তিতাসে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-২

মোঃ জুয়েল রানা, বিশেষ প্রতিনিধি //
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় শাহরিয়ার মোল্লা (৩২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে টার দিকে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহরিয়ার একই গ্রামের মৃত নজুমদ্দিন মোল্লা (এসডু’র) ছেলে। এ ঘটনায় জরিত সন্দেহে রাতেই ২জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহরিয়ার তার এক বন্দুর সাথে সন্ধা আনুমানিক সাড়ে ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কালিপুর সড়কে হাটতে যায় এবং বাড়ি ফেরার পথে প্রবাসী সুমন মিয়ার গরুর ফার্মের সামনে আসলে কিছু লোক গরু চোর বলে সুর-চিৎকার করলে একপর্যায়ে লোকজন শাহরিয়ারকে আটক করে গরু চোর বলে অপবাদ দিয়ে এলোপাতারী পিটিয়ে ও কুপিয়ে এবং হাত-পা ভেঙ্গে গাছের সাথে বেধে রাখে। এমন সময় একই গ্রামের আলী আশাদ মোল্লা(৫০) দেখে দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে খবর দিলে শাহরিয়ার বড় ভাই ও ভাবিরা ঘটনা স্থলে গেলে শাহরিয়ার বাচার জন্য তার ভাইদের কাছে খুব আকুতি করে তাকে ডাক্তারের নিকট নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু তাকে ডাক্তারের নিকট নিতে দেয়নি। ছোট ভাইয়ের এমন অবস্থা দেখে বড় ভাই গোলাম মোস্তফা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে শাহরিয়ারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে এবং পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে রাতেই দু’জনকে আটক করেছে। পরে আহত শাহরিয়ারকে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এছাড়াও আরো জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ দক্ষিণ পাড়ার সুমন গংদের সাথে মোল্লা মোল্লা বাড়ীর (শাহরিয়ার) লোকদের বিরোধ বিরোধ চলছে। নিহত শাহরিয়ার যুবলীগ কর্মী পরিচয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি করতো। এবং তার নামে চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছেও বলে এলাকাবাসী জানান। এদিকে তার এমন অত্যাচারের প্রতিবাদে গত ৮ মাস আগে তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছে এলাকাবাসী।নিহতের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা কান্ড, তারা আমার ভাইয়ের নামে মিথ্যা অভিযোগে মানববন্ধন করেছে। এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।এদিকে আটকৃত আদিলুজ্জামান এর স্ত্রী বলেন আমার স্বামী দাউদকান্দি উপজেলার বড়কোটা স্কুল এন্ড কলেজে চাকরি করেন, ঘটনার সময় সে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসতে ছিলো। বাড়িতে আসার পর তাকেই পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। অপর আটক শামীমের মা শাহিদা হোসেন বলেন আমার ছেলে শামীম একটি ফার্মেসীতে চাকরী করে সন্ধায় বাড়িতে আসে মারামারির খবর পেয়ে দেখতে গিয়ে ছিল। এবিষয়ে তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আহসানুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহরিয়ারকে উদ্ধার করি এবং ঘটনায় জরিত সন্দেহে দক্ষিণ পাড়ার মৃত লতিফ মেম্বারের ছেলে আদিলুজ্জামান ও মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে শামীমকে রাতেই আটক করে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে আটককৃত ২জন সহ ২৯জনকে আসামী করে এবং আরো ১০/১২জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে পাঠিয়েছি এবং আটককৃত দুই জনকেও কোর্টে প্রেরন করি।

মন্তব্য

মন্তব্য