“শেখ হাসিনার বাংলাদেশ,ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” এই স্লোগান থাকা সত্বেও বান্দরবানের দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতি থেমে নেই ।


ডেভিড সাহা, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি //

“শেখ হাসিনার বাংলাদেশ,ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” এ প্রতিপাদ্য বিষয়ের আলোকে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে সারাদেশে স্বল্প মূল্যে খাদ্য শস্য বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী । খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি চাল দেবে সরকার। মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর প্রতি বছরের এই ৫ মাস এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এই পাঁচ মাস দেশের গরিব মানুষের কষ্ট হয়, এ সময় বাজারে চালের দাম বাড়তির দিকে থাকে, তাই এই পাঁচমাস তাদেরকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে সাড়ে ৭ লাখ টন চাল বিতরণ করবে। এ কর্মসূচির নামকরণ করা হয়েছে-‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’। এর জন্য একটা স্লোগান ঠিক করা হয়েছে। তা হল-‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ- ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক উপজেলায় ইউএনও’র নেতৃত্ব কমিটি আছে। কমিটিতে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রয়েছেন। প্রতি ৫০০ পরিবারের কাছে চাল বিতরণের জন্য একজন ডিলার হবেন। নীতিমালা অনুযায়ী কমিটি কার্ড বণ্টন করবে, ডিলার নিয়োগ করবে।
এই নিয়ম অনুসরন করে, বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ৩নং রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের ডিলার সত্যব্রত চক্রবর্তী দোকনের নাম সত্য এন্ড সন্স খাদ্য বান্দব কর্মসূচির চাল গত ৪ বছর যাবত বিভিন্ন মহলকে ব্যবস্থা করে চাল আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই দুর্নীতি দেখার কেউ নেই।
জননেত্রী শেখ হাসিনার মহান উদ্যোগকে একশ্রেণী অসাধু ব্যবসায়ি দিনের পর দিন আত্মসাৎ করে যাচ্ছে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য, আশ্রয়,উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। এটাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তাবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা সারাদেশে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। গত ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চলমান আছে। পরিতাপের বিষয় হলো, বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ৩নং রেমাক্রীং প্রাংসা ইউনিয়ন পরিষদের অধিনে নিয়োজিত ডিলার সত্যব্রত চক্রবর্তী, সত্য এন্ড সন্স (সার্বিক পরিচালক-প্রনলাল চক্রবর্তী)।
৪৭৩ জন হত-দরিদ্রের তালিকা থাকলেও তাদের মধ্যে ৮০% লোকই তা জানে না। কিন্তু, ৪৭৩ জনের জন্যই ১৪ টন ১৯০ কেজি চাল উত্তোলন করেন। যা উপকারভোগীরা ৮০% লোকই পায় না। প্রতি মাসে ৪৭,৩৩০=১৪ টন ১৯০ কেজি (চাল) হারে প্রতি বছরে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ ধাপে বিতরণকৃত চালের পরিমাণ দাঁড়ায় =১,৪১,৯০৫=৭০ টন ৯৫০ কেজি।গত ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ২০ ধাপে উত্তোলন করেছে, ১৪,১৯,০২০= ২৮৩ টন ৮০০ কেজি। যা থেকে ৮০% হত-দরিদ্র বঞ্চিত হয়ে আসছে। বর্তমান সরকারের বাজার মূল্যে ২৮ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা সরকারকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং সরকারি কমিশন ৪ বছরে ২৮,৩৮,০০২= ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬ শত টাকা ভোগ করে ডিলার আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যায়। যাহা খোলা বাজারের ২০ মূল্য ধরে হিসেব করলে ৫৬ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা।
এই কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবেন যে পরিবারের দায়িত্বে নারী আছেন, নারী প্রধান পরিবার, যে পরিবারে প্রধান বিধবা নারী বা প্রতিবন্ধী নারী তিনিই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার পাবেন।কিন্তু সরকারের নীতিমালা ভঙ্গ করে উক্ত ইউনিয়নের সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নামের তালিকা পাওয়া যায়।যা অতি দুঃখজনক ও জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা মনে করেন সাধারন মানুষ ।এলাকার হত দরিদ্র মানুষের দাবী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও খাদ্য মন্ত্রানালয় এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে ন্যায় বিচারের দাবী সদয় দৃষ্টি আর্কষন করছি।

সংবাদ চলমান……………

মন্তব্য

মন্তব্য