আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ৩৬ ভাষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের আমন্ত্রণপত্র

মোঃ ইসাহাক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে এই প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ৩৬ ভাষায় আমন্ত্রণপত্র দিয়েছেন জেলার বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী দপ্তর, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুধীজনদের। চিঠিতে বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে ইংরেজি ভাষা, সাদরী ভাষা, সাঁওতাল ভাষা ও কোল ভাষাসহ প্রায় ৩৬টি ভাষায় আমন্ত্রনপত্র দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। চিঠির প্রথম পৃষ্ঠায় একটি ভাষা বৃক্ষের ছবি দেয়া হয়েছে। গাছের প্রতিটি পাতায় একটি করে বাংলা অক্ষর লেখা হয়েছে এবং গাছের নিচে মাটিতে রক্তের ভেজা মাটি বোঝানো হয়েছে। প্রথম পৃষ্ঠার প্রায় পুরো জায়গাতেই ৩৬ টি ভাষায় মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। যা ইতোপূর্বে কখনো করা হয়নি। এই প্রথম উদ্যোগ। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.কে.এম তাজকির উজ জামান বলেন, রক্ত দিয়ে পাওয়া আমাদের বাংলা ভাষা। এই উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে জেলা প্রশাসন বাংলা ভাষার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য ভাষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রায় ৩৬টি ভাষা লেখা হয়েছে এবারের চিঠির প্রচ্ছদে। তিনি আরও বলেন, চিঠির প্রথম পৃষ্ঠায় একটি ভাষা বৃক্ষের ছবি দেয়া হয়েছে। গাছের প্রতিটি পাতায় একটি করে বাংলা অক্ষর লেখা হয়েছে এবং গাছের নিচে মাটিতে রক্তের রঙে, শহীদের রক্তে ভেজা মাটি বোঝানো হয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেও বিভিন্ন ভাষার আদিবাসীদের বাস, তাই ভেতরের পাতায় বাংলা ভাষা, ইংরেজি ভাষা, সাদরী ভাষা, সাঁওতাল ভাষা ও কোল ভাষায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মহোদয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষাকে সম্মান দেয়া হয়েছে এবং অন্যান্য ভাষার মানুষদেরকেও সম্মান দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, চিঠিতে আগামী ২১ ফেব্রæয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ ফেব্রæয়ারি দিবসের প্রথম পহরে অর্থাৎ ১২টা ১ মিনিটে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্ত¡শাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ভবনে ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, গ্রীণভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল রচনা লিখন প্রতিযোগিতা, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, দেশাত্মবোধক সংগীত, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। বাদ যোহর সকল মসজিদ ভাষা শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত। সুবিধামত সময়ে সকল মন্দির, গির্জা ও উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শহীদ দিবসের তাৎপর্য এবং অমর ভাষা শহীদদের স্মৃতি উদ্দেশ্যে আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এছাড়া সুবিধামত সময়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভ্রাম্যমান প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজ নিজ উদ্যোগে কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।

মন্তব্য

মন্তব্য