বন্ধু ফয়সালের প্রতারনার শিকার অপর বন্ধু শফিকুর রহমান প্রকাশ শফি

জসিম উদ্দিন, আকবরশাহ থানা প্রতিনিধি : স্কুল জীবন থেকে মোঃ শফিকুর রহমান ও মোঃ কবির আহম্মদ প্রকাশ ফয়সাল এর বন্ধুত্ব। সুখে দুঃখে একে অপরে পাশে থাকত। এক সময় দুই জনে চিন্তা করে আমাদের হাত খরচের টাকা বাবা-মা থেকে না নিয়ে আমরা নিজে কিছু করা উচিত। তখন তারা দুই জন মিলেমিশে একসাথে একটি মেগজিমা গাড়ি যে কোন ভাবে ক্রয় করার চিন্তা চেতনা মনোভাব সৃষ্টি করে। এবং নিজেদেরকে সাবলম্ভি হবে বলে আশা করে। তারপর তাহারা দুই বন্ধু টাকা যোগার করে  চিন্তার পাশাপাশি অবশেষে ক্রয় করলো মেগজিমা চট্টমেট্রো-ফ ১১-১৯৮৪, যার মূল্য ৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা এতে মোঃ শফিকুর রহমান শেয়ার দেয় ২ লক্ষ টাকা, অপর বন্ধু মোঃ কবির আহম্মদ ফয়সাল শেয়ার দেয় ৫০ হাজার টাকা। বাকি টাকা কিস্তির মাধ্যমে রাজা এন্ড সন্সের শোরুম থেকে ফয়সালের মা নাছিমা আক্তারের নামে গাড়িটি ক্রয় করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ক্রয়ের মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন পূরন হয়। প্রায় বছর না যেতে শফিকুর রহমানের স্বপ্ন স্বপ্নেরমত রহে গেল কারণ মোঃ কবির আহম্মদ ফয়সাল ও তার মা নাছিমা আক্তারসহ গাড়িটি আত্মসাত করার চেষ্টা করে। কারণ গাড়ির সমস্ত দেখাশুনার সংরক্ষনের দায়িত্ব ছিল ফয়সাল ও তার মা নাছিমা আক্তারের। সে সুবাদে গাড়ির দৈন্যদিন ইনকাম ফয়সালের কাছে থাকত। ইনকামের নগদ টাকার লোভে পরে মা ছেলে মিলে শফিকুর রহমানকে ইনকামের টাকার হিসাব আজকে এই খরচ কালকে এই খরচ বলে সব সময় পাশ কাটিয়ে বেড়াত। আর বন্ধু কবির আহম্মদ ফয়সাল ছিল প্রতিবন্ধি তাই শফিকুর রহমানও কিছু বলত না, না বলতে বলতে এসুবাদে ফয়সাল গাড়ির ইনকামের টাকার হিসাব শফিকুর রহমানকে দিতনা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। গত ১০/১২/২০১৯ ইং তারিখ শফিকুর রহমান গাড়ির ইনকাম চাইলে ফয়সাল কিস্তি পরিশোধ করতেছি বলে এবং গাড়ির বিভিন্ন সময় কাজ করাচ্ছি বলে অযুহাত দেখাই বুঝ দিত। এভাবে নানা অযুহাত দেখাত। পরবর্তিতে ফয়সালের মা এর চক্রান্তে ফয়সাল মন খারাপ করে শফিকুর রহমানকে বলে গাড়ি ট্রাফিক পুলিশে নিয়ে গেছে। গাড়ি ছাড়াতে হবে বলে তার কাছ থেকে গাড়ির সকল ডুকোমেন্ট সকল কাগজপত্র এবং ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিঃ এর একাউন্ট নং-১৬৫১০১০১৬৫৪৭৩ এর  ৫(পাঁচ) টি চেক নিয়ে যায়। কিছু দিন পর শফিকুর রহমান গাড়ির ইনকাম চাইলে আবারও অযুহাত দেখাই এক পর্যায় দুই বন্ধুর মধ্যে বাক-বিতন্ড সৃষ্টি হয় এরপর কবির আহম্মদ ফয়সাল তার মা নাছিমা বেগমের কথাতে চলনা করে তার শেয়ার বিক্রয়ের প্রস্তাব করে শফিকুর রহমানের নিকট, তুমি যদি আমার শেয়ার নিতে পার নাও আমি না হয় বাহিরে বিক্রয় করে দিব। তারপর শফিকুর রহমান বলে আমি নিব। গাড়ি ক্রয় করার সময় কবির আহম্মদ ফয়সাল দিয়েছে ৫০ হাজার টাকা সে দাবী করতেছে শফিকুর রহমানের নিকট ১লক্ষ টাকা।
