তিতাসে আ’লীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মারা গেছেন

হালিম সৈকত,কুমিল্লা
কলাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশনের ম্যানেজিং কমিটির দুই দুই বারের সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন (৪৮) আর নেই।
আজ বিকাল ২ ঘটিকার সময় হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করেন। নিহত বিল্লাল হোসেন কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে এবং কলাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত জবেদ আলীর ছোট ভাই। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ছেলেটি এই বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী আর মেয়েটি ক্লাস তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
নিহত বিল্লাল হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে তিনি ছিলেন অবিচল। বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তিতাস-হোমনার প্রার্থী সেলিমা আহমাদ মেরীকে বিজয়ী করার লক্ষে রাত দিন কাজ করেছেন। অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে ছিলেন সর্বদা।
তার মৃত্যতে মাছিমপুর হাই স্কুলসহ পুরো মাছিমপুর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার এই আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী তিতাস উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশনের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আলম সরকার। তিনি বলেন, আজ সকালে আমাকে ম্যাসেজ পাঠিয়ে বলেছিলেন বিকাল ৩টায় দেখা হচ্ছে। জরুরী কথা আছে কিন্তু আমি দুপুর ২টায় জানতে পারি বিল্লাল হোসেন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গেছেন। বলেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন আলম সরকার। কি হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। দল হারিয়েছে এক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। খবরটি শুনে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি কি বলব?
মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশনের অভিভাবক সদস্য এবং বিল্লাল হোসেন এর দীর্ঘদিনের পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী মো. ইকবাল হোসেন বাবুল বলেন, খবরটি শুনে আমি বাকরুদ্ধ। এখনও আমার বিশ^াস করতে কষ্ট হচ্ছে। মানতে পারছি না যে, বিল্লাল ভাই নেই।
মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিল্লাল ভাই ছিলেন একজন হৃদয়বান ব্যক্তি। তার সাথে কত স্মৃতি। সব সময় হেঁসে কথা বলতেন। স্কুলের সকল শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ হতে নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানাই।
ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক হালিম সৈকত বলেন, বিল্লাল ভাইয়ের সাথে আমার একটি চমৎকার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বিগত দিনে খুব কাছাকাছি আসার সুযোগ কম হলেও সংসদ নির্বাচনে এতটাই কাছে চলে আসেন তিনি, প্রায় সময় ফোন করে নানা সমস্যার সমাধান চাইতেন। বলতেন সাংবাদিক সাহেব কি করা যায় বলেন তো?
ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল রবি বলেন, এক সাথে স্কুল পরিচালনা করেছি। বড়ই অমায়িক মানুষ ছিলেন তিনি। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন।
এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ নিহতের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য