বহুগুণে গুনান্বিত যুগশ্রেষ্ট অনুসরনীয় বিরল ব্যক্তিত্ব আল্লামা হাশেমী (মু.জি.আ.)

রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম ব্যুরো :
হযরত ইমাম সৈয়দ জাফর সাদেক (রাদ্বি.) এর ওফাত বার্ষিকী স্মারণে এবং ইমামে আহলে সুন্নাত, শায়খুল মাশায়েখ, আল্লামা শাহসূফী কাযী মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম হাশেমী মুদ্দাজিল্লুহুল আলী এর ৯১ তম চান্দ্রবার্ষিক খোশরোজ শরীফ (জন্ম দিন) উপলক্ষ্যে মুহিব্বানে রাসূল (দ.) কনফারেন্স আজ ২৩ মার্চ শনিবার বিকেলে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। গাউছিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত মুহিব্বানে রাসূল (দ.) কনফারেন্সে বক্তারা বলেন, মানুষের মনোজগত, কর্ম ও চিন্তাধারাকে যারা নাড়া দিতে পারেন তাঁরাই প্রকৃত ওলী-মনীষী। আল্লামা ইমাম হাশেমী জীবনব্যাপী সাধনা ও কাজের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে দ্বীন, সুন্নিয়ত চর্চা ও মানুষের কল্যাণ। ইমামে গাজী সৈয়দ আজিজুল হক শেরে বাংলার (রহ.) স্থলাভিষিক্ত সুন্নি জমাআতের ইমাম নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই পরিপূর্ণ নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ইমাম হাশেমী মুদ্দাজিল্লুহুল আলী সুন্নি উলামা ছাত্র জনতাকে সুন্নিয়তের পথে প্রতিষ্ঠিত রাখার ক্ষেত্রে প্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছেন। সুন্নিয়তের খেদমত ও মানবসেবার ক্ষেত্রে একজন জীবন্ত কিংবদন্তি আল্লামা ইমাম হাশেমী মুদ্দাজিল্লুল আলী। ইসলামের মূলধারা সুন্নিয়তের প্রচারে অসামান্য অবদান রাখা এবং মানবসেবার ক্ষেত্রে বিরল ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ইমাম হাশেমীকে এযুগে পদক কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করার দাবি জানান বক্তারা। রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্নি ব্যক্তিত্ত্বরা উপেক্ষিত হওয়ায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তারা ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনরতা যুদ্ধে আল্লামা ইমাম হাশেমীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। মুহিব্বানে রাসূল (দ.) কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন ইমামে আহলে সুন্নাত, রাহবারে শরীয়ত ও তরিকত বর্ষীয়াত ব্যক্তিত্ব আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম হাশেমী মুদ্দাজিল্লূহুল আলী। আল্লামা হাশেমী ইসলামি মিশনের চেয়ারম্যান কাযী মুহাম্মদ আবূল ফোরকান হাশেমীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে ইমাম হাশেমীর জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন ও অংশগ্রহন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. বদিউল আলম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, গবেষক ড. মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী, অধ্যক্ষ আল্লামা খায়রুল বশর হক্কানি, আল্লামা নূর মোহাম্মদ আল কাদেরী, জননেতা মাওলানা সোলাইমান চৌধুরী, মাওলানা ইদ্রিছ আনসারী আলকাদেরী, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম নেজামেী, গবেষক-লেখক আল্লামা মুহাম্মদ নুরুল আবছার আলকাদেরী, উপাধ্যক্ষ মাওলানা ছৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, উপাধ্যক্ষ মাওলানা কাযী কামরুল আহছান, মাওলানা হাফেজ কাযী মুহাম্মদ মহিউদ্দীন হাশেমী, গাউছিয়া হাশেমী কমিটি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মুহাম্মদ আলী চৌধুরী, মাওলানা কাযী মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন হাশেমী, মাওলানা সোলাইমান আলকাদেরী, মাওলানা কাযী মুহাম্মদ বাহা উদ্দীন হাশেমী, মুহাম্মদ ফজলুল করিম, মাওলানা গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ, মাওলানা আহমদুল হক, মুহাম্মদ ফারুক চেয়ারম্যান, মুহাম্মদ দিদারুল আলম, মাওলানা এম.এ.মাবুদ, শাহ এমরান বোখারী, মাওলানা ওমর ফারুক আজমী, মাওলানা ইলিয়াছ আজম নূরী, মালানা শহিদুল হোসাইনী, মাওলানা ইয়াছিন হোসাইন হায়দরী। আল্লামা নুর মুহাম্মদ আলকাদেরী বলেন, সুন্নি উলামা ছাত্র জনতার মাথার তাজ ও মুকুট হলেন ইমাম হাশেমী মুদ্দাজিল্লুহুল আলী। বক্তব্য, লেখনী ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুন্নিয়তের অসামান্য খেদমতে নিবেদিত রয়েছেন। তিনি আমাদের মাথার ছায়াস্বরূপ আছেন। ড. মাসুম চৌধুরী বলেন, ভাষা আন্দোলনে ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সুন্নি জনতাকে সংগঠিত করেছিলেন ইমাম হাশেমী মুদ্দাজিল্লুহুল আলী। অথচ দু:খজনক যে, তিনি রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি পাননি। প্রফেসর বদিউল আলম, আল্লামা ইমাম হাশেমী একজন আলোকবর্তিকা। তাঁকে একুশে বা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করতে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী তাঁর বক্তব্যে ইমামে আহলে সুন্নাতের নানা কর্মকীর্তি ও সুন্নিয়ত প্রচারে অসামান্য খেদমতের কথা তুলে ধরেন। সালাত সালাম শেষে দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-কল্যাণ কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম হাশেমী মুদ্দাজিল্লুহুল আলী।

মন্তব্য

মন্তব্য