মন্ত্রী-এমপি’কেও পাত্তা দেন না…… কে এই শফিউল আলম ?


নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা : প্রাথমিক ও গনশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন ও স্থানীয় এমপি নাসরিন জাহান রতনা’র নির্দেশ উপেক্ষা করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন জামাতপন্থী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম। চার বছরের অধিক সময় ধরে থাকা শিক্ষা অফিসার পাত্তা দেন না মন্ত্রী -এম পি’কেও। বরিশাল জেলার বাকের গঞ্জের সেই উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নিযে এখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।মন্ত্রী-এমপিকে অমান্যকারী এই শিক্ষা অফিসারের খুঁটির  জোর কোথায় — এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বাকেরগঞ্জসহ সারা বরিশালের অলিতে-গলিতে। বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত উক্ত শিক্ষা অফিসারের দ্রুত বদলীসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বরাবরে ডিও লেটার প্রদান করেছেন ১২৪, বরিশাল -৬ আসনের সাংসদ নাসরিন জাহান রতনা। স্থানীয় উক্ত এমপি শিক্ষা অফিসারকে জামাতের লোক  আখ্যা দিয়ে  তার বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি উলে­খ করেছেন তাঁর ডিও’তে। অপরদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রাথমিক ও গনশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বরাবর উক্ত শিক্ষা অফিসার শফিউল আলমের অনিয়ম-দুর্নীতির শাস্তির দাবীতে পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন জনৈক  শিক্ষক। লিখিত অভিযোগে তিনি শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় এমপি নাসরীন জাহান রতনা প্রাথমিক ও গনশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও প্রাথমিক শিক্ষা  অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর বাকেরগঞ্জ উপজেলা  প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনিয়ম-দুর্নীতি ও জামাত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ডিও লেটার প্রদান করেছেন। ডিও লেটারে এমপি তাঁর অনিয়মতান্ত্রিক বদলি বানিজ্য, ঘুষ-দুর্নীতি, প্রকল্পের টাকা লুটপাট ও জামাত সংশ্লিষ্টতার মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয় এমপি অবিলম্বে উক্ত শিক্ষা অফিসারকে বদলী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন। সরকার বিরোধী প্রচার-প্রচারণা ও জামাতের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকার পরেও কোন শক্তির বলে তিনি শিক্ষা অফিসারের মতো সরকারী গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকেন এ প্রশ্ন করেছেন স্থানীয় এমপি।
গত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের প্রেক্ষিতে উক্ত জামাত পন্থী শিক্ষা অফিসারকে নির্বাচনী কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখা হয়েছিলো।
উক্ত শিক্ষা অফিসার ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রæয়ারী বাকেরগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অনিয়মতান্ত্রিক বদলী বানিজ্য, ঘুষ, দুর্নীতি, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা লুটপাট ও জামাতের সাথে সংশ্লিষ্টতা রেখে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। একই কর্মস্থলে বেআইনীভাবে চার বছরের অধিক সময় তিনি কর্মরত রয়েছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে।
জানা যায়, ৭০ নম্বর বিহারী জনতা নতুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত  পাঁচ জন শিক্ষকের মধ্যে তিন জনকে  বদলী করেছেন বড় ধরনের সুবিধা গ্রহন করে। ফলে ঐ স্কুলে দুইজন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা-কার্যক্রম পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ৫৪ নম্বর সারাবাত জাহান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার জন শিক্ষকের মধ্যে তৃতীয় শিক্ষক রাজিয়া বেগমকে ৩৭ নম্বর স্মারকে তারিখ ২০-০৩-২০১৯ অবৈধভাবে বদলী করেছেন।