তারপরও শফিকুর রহমান বলেছে ঠিক আছে আমি তোমাকে ১লক্ষ টাকা দিব কিন্তু তুমি গাড়ীর কাগজ পত্র নিয়ে আস, সে বলেছে আমি পরে দিব। টাকা নিয়ে গিয়ে শফিকুর রহমানকে কাগজ পত্র আর বুঝিয়ে দেয়নি এবার অযুহাত দিল গাড়িটি আমার মায়ের নামে ক্রয় করা তোমাকে কাগজপত্র দেওয়া যাবেনা এবং কাগজপত্রসহ যাবতীয় ডুকোমেন্ট পত্র নাদিয়ে সম্পৃর্ণ লেনদেন সে অস্বীকার করে এবং হুমকি দিয়ে বলে গাড়িও দিবনা টাকা ও দিবনা। বাদ্য হয়ে শফিকুর রহমান গত ১২/০১/২০১৯ ইং তারিখ কবির আহম্মদ ফয়সালারে বিরুদ্ধে স্থানীয় ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে অভিযোগ দায়ের করে। কাউন্সিলর মোর্শেদ আক্তার চৌধুরী ফয়সালকে ডেকে কারণ দর্শাতে বলে। এতে ফয়সাল ক্ষেপে গিয়ে কিসের গাড়ি, কিসের সেইল রিসিট, কিসের গাড়ির ডুকুমেন্ট  বলে হুমকি দিয়ে মামলায় জড়িয়ে দিবে আমি প্রতিবন্ধি আমি যেটা বলবো সমাজের মানুষ সেটা বিশ্বাস করবে এসুবাদে ফয়সাল তাহার মা নাছিমা বেগমের চক্রান্তে শফিকুরের নিকট প্রতারনা করে যে চেকগুলো নিয়ে গেছে তার থেকে ২টি চেকে ৫ লক্ষ টাকা লিখিয়ে টাকার দাবী দাবী করে, না দিলে জানে মেরে পেলবে বা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেবে বলে এবং  টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে মর্মে হুমকি প্রদান করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। কাউন্সিলর মহোদয়কে বিভিন্ন অযুহতে আজ কাল করে সময় ক্ষেপন করতে থাকেন এতে ওয়ার্ড কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বাদীর অভিযোগ খানা মীমাংশা করা সম্ভবপর হয় নাই। এমতাবস্থায় বাদীকে উচ্চ আদালতে আশ্রয় গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে শফিকুরের অভিযোগ খানা নথিভূক্ত করে।
শফিকুর রহমান কাউন্সিলরে পরামর্শ অনুযায়ী গত ২৪/০১/২০১৯ ইং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা হাকিমের আদালত, মহানগর চট্টগ্রাম মিছ মামলা নং- ১১৭/১৯ দায়ের করে।
অত্র মিছ মামলার তদন্ত  দায়বার পায় পাহাড়তলী থানা সিনিঃ সহকারী পুলিশ কমিশনার পংকজ বডুয়া। সে মামলাটি সরজমিনে তদন্ত করে তদন্তের প্রতিবেদন বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা হাকিমের আদালতে প্রেরণ করেন। এতে তদন্তের প্রতিবেদনে লিখা হয়েছে যে মিছ মামলার বাদী বিবাদীগণকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য উভয় পক্ষকে পরামর্শা প্রদান করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন আদালত, চট্টগ্রামে সি আর মামলা নং- ৪১/১৯ পাহাড়তলী থানায় চলমান রহেয়াছে।

মন্তব্য

মন্তব্য