উড়োজাহাজ ছিনতাইকালে কমান্ডো অভিযানে নিহত পলাশ সোনারগাঁয়ের সাধারণ ছেলে


সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি//
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে কমান্ডো অভিযানে নিহত আহম্মাদ পলাশ জাহান শনাক্ত করেছেন তাঁর বাবা পেয়ার জাহান সরদার। পলাশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে। পলাশ সাধারণ ছেলে। উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রেম গঠিত আবেগের কারণে হয়েছে মনে করেন তার বাবা।
সরেজমিনে জানাযায়, দুধঘাটা গ্রামের পলাশদের একতলা পাকা বাড়িটিতে অসংখ্য মানুষের ভীরের মধ্যে কথা হয় পিয়ার জাহান সরদারের সঙ্গে। পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পলাশের কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলেন তার বাবা ও এলাকার লোকজন। পলাশের মা রেণু বেগম গত রবিবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছেন। সে স্ট্রোক করেছিল। বাড়ি এসে ছেলের কথা শোনার পর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা।
এলাকার লোকজন জানান, আহম্মদ পলাশ ভালো ছেলে ছিল। তার কোন অভিযোগ কখনও কেউ শেনেন নাই। তাকে এলাকার অনেকেই চিনেন না। পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। এখন দেশে একটি মুদি দোকানি। তাঁর স্ত্রী রেনু বেগম। পিয়ার জাহান-রেনু দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে পলাশ দ্বিতীয়। একটাই ছেলে তাঁদের। বাকি তিনজন মেয়ে। পলাশ মা বাবার খুভ আদরের সন্তান বলেই ছেলের সব আবধার মানতে গিয়ে ছেলে তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।
পিয়ার জাহান জানান, স্থানীয় তাহেরপুর সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ২০১১ সালে পলাশ দাখিল পাস করেন। পরে সোনারগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষেও পর পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। এরপর বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় কী করতেন, কোথায় থাকতেন পলাশ, সে সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানতেন না। বাড়িতে প্রায় আসতেনই না। ঢাকায় গান এবং অভিনয় করতেন বলে স্থানীয় লোকজনের কাছে শুনেছেন তিনি। “কবর’’ নামের একটি নাটক করেছে শুনেছি। সবশেষ গতশুক্রবার সে দুবাই চলে যাবার কথা বলে ৫০০ দিরহাম করতে সে আমার কাছ থেকে বার হাজার টাকা নিয়েছে। এর আগে গত কোরবানি ঈদের এক মাস আগে এবং এরপর এক সপ্তাহ আগে দুই দফায় পলাশ বাড়ি আসেন। তখন তাঁর সঙ্গে চলচ্চিত্র নায়িকা সিমলা ছিলেন বলে দাবি করেন পলাশের বাবা। তিনি বলেন, পলাশ তাঁকে জানান, সিমলাকে তিনি বিয়ে করেছেন। তবে সিমলা ও পলাশের বয়সের বিরাট পার্থক্য থাকাতে এই বিয়েতে আপত্তি করেন তাঁরা। এ কারণে ছেলে আমার রাগ করে ওই দিনই সিমলা ও পলাশ ঢাকায় চলে যান। এর পর থেকে সে কী করত, কোথায় থাকত তা জানতাম না। পলাশের জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল না বলে জানান পলাশের বাবা। নাম আহম্মাদ পলাশ হলেও ফেসবুকে মাহি বি জাহান নামে অ্যাকাউন্ট আছে তাঁর। ওই অ্যাকাউন্টে দেওয়া ছবিগুলোও সিমলার সাথে পলাশের গভীর সম্পের্কের বিষয়টি শনাক্ত করেন তার বাবা।
নিহত পলাশের লাশ এখন ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে আছে। তবে ছেলের লাশ চান না বাবা। বললেন, যে মরেও আমাকে কলংকিত করেছে, তার লাশ আমি চাই না।
সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, রাত দুইটার দিকে ঢাকা থেকে পলাশের ছবি পাঠানো হয় থানায়। মা–বাবাকে দেখিয়ে তাঁরা নিশ্চিত হন যে এটিই পলাশ। আবুল কালাম আজাদ বলেন, পলাশের নামে স্থানীয় থানায় কোনো মামলা নেই।

মন্তব্য

মন্তব্য