নবীনগরের অসহায় কহিনুরের অস্ত্রোপচার শনিবার 

মোঃ জুয়েল রানা,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন পিঠে রড বয়ে নিয়ে চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করা অসহায় কুহিনুরের অস্ত্রোপচার কাল। শনিবার (১৩জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার অস্ত্রোপচার শুরু হবে। এর আগে কহিনুরকে সকাল ৯টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হবে।অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার জন্য সকলের নিকট দোয়া চাইছেন কুহিনুর।ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের মেয়ে কুহিনুর আর্থিক দৈন্যদশায় চিকিৎসার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করে। তার এই অসহায়র খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সুস্থ্যভাবে বেচেঁ থাকার স্বপ্ন দেখালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম। পরে ঢাকার ডু-সামথিং ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কুহিনুরকে ঢাকায় পাঠিয়ে চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলেও পরে ঐখান থেকে রেফার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শুক্রবার (১২ জুলাই) পর্যন্ত সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শনিবার অস্ত্রোপচার তারিখ নির্ধারন করা হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কহিনুরের পিতা মো.কবির হোসেন ভিক্ষে করে স্ত্রী এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন যাপন করছিল। ছেলে মেয়ে ছোট অবস্থায় বাবা-মা দুজনই মারা যায়। সেই থেকে একমাত্র ছাট ভাইকে নিয়ে পরের বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে বেচেঁ থাকার সংগ্রাম করছিল কহিনুর।একদিন তার শরীরে ব্যাথা অনুভব করে সেই ব্যাথা থেকে আস্তে আস্তে তার পিঠ ‘গুছা’ হয়ে যায়। তার ‘গুছা’ পিঠে প্রচন্ডরকম ব্যাথায় যখন সে কাতর, তখন এলাকাবাসি কিছু সাহায্য তুলে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠায়। চিকিৎসক তার অপারেশন করে পিঠ সোজা করার জন্য পিঠে ষ্টিলের রড ঢুকিয়ে চিকিৎসাপত্র দিয়ে দেয়। তার পর অর্থাভাবে পরবর্তী চিকিৎসা করা হয় নাই আর।
এক পর্যায়ে চিকিৎসার অভাবে পিঠে বসানো রড বের হয়ে যায়। সেই বের হয়ে যাওয়া রড নিয়েই আজ দীর্ঘ পাচঁ বছর পরের বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার এই মানবেতর জীবনের খবর পত্র পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম তাঁর নিজ উদ্যোগে তার ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম জানান, আমার পরিচিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মেডিকেল অফিসার কাজী আয়েশা সিদ্দিকার সাথে বিষয়টি শেয়ার করি। তাদের ডাক্তারদের একটি গ্রুপ ‘ডু-সামথিং ফাউন্ডেশনের ব্যানারে সামাজের গরীব অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকেন। এ বিষয়ে অনুরোধ করায় তারা কহিনুরের সকল প্রকার চিকিৎসার দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে।
এ দিকে পত্র-পত্রিকায় খবর পেয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন একই জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলার ভুরভুরিয়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম মাসুম। যিনি ইতিমধ্যে গরীব, অসহায়, রাস্তায় পড়ে থাকা অবহেলিত ক্ষুধার্ত, সুবিধা-বঞ্চিত মানুষদের মাঝে খাবার, ফল-মূল ও অর্থ দিয়ে নিরলস ভাবে মানবতার কাজ করে সাড়া জাগিয়েছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য