২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৬৮৩, ঢাকায় ৯৯২, অন্যান্য জেলায় ৬৯১ জন

অনলাইন ডেস্ক: মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু রোগীরা এবার পড়েছেন শনাক্তকরণ বিপাকে। জ্বর আসলেও ডেঙ্গু হয়েছে কি না তা জানার উপায় নেই তাদের। রাজধানীর মগবাজার, মালিবাগ এলাকার অনেকগুলো হাসপাতাল কিটস সংকটে শুক্রবার সকাল থেকেই ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষাটি বন্ধ রেখেছে। এই অবস্থায় ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৬শ ৮৩ জনে। এদের মধ্যে শুধু রাজধানীতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৯শ ৯২ জন। আর সারাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ শ ৯১ জনে।

সরেজমিনে রাজধানীর মগবাজার ওয়ারল্যাস গেইটে কমিউনিটি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ওখানকার অভ্যর্থনা ডেস্কের সামনে বড় করে একটি কাগজে লেখা রয়েছে এখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা হয় না। জানতে চাইলে হাসপাতালের কর্তব্যরত কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার বলেন, বৃহস্পতিবারেই আমাদের সরবরাহে থাকা ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণের জন্য কিটসের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই আমরা ডেঙ্গু পরীক্ষা আর করছি না। এমনকি নতুন কোনো রোগীও ভর্তি নিচ্ছি না। একই কথা বলেন মগবাজারের রাশমনো হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক অন্তু জামান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আমাদের এখানে নতুন করে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটস আসছে না। তাই শুক্রবার সকাল থেকে আমরা ডেঙ্গু পরীক্ষা করছি না।

হাসপাতালের করিডোরের দেয়ালে বড় করে একটি কাগজে লিখে রাখা হয়েছে এখানে ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা হচ্ছে না। হলিফ্যামিলি, আদ্-দ্বীন, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল সব জায়গায় একই অবস্থা। তাই নতুন করে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের কী করণীয় বুঝতে পারছেন না। হলিফ্যামিলিতে একদিনের জ্বর নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসা সঞ্জয় জানান, এখন পর্যন্ত ৪ টা হাসপাতাল ঘুরেছি। কারও কাছেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করার কিটস নেই বলছে। এ অবস্থায় কোথায় যাবো কী করবো বুঝতে পারছি না।
তবে কিটস থাকলেও নতুন করে কোনো রোগীকে ভর্তি করার মতো সিট খালি নেই রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালের।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা.আশীষ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের আউটডোর, ওয়ার্ড, কেবিন সব জায়গায় রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। কোথাও কোনো জায়গা খালি নেই। তবে আমরা ২৪ ঘণ্টা ডেঙ্গু পরীক্ষা এখন পর্যন্ত চালু রেখেছি। জানি না কিটসের সরবরাহ কতক্ষণ থাকবে। তবে আমরা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবো।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ডেঙ্গুর মহামারীতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ২৫৩ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬ হাজার ৫৮২ জন। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে রাজধানী একদিন মৃতনগরী হিসেবে পরিণত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র:অমাদের সময়.কম

মন্তব্য

মন্তব্য