নিম্ম মানের ইট বালু ,পাথর দিয়ে সড়ক নিমার্ণ …. উদ্ভোধনের আগে ধস


এস এম বেলাল জেলা প্রতিনিধি, লক্ষীপুর //লক্ষীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামে রাস্তা নির্মাণের ১ মাসের মাথায় ধসে গেছে। ফলে রাস্তাটি চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমেই ওই রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ধস নেমে অধিকাংশ স্থানে বিলীন হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে রাস্তাটি। এছাড়াও হেলে গেছে খাল পাড়ে নির্মিত গাইড ওয়াল।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, গেলো ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ সদর উপজেলার টুমচর গ্রামর আইয়ুবআলী পোলের গোড়া নামক স্থান থেকে ঈদ গাঁ বাজার পর্যন্ত ৮১ লাখ ৮৭ হাজার ১শ ১২ টাকা ব্যয়ে ১৩৫০ মিটার রাস্তাটির বরাদ্ধ হয়। ওই বছরের ১৫ আগস্ট কাজটি শেষ করার কথা ছিল। তবে গত জানুয়ারি মাসে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিয়াসাত বাদ্রার্স রাস্তাটি নির্মাণ করেন। পরবর্তী কাজটি শেষ হয় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। যার আইডি নাম্বার- ৪৫১৪৩৫৩২৪।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ রাস্তার নির্মাণে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও ঠিকাদার মো: রিয়াসাত হোসেন বেশি লাভের জন্য নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেন; যার কারণে নির্মাণের প্রায় ১ মাসের মাথায় রাস্তার ধস দেখা দিয়েছে।
টুমচর গ্রামের বাসিন্দা আজাদ হোসেন বলেন, ‘এই গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রাস্তাটি পাকা করার। সরকার রাস্তাটি করার জন্য বরাদ্দ দিলেও ঠিকাদার মানসম্মত সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করেনি। গত সপ্তাহের বৃষ্টিতেই রাস্তার অনেক স্থান ভেঙে গেছে।’
একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাস্তাটি নির্মাণের সময় ঠিকাদারকে অনেকবার বলা হয়েছে, ভালো মানের ইট ব্যবহার করতে, কিন্তু তারা অনেকটা বাতিল ইট ও কংক্রিট ব্যবহার করেছে। এছাড়া, বিটুমিনও ছিল অনেক নিম্নমানের। রাস্তার দুই পাশের পাড়গুলোও বাঁধা হয়নি।’ খালের পাশ দিয়ে ওয়ালগুলো করা হয়েছে খুবই নিম্নমানের।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান মাফুজ বলেন, রাস্তার পাশে মাটি বরাট না করা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারনে রাস্তাটি ধসে পড়েছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার মো: রিয়াসাত হোসেন বলেন, ‘প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩৫০ মিটার। রাস্তা নির্মাণে কোনও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লক্ষীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, কাজের ত্রুটি পরীক্ষা করার জন্য ঠিকাদার থেকে একবছরের জন্য জামানত রাখা হয়। কোনও ত্রুটি থাকলে ঠিকাদার তা সংস্কার করবে। সরেজমিনে গিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ারও আস্বাস দেন তিনি।

মন্তব্য

মন্তব্য