উপজেলার মধ্য ভরপাশা নুতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক  মিজানুর রহমান জুয়েল। তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার শফিউল আলমের ভায়রা ভাই। তাকে ২০১৮ সালে সমাপনী পরীক্ষায় সহকারী হল সুপার করে আউলিয়াপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রদান করেন শিক্ষা অফিসার। গনিত পরীক্ষার দিন উক্ত শিক্ষা অফিসার শফিউল আলমের সাথে সমন্বয় করে মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বিভিন্ন জায়গায় প্রেরন করেন।বিষয়টি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহনাজ বেগম শিল্পী জানতে পেরে নিষেধ করেন। কিন্তু শিক্ষা অফিসারের সাহসে তিনি শাহনাজ বেগমের নির্দেশ অমান্য করে প্রশ্ন বিতরনের মত গর্হিত কাজ অব্যাহত রাখেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর মিজানুর রহমান জুয়েলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল লতিফ মজুমদার তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উজিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলামকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।তদন্ত কমিটি উক্ত মিজানুর রহমান জুয়েলকে অভিযুক্ত করে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন এবং দুরবর্তী বিদ্যালয়ে বদলীর জন্য সুপারিশ করেন।জেলা শিক্ষা অফিসার লতিফ মজুমদার উক্ত প্রশ্নপত্র বিতরনকারী শিক্ষককে দূরবর্তী স্কুলে  দ্রুত শাস্তিমূলক বদলীর আদেশ দেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম কে। কিন্তু জেলা শিক্ষা অফিসারের সেই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে চলেছেন তিনি।
এরকম অসংখ্য অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্য করে বহাল তবিয়তেই রয়েছেন তিনি।
এসকল বিষয় নিয়ে সঠিক নিয়মে বদলীর জন্য সুপারিশ করলে স্থানীয় এমপি’র কোনো কথায়ই কর্ণপাত করেন না তিনি।
এমনকি প্রাথমিক ও গনশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের নিয়ম মাফিক সুপারিশও অগ্রাহ্য করতে কুন্ঠা বোধ করেননি উক্ত শিক্ষা অফিসার।
জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার লোচনাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ফিরোজ আলম খান একই উপজেলার নন্দপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলীর আবেদন করেন। বদলীজনিত শুন্যপদে বদলীর জন্য প্রাথমিক ও গনশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন এম পি বাকেরগঞ্জের শিক্ষা অফিসারকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। এই সুপারিশ দেখে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন শফিউল আলম। তিনি কোনো মন্ত্রী-টন্ত্রির কথায় বদলী করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় উপ-পরিচালক এস এম ফারুক ও বরিশাল জেলা  প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার  উপজেলা শিক্ষা অফিসার শফিউল আলমকে  লিখেন-” উপজেলা শিক্ষা অফিসার বাকেরগঞ্জ,  মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া যায়।”
কিন্তু তিনি কারোর কথায়ই কর্ণপাত করেননা। ঘুষ ছাড়া তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেননা। মন্ত্রী থেকে শুরু করে যে কেউই সুপারিশ করুক। তিনিই বাকেরগঞ্জের বাপ-মা। কোনো নেতা, কোনে অফিসার ও কোনে মন্ত্রীকেও তিনি থোরাই কেয়ার করেন।বাকেরগঞ্জে প্রাথমিকে বদলীসহ সকল ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত। তিনিই যেনো এই অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রী। এমনটাই মনে করেন তিনি। তিনি নিজেকেএক সময়ের  বড় সাংবাদিক দাবী করে বলেন, ” আমি তো জাতীয় ইংরেজী দৈনিকে কাজ করেছি। তিনি উল্টো সংবাদ কর্মীদের প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন।
প্রাথমিক শিক্ষক নেতাদেরকেও তিনি পাত্তা দেন না। তবে তিনি বিএনপি -জামাত সমর্থিতদের সমীহ করেন।  নিজেকে সদর্পে ডানপন্থী দাবী করেন নির্ভয়ে। জামাত-বিএনপি’র বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিশেষ করে জামাত-শিবিরের গোপন মিটিং এর অর্থের জোগান দেন তিনি।
তবে এত কিছুর পরও তিনি আছেন। বীরদর্পে ঘুষ-দুর্ণীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
শফিউল আলমের এহেন কর্মকান্ডের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফিরোজ আলম মুঠোফোনে নেক্সটনিউজ কে বলেন, ” জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। যেই দূর্ণীতি করুক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।” এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার শফিউল আলমকে জামাত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ” আমি সরকারী চাকুরি করি।”
স্থানীয় এম পি নাসরিন জাহান রতনা তার ডিও লেটারে আপনাকে কেনো  জামাতের লোক বলে উলে­খ করেছেন জিজ্ঞাসা করলে কিছুক্ষন চুপ থেকে  তিনি বলেন ” আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইনা।”

মন্তব্য

মন্তব্য