কালীগঞ্জে আয়নল হত্যাকারী ভায়রা ভাই শহিদুল্লাহ গ্রেফতার

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

ভায়রার কাছ থেকে পাওনা টাকা নিতে এসে খুন হন কলমিস্ত্রি আয়নল। এক মাস ১০দিন পর অভিযুক্ত খুনি ভায়রা শহিদুল্লাহকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর অভিযুক্ত শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত আয়নলের ছোট ভাই কাজল বেপারী শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে বুধবার কালীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুলতানউদ্দিন খান বলেন, ভায়রা ভাই আয়নলকে শহিদুল্লাহ হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এ কাজে তার সাথে কে কে জড়িত রয়েছে সে জন্য তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ আড়িখোলা রেলওয়ের মোড়ল বাড়ি সংলগ্ন ২৮ নভেম্বর রাতে ট্রেনে কাটা পড়া আয়নল হক (৪৭) নামে কল মিন্ত্রীর খন্ডিত লাশ নরসিংদী জিআরপি থানার পুলিশ উদ্ধার করার পর থেকে আয়নলের পরিবার দাবি করে আসছে আয়নল ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায়নি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। নিহত আয়নল হক কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের মোহানী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

আয়নলের স্ত্রী কুহিনুর বেগম বলেন, তার বড় বোন জামাই শহিদুল্লাহ তার স্বামী আয়নলকে হত্যা করেছে।
তার দুলাভাইয়ের নিকট পাওনা ৫০ হাজার টাকা আনতে গেলে দুলাভাই শহিদুল্লাহ কৌশলে তার স্বামীকে হত্যা করে ট্রেনের দুর্ঘটনার নাটক সাজায়।

নিহত আয়নলে ছোট ভাই ও মামলার বাদী কাজল বেপারী বলেন, আয়নল আর শহিদ দুইজন ভায়রা ভাই। দুইজনের স্ত্রী বিদেশ থাকে। আয়নলের স্ত্রী কুহিনুর বেগম থাকেন দুবাই আর শহিদের স্ত্রী থাকেন জর্ডানে। পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। শহিদের মেয়ে শাহিদা বেগম তার স্বামীর বাড়িতে নতুন ঘর করার জন্য কিছুদিন আগে ছোট খালা অর্থাৎ আয়নলের স্ত্রীর নিকট ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। পরে শাহিদা সেই টাকা তার বাবা শহিদুল্লাহর নিকট দিয়ে দেয় তার খালুকে দেয়ার জন্য। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়নল তার ভায়রা শহিদকে ফোন দিলে টাকা নেয়ার জন্য তাকে তার বাড়িতে আসতে বলে। টাকা আনতে যাওয়ার পর থেকে ভাইয়ের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। বুধবার রাতে তার ভাইয়ের খন্ডিত লাশ কালীগঞ্জ আড়িখোলা রেলওয়ের মোড়ল বাড়ি সংলগ্ন স্থানে পড়ে রয়েছে বলে তারা জানতে পেরে সেখানে যায়।

যেই অটোরিকশা যোগে আয়নল তার বাড়ি মোহানী থেকে ভায়রার বাড়ির উদ্দেশ্যে এসেছে সেই অটোরিকশা চালক নবীর হোসেন জানায় , মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়নলকে নিয়ে সে বালীগাঁও মোড়ল মার্কেটে আসে। তাকে যাত্রী ছাউনিতে বসিয়ে রেখে ভায়রা শহিদ আয়নলকে নিয়ে রেললাইন পেরিয়ে উত্তর পাশের চায়ের দোকানে চা খাওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যায়। দেড় ঘন্টা পর সে আয়নলের মোবাইলে ফোন দিলে মোবাইলটি বন্ধ পায়। এর কিছুক্ষণ পর শহিদ এসে আয়নলের যেতে দেরি হবে তাকে ভাড়া ১২০ টাকা দেয় এবং চলে যেতে বলে। আয়নল এখন কোথায় শহিদকে এমন প্রশ্ন করলে শহিদ জানায় আয়নল তার কাছে ৫০ হাজার টাকা পাওনা তার কাছে ২০ হাজার টাকা আছে, বাকি ৩০ হাজার টাকা তার এক বন্ধু নিয়ে আসতেছে। তাই তার যেতে দেরি হবে। তখন নবীর আয়নলের মোবাইল ফোনে কল দিলে তার মোবাইলের সুইচ বন্ধ পায়। তখন সে চলে আসে।

মন্তব্য

মন্তব্য