নেত্রী নয়, হতে চাই সাধারণ মানুষের সেবক…… উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন

হালিম সৈকত,কুমিল্লা
চারদিকে হৈ চৈ। নির্বাচন আসছে। এলো আবার চলেও গেলো। আবার কলরব উঠেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে। কে কে প্রার্থী হচ্ছেন এই নিয়ে চায়ের টেবিলে ঝড়। রাজনীতির মাঠ ২০১৯ সালে সব সময় সরগরম থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। যে যেভাবে পারছে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছে। যোগ্যতা আছে কি নাই সেটা মনে হয় বিষয় না! এখন শুধু ভাববার বিষয় দলীয় মনোনয়ন। দলীয় মনোনয়ন পেলেই মনে হয় সব জয় করা যাবে! তবে সাধারণ মানুষ ভোটবিহীন নির্বাচন চায় না। এতে জনগণের মূল্য থাকে না। গণতন্ত্র সুসংহত হয় না। তাই সাধারণ জনমনে প্রত্যাশা উপজেলা নির্বাচন নির্ভেজাল, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। তবেই প্রকৃত নির্বাচিত নেতা পাওয়া যাবে। যারা প্রকৃতপক্ষে জনগণের সেবক হয়ে কাজ করে যাবেন।
কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় চলছে প্রার্থীতার ছড়াছড়ি। তিতাস উপজেলাও সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। নতুন নতুন প্রার্থী সামনে আসছে। তবে এখনও চূড়ান্তভাবে কিছুই বলা যাবে না। কারণ কেউ কেউ নির্বাচন না করলেও আলোচনা থাকতে চান।
তবে আবার কেউ কেউ আছেন যারা সত্যিকারভাবেই চাচ্ছেন জনগণের খেদমত করতে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো তিতাস উপজেলা যুব মহিলা পরিষদের আহŸায়ক ফরিদা ইয়াসমিন।
ফরিদা ইয়াসমিনের রয়েছে পারিবারিক রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য ইতিহাস। ফরিদা ইয়াসমিনের বাবা ছিলেন একজন ভূমি পরিমাপক যাকে গ্রাম্য ভাষায় বলে আমিন। তাঁর বাবা মমতাজ উদ্দিন ছিলেন একজন জনপ্রিয় আমিন। যাকে সবাই কালা আমিন নামে চিনেন। তিনি আওয়ামী পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। আ’লীগের রাজনীতি পছন্দ করতেন।
ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামীও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। স্বামী মোসলেম মিয়া ১৯৯৬ সাল থেকেই আ’লীগের রাজনীতি করতেন। মোসলেম মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। কিন্তু নির্বাচনে হারলেও তিনি জনগণের মন ঠিকই জয় করতে পেরেছিলেন।
তিনি দলকে ভালোবেসে জাতীয় দিবস গুলো পালন করতেন নিজস্ব অর্থায়নে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল তাঁর প্রিয় একটি ভাষণ। বিজয় দিবস, স্বাধীণতা দিবস ও মাতৃভাষা দিবসে তিনি ভাষণটি প্রচার করতেন। জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
২০০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর সাধারণ জনগণের চাহিদার কারণে ফরিদা ইয়াসমিন রাজনীতিতে ইন করেন। ২০০৯ সালে বিজয় দিবস পালনের মাধমে শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমল্লিা উত্তর জেলা আ’লীগের ভার-প্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আওয়াল সরকার।
এর পর ফরিদা ইয়াসমিন বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরিক্ষিত ওয়ার্ড এর ৪,৫,৬ নির্বাচন করলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে তিনি উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্যও নির্বাচিত হন ভোটের মাধ্যমে।
বর্তমানে তিনি মাছিমপুর হাই স্কুল এর ম্যানেজিং কমিটির দুই দুই বারের নির্বাচিত সদস্য।
তিনি উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। এছাড়া তিনি তিতাস থানা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য , কুমিল্লা উত্তর জেলা মৎস্য জেলে সমিতির মহিলা সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দাখিল করলেও দলীয় স্বার্থে নেতাদের অনুরোধে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ এর সকল প্রোগ্রামে ফরিদা ইয়াসমিন এর সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
বর্তমানে তিনি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি তিতাসবাসীর নেত্রী নন সেবক হয়ে কাজ করতে চান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সোনার বাংলা গড়তে তাঁর জ্যেষ্ঠ্য কন্যা দেশরত্ন, জননেত্রী, মানবতার অগ্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহায়তা করতে চান। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাজকে আরও ত্বরান্বিত করতে দলীয় মনোনয়ন চাই। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।
হালিম সৈকত

মন্তব্য

মন্তব্য