পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ডিএমপির নিরাপত্তা পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক//পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ (আগামী ১৪ এপ্রিল)  বাংলা নববর্ষ উদযাপনে রমনা পার্ক,  সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকায় বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উল্লেখিত স্থানসমূহে লাখো মানুষের সমাগম হবে। পহেলা বৈশাখের পূর্বরাতে ও অনুষ্ঠানের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব স্থানে নানা ধরনের কাজকর্মে নিয়োজিত থাকবেন।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগত জনসাধারণ যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নববর্ষের অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে পারে সে লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে কিছু নিরাপত্তা নিরাপত্তা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগত জনসাধারণ যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নববর্ষের অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে পারে সে লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলা নববর্ষ জাতি-ধর্ম-বর্র্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে পালনের মাধ্যমে বাঙালি ঐতিহ্যকে ধারণ করছে। লক্ষ্য করা গেছে যে, নববর্ষের অনুষ্ঠানে আগত শান্তিপ্রিয় মানুষের পাশাপাশি কিছু দুষ্কৃতকারী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত থাকে। এ ধরনের ছদ্মবেশী অপরাধীদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মানিত নগরবাসী যেন আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উৎসবমূখর পরিবেশে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন এবং উপভোগ করতে পারে সে লক্ষ্যে জনসাধারণের প্রতিপালনের জন্য নিম্নবর্ণিত পরামর্শসমূহ প্রণয়ন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরামর্শ সমূহঃ

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং রবীন্দ্র সরোবরে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ থেকে বিরত থাকুন।

২. ব্যারিকেড, পিকেট ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করুন।

৩. নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ড ব্যাগ, ট্রলি ব্যাগ, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, পটকা, ক্ষতিকারক তরল, ব্লেড, দিয়াশলাই, গ্যাসলাইট ইত্যাদি বহন থেকে বিরত থাকুন।

৪. মুখোশ পরিধান এবং বিজ্ঞাপনী স্টিকার বহন করে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন না।

৫. মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চারুকলা ইনস্টিটিউটের স্বেচ্ছাসেবক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং রোভার স্কাউট সদস্যদের পরামর্শ মেনে চলুন।

৬. সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে অবহিত করুন।

৭. আপনার সঙ্গে থাকা শিশুর পকেটে চিরকুটে আপনার বাসার ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় মোবাইল নম্বর লিখে রাখুন এবং হারিয়ে গেলে সাব-কন্ট্রোলরুমে স্থাপিত ‘লস্ট এন্ড ফাউন্ড সেন্টার’ কিংবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন।

৮. অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগেই ঠিক করে রাখুন ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলে কোথায় পুনরায় মিলিত হবেন।

৯. সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর এবং হাতিরঝিল এলাকা ত্যাগ করুন।

১০. সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য নন, এমন ব্যক্তিগণ ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন না।

১১. সব অনুষ্ঠানস্থলে ধূমপান হতে বিরত থাকুন।

১২. বিকেল ৬টার মধ্যে সব উন্মুক্ত স্থানের অনুষ্ঠান সমাপ্ত করুন।

১৩. ভুভুজেলা (বিশেষ প্রকার বাঁশি) বাজানো, বিক্রয় ও বহন থেকে বিরত থাকুন।

১৪. অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পান্তা-ইলিশ বা অন্য কোনো খাবার গ্রহণের পূর্বে মান পরীক্ষার পাশাপাশি মূল্য সম্পর্কে সতর্ক হোন।

১৫ . কোনো কারণে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকায় স্থাপিত পুলিশ সাব-কন্ট্রোলরুম, কেন্দ্রীয় পুলিশ কন্ট্রোলরুম, রমনা, শাহবাগ, ধানমন্ডি ও হাতিরঝিল থানায় যোগাযোগ করুন।

এছাড়াও যেকোনো ধরনের সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করতেও ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সূত্র:আমাদের সময়

মন্তব্য

মন্তব্য