সন্দ্বীপ স্কুল ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে একাধীকবার ধর্ষনের অভিযোগ কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মারুপের বিরুদ্ধে 

বাদল রায় স্বাধীন //
সন্দ্বীপ জেবেন্নুর সুলতান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের ছেলে কর্তৃক  এক ১০ শ্রেনীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়  স্কুল ম্যানেজিং কমিটির প্রভাবশালী সদস্য আব্দুর রবের কলেজ পড়ুয়া ছেলে মারুফ আবরার এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ধর্ষিতা ছাত্রীর ভাষ্যমতে গত ডিসেম্বর মাসে ঐ ছেলের সাথে রং নাম্বারে ফোনের সুত্র ধরে আলাপ হয়। এরপর সে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং তাকে বিয়ে করবে বলে পবিত্র কোরআন শরীফ ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করে। এর পর বার বার তার সাথে দৈহিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিন্তু মেয়েটি রাজি না হওয়ায় গত ১১ ডিসেম্বর ছেলেটি মেয়ের স্কুলের দোতলায় তার বাবার সু-সজ্জিত একটি কক্ষে আসতে বলে।মেয়েটি তার মতলব বুঝতে পেরে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ছেলেটি মেয়েটিকে কিছু না করার অঙ্গীকার করে  বলে আমি তোমাকে শুধু দেখবো আর তোমার জন্য কিছু গিফট এনেছি সেটা নিয়ে যাও। তখন মেয়েটি তার সরল মনোভাব নিয়ে তার কক্ষে ঢুকলে বিদ্যালয়ের দারোয়ান দিদার বাইর থেকে তালাবদ্ধ করে ফেলে। এরপর ছেলেটি জোর করে মেয়ের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়। পালাক্রমে কয়েকবার ধর্ষন করে।
বিদ্যালয়ের বিল্ডিং কন্সট্রাকশনের ঠিকাদার মোঃ জাফর জানান তিনিনিে কাজের যন্ত্রপাতি নিতে গিয়ে দোতলায় উঠলে জানালা দিয়ে  ছেলেটিকে মেয়েটির উপর জোর প্রয়োগ করতে দেখে ফেলেন।এবং গোপনে ভিডিও ধারন করেন। ছেলেটি তা টের পেয়ে দ্রুত বেড়িয়ে এসে বলে আপনি এ ব্যাপারে কাউকে বললে আমি মোবাইলে স্টেটাস দিয়ে আত্মহত্যা করবো। তার জন্য দায়ী থাকবেন আপনি। কিন্তু আপনি আমাকে সুযোগ দিলে আমি আমার বাবাকে রাজি করিয়ে মেয়েটিকে বিয়ে করবো। তখন তিনি ঘটনা আপাতত সামাল দিতে তাকে ছেড়ে দেন।
এরপর ঘটনাটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ছেলিটির পিতা মুছাপুর মান্দিরগো বাড়ির ঔষধ ব্যবসায়ী আব্দুর রব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার জন্য মেয়ের পরিবারকে হুমকি ধামকি সহ ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।
এবং গত ৪ মাসেও এর কোন বিচার পাননি বলে জানান মেয়ের বাবা মোঃ মাঈন উদ্দীন। তিনি বলেন ঘটনার আকস্মিকতায় মেয়েটি নিরুপায় হয়ে থানায় গিয়েছিলো। আমিও  জানতে পেরে থানায় গিয়ে মামলা করেছি। কিন্তু মামলার কোন কপি আমাদের দেয়া হয়নি এবং তার কোন অগ্রগতি নেই। আমরা গরীব বলে কেউ আমাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেনা।
মেয়েটি জানান আমার সম্ভ্রম হারিয়ে ছেলেটি আমার সামাজিক মর্যদা ক্ষুন্ন করেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে না করলে আমার আত্মহত্যা ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।
এ ব্যাপারে ছেলের পিতা আব্দুর রবের সাথে  01830075804 এই নাম্বারে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি জানার পরে ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছি সে শারীরিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছে সে বলেছে মোবাইলে শুধু কথা হয়েছে। এবং তাকে শাসন করার পর  থেকে সে পলাতক। কিন্তু আমি আপোষ মিমাংসায় রাজি আছি।ছেলে অপরাধ করলে তার বিচার হবে। তবে আমার ছেলের বয়স মাত্র একুশে পড়েছে আমি আমার অন্য ছেলে মেয়েকে রেখে তাকে বিয়ে করানো সম্ভব নয়। তাদের বিয়ের প্রস্তাব মেনে নেওয়া যায়না।
উক্ত স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির আরেক সদস্য আনোয়ারর হোসেন জানান। ঘটনা একেবারে সত্য এবং গতকাল মেয়েটির ডিএনএ টেস্টের জন্য সন্দ্বীপ থানার এসআই ও মামলার আইও মোঃ অালীম সেম্পল সংগ্রহ করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিহার রন্জন নাথ বলেন এই রুমটি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ফোরকান সাহেবের বাড়ি ভেঙ্গে নতুন  বিল্ডিং তোলার প্রয়োজনে ওনাকে দেওয়া হয়েছিলো। ওনি চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ আসলে এই রুমে থাকতেন আর চট্টগ্রাম চলে যাওয়ার সময় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুর রব( মারুপের বাবা)  কে দেয়া হতো। এখন কিভাবে চাবি তার হাতে গেলো এবং এমন ঘটনা ঘটালো তা আমার জানা নেই। আমি কয়েকদিন আগে বিষয়টি জেনেছি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলিম জানান ভিকটিমের মেডিক্যাল রিপোর্ট ও ডিএনএ সেম্পল নেওয়া হয়েছে। আসামী পলাতক রয়েছে। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুত সফল হবো।

মন্তব্য

মন্তব্য