পটুয়াখালীতে ঝিমিয়ে পরা ঈদের আয়োজনে কর্ম ব্যাস্তাতায় কামারপাড়া! 

মু. জিল্লুর রহমান জুয়েল, পটুয়াখালী।
পটুয়াখালী ও বিভিন্ন উপজেলায় কোরবানী ঈদের আয়জনে কর্মব্যস্ততায় কামার পাড়ার প্রাচীনতম
ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্পের শ্রমীকরা।
পটুয়াখালী ও তার আসপাশ উপজেলা ঘুরে এবং স্থানীয় প্রতিনিধির অনুসন্ধানে জানা অজানার আর কর্মব্যস্ততায় পবিত্র ঈদুল আজহাকে পুরোপরি সহযোগীতা করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন অগ্নিধারক কারিগররা।
প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, কারিগরদের মজুরি বৃদ্ধি, তৈরি পণ্যসামগ্রী বিক্রয় মুল্য কম, কয়লার মূল্য বৃদ্ধি ও উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কম থাকার কারণে কালের বিবর্তনে কামার শিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসলেও  ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গলাচিপা-দশমিনা, রাঙ্গাবালী, মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন বিভিন্ন ইউনিয়নের কামাররা দেশি প্রযুক্তির দা, কুরাল, খুন্তা, সাবল, ছুরি, হাসিয়া ও কাটারি বানাতে ও পুরাতন গুলি মেরামত এমনকি দারদিতে অনেকেই বেশ উৎসব মুখর ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।হাট-বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ইতোমধ্যে গ্রামের লোকজন গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মাংস তৈরির কাজের জন্য কামারীদের কাছে প্রয়োজনীয় ধারালো দেশি তৈরি চাকু, বটি, কাটারি ও ছুরি তৈরির আগাম অর্ডার দেওয়া শুরু করায় কামার পাড়াগুলোতে টুং টুং শব্দে এখন মুখরিত। আধুনিকতার উৎকর্ষ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে নানাবিধ সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার বছরের গ্রাম-বাংলার মানুষের প্রিয় শিল্পটি।এক সময় গলাচিপা উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে প্রায় দেড়শতাধিক কর্মকার পরিবার থাকলেও তাদের তৈরি পণ্যসামগ্রী প্রযুক্তির ছোঁয়ার কাছে টিকে থাকতে না পারায় বেশকিছু পরিবার তাদের পৈত্রিক পেশা ছেড়ে পরিবারের অভাব -অনাটন ও চাহিদার তাগিদে লাভজনক অন্য পেশায় চলে গেছে। এদিকে বিভিন্ন হাট-বাজারে ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কামার কারিগররা সারা বছরের তুলনায় বর্তমানে রাতদিন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখানকার কামারদের নিপুন হাতে তৈরি বটি, ছুরি, কাটারি, দা, বেকি, কুঠার, খুন্তা ও লাঙ্গলের ফলাসহ বিভিন্ন ধরনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় লৌহজাত দ্রব্য তৈরি করেন।সরেজমিনে গলাচিপা সদরের মনরঞ্জন কর্মকার জানান, আমার বাপ-দাদার মূল পেশা ছিল এটা। তারা গত হওয়ার পর ওই সূত্র ধরে আমরা দুই ভাই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই পেশা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলাম কি রকম বিক্রি ও ক্রেতা পাচ্ছেন, তখন জানান, ক্রেতা বহুত আসে কিন্তু বিক্রি আগের মত নেই। এদিকে রতন কর্মকার বলেন, বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছি। এই পেশাতেই আমাদের সংসার। কেন না এই পেশা ছেড়ে অন্য কোন ভাল পেশায় যাব এই রকম আর্থিক সংগতি আমার নেই। তবে সরকারি ভাবে এবং এনজিওর মাধ্যমে আমাদের কামারদেরকে সুদ মুক্ত ঋণ দিলে পাইকারি মূল্যে উপকরণ কিনতে পারলে অবশ্যই এই দেশীয় কামার শিল্প পূর্বের ন্যায় ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা সরকার ও প্রশাসন থেকে শুরু করে সকলের কাছে আমাদের এই পেশা ধরে রাখার জন্য তাদের আন্তুরিক সহযোগিতা করার আস্বাস দিয়েছেন উপজেলার আইন সৃঙ্খলা থানা প্রশাসন।

মন্তব্য

মন্তব্য