স্বামীর পৈশাচিক লালসার শিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী লিজা আক্তার


বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বিভাগ :
৫ফেব্রোয়ারী রোজ মঙ্গলবার বিকাল ৪ঘটিকায় কুমিল্লা দাউদকান্দি বরকোটা (মলয়) – মতলব সংযোগ সড়কে পাশে, দৈনিক দিন প্রতিদিন ও চ্যানেল 30 টিভি’র কুমিল্লা জেলার বিশেষ প্রতিনিধি, সংবাদ সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা স্বামী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম পিতা-মৃত-সিরাজুল ইসলাম (প্রকাশ বাচ্চু মিয়া) গ্রাম-পশ্চিম মলয়, পো:- বরকোটা, থানা- দাউদকান্দি, জেলা- কুমিল্লা ও স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী শাওন ঠিকানা (ঐ ) সিএনজি চালক সহ লিজার নাকে মুখে গলায় চাপ দিয়ে হত‍্যার উদ্দ্যের্শে সিএনজি যোগে আগে পরে একাদিক মটর সাইকেল যোগে স্থানীয় লোকদের হুমকি দিতে দিতে মলয় নিজ বাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। বিষয়টি আশেপাশে জানাজানি হয়ে যাবার ভয়ে রাত ৮ দিকে লিজার পিত্রালয়ে রেখে চলে আসে এবং বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে। রাত বাড়ার সাথে সাথে নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিবারের সদস্যরা গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে কর্তব‍্যরত ডাক্তার তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা করেন পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তখন রাত্র আনুমানিক ২/৩ টা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা দেওয়ার পরে তাকে হসপিটালের বেডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন নির্যাতিতা অপহরণ এবং পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন পূর্ব থেকেই তাদের পারিবারিক সমস্যা চলছিল। একাদিকবার পরিবারের লোক জনকে জানিয়েছি, স্বামীর অত্যাচারের কথা, আমার পরিবারের লোকজন আমাকে বার বার ওর সাথে সংসার করতে বাধ‍্য করে আসছিল। আমি স্বামীর অত‍্যাচার সইতে না পেরে এক দেড় বছর আগে স্বামী এবং পিত্রালয় ত্যাগ করে চলে যাই এবং ঢাকায় একটি হাসপাতালে নার্সের চাকুরী নেই। পরবর্তীতে নানা কৌশলে আমাকে আবার নিয়ে আসা হয় এবং পৃর্বের ন‍্যায় সংসার করতে চাপ দিতে থাকে। তখন থেকেই নির্যাতিতা তার স্বামীর সাথে সংসার করতে অপারগতা জানায়। কোন অবস্থাতেই তার সাথে সংসার করবে না, সে তার পরিবারবর্গ এবং তার স্বামীকে জানিয়ে দিয়েছিল কিন্তু পাষণ্ড স্বামী বিভিন্নভাবে নির্যাতিতার পরিবার বর্গকে হুমকি-ধমকি দিয়ে সংসার করতে বাধ্য করতে চেয়েছিল এবং পূর্বে একাধিকবার নির্যাতিতাকে লাঞ্ছিত করার জন্য উদ্বৃত্ত হয়, সেই পথে ব্যর্থ হয়ে, সন্ত্রাসী ও স্বামী, তাকে উঠিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং সে সফল হয়। পূর্বে একাধিকবার সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কাজকর্ম করার কারণে পাষণ্ড স্বামী নানাভাবে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে নির্যাতিতাকে সাবধান ও হুমকি দিতে থাকে। এবং নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা মামলা করলে রাস্তায় মেরে ফেলার হুমকি দেয়। নির্যাতিতা আরো জানান ,আগে থেকেই দাউদকান্দি মডেল থানা ও তার সহকর্মীদের মৌখিকভাবে বিষয়গুলো অবগত করে রেখেছিলেন। কিন্তু সে বুঝতে পারেনি পাষণ্ড স্বামী এরকম কাজ করবে। শারীরিক যন্ত্রণার কারণে,এর বেশি সে জানাতে পারেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ব‍্যাপারে প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান পরিবারের লোকজন। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেয়ে, ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশন (এফবিজেও) এবং দৈনিক দিন প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক এবং চ্যানেল ৩০টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ প্রতিনিধিগন, আইন সহায়তা কেন্দ্র, আসক ফাউন্ডেশন এর কর্মকর্তাগণ ,কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত সাংবাদিক লিজার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন এবং অপরাধীকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য