স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে জাতিসংঘ ও নরওয়ে

অনলাইন ডেস্ক: ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে সন্ত্রাস ও ভোটকারচুপির যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই আহ্বান জানিয়েছেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিয়েন হেগেন। রয়টার্স।
গতকাল এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ বলেছে, আমরা চাই , নির্বাচনে সন্ত্রাস ও মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগগুলোর দ্রুত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করা হোক। আমরা আশা করছি,নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধীদল যেসব অভিযোগ করেছে,  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেগুলোর তদন্ত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর সরকার সমর্থকদের শারীরিক আক্রমণ, দুর্ব্যবহার, হয়রানি এবং পুলিশের অকারণ গ্রেপ্তার এখনো চলছে। কিন্তু সন্ত্রাসী ঘটনাগুলোর জন্য কোন মামলা হচ্ছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিপক্ষ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের হামলা ও ভীতিপ্রদর্শনের ঘটনায়  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মদদ ছিলো। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নির্যাতনে অংশ নিয়েছে।
প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা বন্ধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ। সেইসঙ্গে  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীকে আইন মেনে কাজ করার কথাও বলেছে।
নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এদিকে বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের যাবতীয় অনিয়মের অভিযোগের পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত চেয়েছে নরওয়ে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিয়েন হেগেন এক বিবৃতিতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই তদন্ত করার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে ম্যারিয়েন হেগেন বলেন, ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিরোধীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে স্বাগত জানায় নরওয়ে। ৩০শে ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনে যেসব বাংলাদেশি ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করেছে তাদেরও আমরা সাধুবাদ জানাই।
তবে ওই নির্বাচনে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের বিশ্বাসযোগ্য  যেসব রিপোর্ট পাওয়া গেছে, আমরা তাতে উদ্বিগ্ন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে যে বাধা ছিলো, তাতেও নরওয়ে উদ্বিগ্ন।
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এবং ভোটের দিনে যে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার নিন্দা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে  এসব ঘটনার স্বচ্ছ এবং পরিপূর্ণ তদন্ত হওয়া জরুরি।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে ভালো ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেগেন বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য নরওয়ে এখানকার সরকার, বিরোধী দল এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।

মন্তব্য

মন্তব্য