ফেসবুকই কাল হল কক্সবাজারের রাফিয়ার : অজানা আতংকে পরিবার

 

মো:জাহেদুল ইসলাম(জাহেদ) ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের নানা চ্যালেঞ্জে এখন ঘর বন্দি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কক্সবাজারের রাফিয়া। তারা হলিউড-বলিউডের বিখ্যাত সুন্দরী নায়িকাদের সঙ্গে রাফিয়ার তুলনা করায় পরিবারজুড়ে বিরাজ করছে অজানা আতংক। যার ফলে রাফিয়ার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুক। এ কারণে রাফিয়া এখন স্কুলে যেতে পারে না। পারে না ঝিনুক নিয়ে সৈকতে। রাফিয়ার পরিবার বলছেন, সবাই চিনে ফেলায় রাফিয়াকে নিয়ে সেলফিতে মেতে ওঠে পর্যটরা। রাফিয়া কলাতলির সৈকত প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী এবং সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ঝিরঝিরিপাড়া এলাকার দিনমজুর আবদুল করিমের মেয়ে।

রাফিয়ার চাচা মহিউদ্দিন জানান, কোনো এক পর্যটক রাফিয়ার ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে দিলে সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা ভাইরাল হয়ে যায়। এ কারণে অপহরণ অথবা অজানা কোনো এক ভয়ে দিন পার করছে রাফিয়ার পরিবার। তাই তাকে আপতত ঘরবন্দি থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি রাফিয়া অভাবের কারণে মাত্র ১০ বছর বয়সেই সংসারের ভার কাঁধে তুলে নিয়ে সৈকতের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঝিনুক বিক্রি করে। আর সেই আয় দিয়ে চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি ভাইরাল হওয়ায় রাফিয়ার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুক!

সচেতন মহল বলছেন, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয় রাফিয়ার মায়াবি হাসির ছবি। কেউ একজন রাফিয়ার সেই ছবি ফেসবুকে দেয়ায় সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী রাফিয়াকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে হলিউড-বলিউডের বিখ্যাত সুন্দরী নায়িকাদের। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এসব নায়িকাদের সঙ্গে রাফিয়ার ছবি দিয়ে ফেসবুকে লিখছেন, কে বেশি সুন্দর? কক্সবাজারের ঝিনুক বিক্রেতা রাফিয়া না ইন্ডিয়ার ক্যাটরিনা? অথবা কার হাসি বেশি সুন্দর ইত্যাদি।

রাফিয়ার মা রহিমা বেগম জানান, রাফিয়ার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বেকার ও অসুস্থ থাকায় রাফিয়া প্রতিদিন সৈকতে ঝিনুক বিক্রি করে যা আয় করত তা দিয়ে চলত তাদের সংসার। রাফিয়া গত এক সপ্তাহ যাবত ঝিনুক বিক্রি করতে না পারায় গত দুইদিন ধরে তাদের বাড়িতে চাল, ডাল কিছুই নেই। অভাবের সংসার দিনকে দিন আরও অভাবগ্রস্ত হচ্ছে।

রাফিয়া জানায়, সে প্রতিদিন ঝিনুক বিক্রি করে ৪০০ থেকে ৫০০টাকা আয় করত, অভাবের সংসারের কথা মাথায় রেখে কখনও একটা টাকাও নিজে খরচ করত না। সব টাকাই মায়ের হাতে তুলে দিত। এ টাকা দিয়ে তার স্কুলের খরচ ও সংসারের খরচ চলত।

রাফিয়া আরো বলে, ফেসবুক কি আমি বুঝি না, চিনিও না। তবে সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমাকে আর আমার পরিবারকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। আমি পড়তে চাই। বাবার চিকিৎসা করাতে চাই, সংসার চালাতে চাই। আর এসব করতে গেলে আমাকে আগের মত ঝিনুক বিক্রি করতে সাগরে যেতে হবে। আমি সবার সহযোগিতা চাই।

এ ব্যাপারে রাফিয়ার বাবা আব্দুল্লাহ বলেন, রাফিয়ার আর সৈকতে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি এগিয়ে এসে তার পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করে তবে আমি তাকে স্কুলে পড়তে দেব, নয় তো আমার সাধ্য নেই।

মন্তব্য

মন্তব্য