‘নদী ভাঙন রক্ষায় মানববন্ধন, নি:স্ব মানুষের কান্না’

মো:ফিরোজ বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আয়তন দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে। তেতুলিয়ার নদীর রাক্ষুসি ভাঙনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে ইউনিয়নের ধানদী, নিমদী, কচুয়া ও বড় ডালিমা গ্রাম। নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে হাজারো মানুষের বসতবাড়ী, হারিয়ে যাচ্ছে একরের পার একর ফসলি জমি। নি:স্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম এই জনপদের মানুষের। বর্ষায় মৌসুমের আগেই অকাল ভাঙনে হুমকির মুখে নাজিরপুর ইউনিয়নের বহু ঘরবাড়ী, মসজিদ মাদ্রাসা, সরকারি পাকা রাস্তা প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এই সর্বনাশা ভাঙন রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনায় গতকাল মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রæয়ারি) উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের হাজারো নারী পুরুষ, স্কুল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী তেতুলিয়ার পাড়ে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে অংশ নেয়া সকলের মুখে হতাশার ছাপ, কেউ ভিটে মাটি হারিয়ে নি:স্ব, কেউ ফসলি জমি হারিয়ে বসেছেন পথে আবার কেউ হারানোয় ভয়ে অতংকিত।
মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন তেতুলিয়া নদী ভাঙন রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক, নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: ইব্রাহিম ফারুক, সদস্য সচিব তালুকদার মো: জাহাঙ্গির।
এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদ সদস্য, বাউফল প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক হারুন আর রশিদ খাঁন ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
নদী ভাঙনের হুমকির মুখে নিমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা: নাসিমা আক্তার বলেন,‘ নদী থেকে আর মাত্র কয়েক হাত দুরে স্কুল ভবনটি। যেকোন সময় স্কুল ভবন নদী গর্ভে চলে যেতে পারে। অত্র বিদ্যালয়ের ২’শ শিক্ষার্থীর জিবন হুমকির মুখে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি অতিশিঘ্রই নদী ভাঙন রক্ষায় পদক্ষেপ না নেয় তাহলে এই স্কুলটি রক্ষা করা যাবে না।
নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও নদী ভাঙন রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ইব্রাহিম ফারুক বলেন,‘ইতিমধ্যে তেতুলিয়া নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষের বসতবাড়ী। হুমকির মুখে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা। ভিটা-মাটি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেছে এখানকার খেটে খাওয়া মানুষ। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বাউফলের সকল উন্নয়নের রুপকার জননেতা জনাব আলহাজ্ব আ.স.ম ফিরোজ (এমপি) মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন বর্ষার আগে নদী ভাঙন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাজিরপুর ইউনিয়নের এই ভাঙন কবলিত গ্রামের মানুষকে রক্ষা করুন

মন্তব্য

মন্তব্য