কালীগঞ্জে অপহৃত তিন মাছ ব্যবসায়ী উদ্ধার, মুলহোতা গ্রেফতার

কালীগঞ্জ(গাজীপুর) প্রতিনিধি
তিন মাছ ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মক্তিপণ আদায়ের সময় পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে এক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাশ্ববর্তী পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় তিন মাছ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছেন। ওই সময় অপহরণকারীর মুলহোতা আব্দুল্লাহকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। কালীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড দেওপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে অপহরণকারীর মুলহোতা আব্দুল্লাহ।
কালীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল রাবান এলাকার তিন মাছ ব্যবসায়ী আশীষ, জুয়েল ও সফিকুল ইসলাম বিভিন্ন জাতের মাছ ড্রামে ভরে টমটম গাড়ী যোগে প্রতিনিয়ত কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাছ ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে আসছে। প্রতিদিন আসা-যাওয়ার পথে কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল ব্রিজ টোল প্লাজার সামনে পরিবহন কর্মী বাদশা মিয়ার সাথে তাদের তিন জনের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। শনিবার পরিবহন কর্মী বাদশা তাদের এলাকায় বেড়াতে আসতে মাছ ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলামকে ফোন করে। বিকেলে ওই তিন মাছ ব্যবসায়ী আশীষ, জুয়েল ও সফিকুল ইসলাম বেড়াতে আসলে বাদশা তাদের ঘুরার কথা বলে নৌকা যোগে কালীগঞ্জ দেওপাড়া ইটখোলা সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ে নিয়ে যায়। বাদশা কালীগঞ্জের ঘোড়াপাড়া গ্রামের গিয়াসউদ্দিনের ছেলে বাপ্পী ও ঘোড়াশালের ভিরিন্দার টেকের নজু মিয়ার ছেলে সাব্বিরকে ফোন করে তাদের সেখানে আনে। দেওপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ পলাশ থেকে রিয়া নামে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সাথে মিলিত হয়। মেয়েকে দিয়ে তিন মাছ ব্যবসায়ী সাথে ক্যামেরায় কিছু অশ্লীল ভিডিও ধারণা করে। পরে অপহরণকারীর চক্রটি সফিকুলের বাবার মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে সফিকুলের চাচা বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার পাঠায়। উপায়ন্তর না দেখে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি পলাশ থানাকে অবগত করলে তারা বিষয়টি কালীগঞ্জ থানাকে জানায়। পরে কালীগঞ্জ -কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্তের নির্দেশ কালীগঞ্জ থানার ওসি(তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রাতে কালীগঞ্জ সেভেন রিং সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর এলাকা থেকে আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া সূত্রমতে পলাশ উপজেলা ঘোড়াশাল এলাকা থেকে গতকাল রোববার বিকেলে অক্ষত অবস্থায় তিন ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অপর অপহরণকারীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জুয়েলের পিতা ফখরুদ্দীন বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছে, যার মামলা নং৩১, ২৭.১.১৯।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কালীগঞ্জ থানার ওসি(তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিন মাছ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারীর মূলহোতা আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয় এবং বাকীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য