রাবির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১০টা থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে সাংবাদিকতা বিভাগের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এসময় দ্রæত ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়ে সব বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ¯েøাগান দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে বিভাগটির ¯œাতক শ্রেণির চারটি বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়। চতুর্থ বর্ষ ছাড়া সবগুলো বর্ষের পরীক্ষাই শেষ হয় ডিসেম্বরে। চতুর্থ বর্ষের (বর্তমানে মাস্টার্স) পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ জানুয়ারি। গত ১৭ জুলাই প্রথম বর্ষের (বর্তমান দ্বিতীয় বর্ষ) ফল প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত অন্যান্য বর্ষের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য বলা আছে।

আন্দোলনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান ঘটনাস্থলে যান। বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য ফলাফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে। তোমরা আন্দোলন স্থগিত করো। সাত দিনের মধ্যে তোমাদের ফলাফল দেয়া হবে।’ তবে প্রক্টরের আশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে।

জানতে চাইলে বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রেজাল্ট প্রাপ্তি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের অধিকার। সান্ধ্য কোর্সে এক মাসের মধ্যে রেজাল্ট দেয়া হলেও আমাদের সাত মাসেও রেজাল্ট প্রকাশিত হয়না। তাই আমরা রেজাল্টের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।’

পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভাগের সভাপতি স্যার আমাদের আশ্বাস দেয়ার প্রেক্ষিত আজ (বুধবার) আন্দোলন স্থগিত করেছি। কিন্তু আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল চারটার মধ্যে যেসব শিক্ষক এখনো খাতার নাম্বার বিভাগে জমা দেননি, তারা যদি জমা না দেন তাহলে আমরা আবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো এবং রেজাল্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’ আর রেজাল্ট না পাওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাকও দেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক শিক্ষক অকারণেই তার কোর্সের পরীক্ষার ফলাফল দিতে দেরি করছেন। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে আমাদের। সময়মতো ফলাফল না হওয়াতে আমরা শিক্ষার্থীরা অনেক সুযোগ হারিয়ে ফেলছি। এতে করে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলে জরুরি মিটিং ডাকেন বিভাগের সভাপতি আ-আল মামুন। মিটিং শেষে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান তারা।
ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে বিভাগে যান সভাপতি। তারপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষক এখনো খাতার নাম্বার জমা দেননি, তাদেরকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নম্বরপত্র জমা দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া অনুরোধ করেন। সেসব শিক্ষক নম্বরপত্র জমা দিলে অতি দ্রæত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।’

মন্তব্য

মন্তব্য