননেত্রীর দেয়া অনেক সাহায্যের মধ্যে ১০ টাকায় ১ কেজি চাল কর্মসূচির সুযোগ থেকেও আমরা সহ আমার মা বঞ্চিত। আমার মা বয়সের ভারে এবং রোগ শোগে স্বাভাবিক চলা ফেরা করতে পারেন না। তাই তিনি গ্রামে একটি ছোট কুঠিরে ছোট ভাইকে নিয়ে অতি কষ্টে এলাকায় মানুষের সামান্য সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আমার ছোট বোন দাখিল পাশ করার পর আমার মামারা বোনকে একজন কামীল পাশ মাওলানার কাছে বিবাহ দেন কিন্তু তার দুর্ভাগ্য যে, সে এরকম একজন মাওলানা স্বামী পাওয়ার পরও তার ভাগ্যে সুখ ছিল না। কেননা তার স্বামী কামিলপাশ হওয়া সত্ত্বেও তার ভিতরে ছিল না অন্যসত্ত্বা তাই তার লোভের কাছে আমার বোনের সংসার জীবন টিকলো না।

অথচ এই বোনটিও এক সময় আমাদের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য ছিলেন। আমার বোন এখন ঢাকা শহরে বাসা বাড়িতে কাজ করে অতি কষ্টে স্বামী সন্তানহারা একটি দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। লালসার কাছে নতীস্বীকার না করে একটা আদর্শ ও নীতিকে বুকে লালন করে অনেক অবদান রাখার চেষ্টা করেছি। তাই আজ বড় দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হয় যে, পড়েরটা না ভেবে নিজেরটা ভাবতাম হয়তো আজ অনেক ভালো থাকতাম।

আনিছ আরও বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে, আমি গ্রাজুয়েট হওয়া স্বত্বেও সরকারি চাকরির অনেক আবেদন করেছিলাম কিন্তু দুর্ভাগ্য বসত আমি লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার পরও কোথাও আমার চাকুরী হয় নাই। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, স্থানীয় ও উচ্চ পর্যায়ের বিএনপি ও জামায়াতের গভীর ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে আজ আমি সর্বস্ব হারিয়ে এমনকি ভিটেমাটিসহ ঘর-বাড়ি সব হারিয়ে ঢাকা শহরে রিক্সা চালিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তান সহ একটি ছোট রুম ভাড়া করে সেখানে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছি। আমার স্ত্রী একটি পোশাক কারখানায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসাবে কাজ করে।

আমার দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে ছেলেটি বড়, সে ৮ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে এবং মেয়েটি ছোট সে ৫ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। কিন্তু বতর্মানে করোনা ভাইরাসের কারণে আমার ছেলে মেয়ের লেখাপড়া ধংসের মুখে আমার সকল প্রকার আয় রোজগার কমে যাওয়া দুর্দশায় জীবন কাটছে আমার।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন। তিনি যেন আমার বিষয়টি দৃষ্টি দেয়, বতর্মানে আমার অবস্থা খুবই করুণ তাই আমি প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

মন্তব্য

মন্তব্য