নারীরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফলতার সঙ্গে এগোচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক:ঢাকা, ০৮ মার্চ- সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবিতে এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। দিন দিন বাড়ছে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা। শুধু সংখ্যাই বাড়ছে না, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো কমান্ডিং পদে আসীন হয়ে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন নারী কর্মকর্তারা। সেনাবাহিনীতে সুসানে গীতি নামের একজন নারী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল পদে আসীন হয়েছেন।

পুলিশ বাহিনীতে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিশনাল আইজি) হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন রৌশন আরা বেগম। র‌্যাবে অধিনায়ক পদেও কাজ করছেন আতিকা ইসলাম। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, এডিশনাল আইজিপি রৌশন আরা বেগম পুলিশ স্টাফ কলেজে রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া এ বাহিনীতে অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (এডিশনাল ডিআইজি) পদে আছেন চারজন। এর মধ্যে রওশন আরা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে, আমেনা বেগম চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এডিশনাল কমিশনার (ক্রাইম), রফফার সুলতানা পুলিশের বিশেষ শাখা এসবিতে এবং আতিকা ইসলাম র‌্যাব-৮ এ অধিনায়ক (সিও) হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া গাজীপুর ও রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার পদে রয়েছেন শামসুন নাহার এবং আসমা সিদ্দিকা মিলি। শামসুন নাহার আগে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন। পরে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ জেলা গাজীপুরের এসপি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে আছেন ৭২ জন নারী। এ ছাড়া এডিশনাল পুলিশ সুপার ১০১ জন, সহকারী পুলিশ সুপার ৯৬ জন, ইন্সপেক্টর ১১২ জন, এসআই ৭৬৭ জন, সার্জেন্ট ৫৫ জন, এএসআই ১০২৬ জন, নায়েক ৯৩ জন, কনস্টেবল পদে ১১ হাজার দুজন কর্মরত আছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, এ প্রতিষ্ঠানটির সদর দফতরসহ প্রতিটি ব্যাটালিয়নে একাধিক নারী কর্মকর্তা আছেন। তাদের মধ্যে একজন আতিকা ইসলাম। যোগাযোগ করা হলে আতিকা ইসলাম বলেন, একটা কাজে সাফল্য পেতে গেলে অনেক সময় দিতে হয়। এ জন্য ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। র‌্যাবের অন্য ব্যাটালিয়নের অধিনায়করা হচ্ছেন পুরুষ সহকর্মী। অপরাধ দমনে প্রতি মাসে তাদের যা অর্জন সমান অর্জন আমাকেও করতে হয়। অন্য একজন অধিনায়ক যেভাবে তার এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করেন ঠিক তেমনি আমাকেও মাদক সন্ত্রাস ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ জানান, সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার চারজন এবং পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পাওয়া আরও একজনসহ মোট পাঁচজন নারী সেনা কর্মকর্তা কমান্ডের দায়িত্বে আছেন। তারা হলেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল সানজিদা হোসেন, সৈয়দা নাজিয়া রায়হান, ফারহানা আফরীন, সারাহ আমির ও জেরিন। এই নারী কর্মকর্তারা এরই মধ্যে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শনে সফল হয়েছেন।

বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান জানান, কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে বিজিবিতে ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ছয়টি নিয়মিত ব্যাচের সঙ্গে মোট ৪৩৮ জন নারী সৈনিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা বিজিবি হাসপাতাল, আইসিপি ও চেকপোস্টগুলোতে অত্যন্ত দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

মন্তব্য

মন্তব্য