কালীগঞ্জে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা খুন

মো. মাহবুবুর আলম মারুফ, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের ওজন মাপার পাথরের আঘাত ও ছুরিকাঘাতে বাবাকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের সোমবাজার এলাকায় এমন মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ছেলে নকীব হাসান হৃদয় (১৬) তার বাবা রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হাই মুন্সি (৫৭)কে ওজন মাপার পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ঘরের রক্ষিত ছোরা দিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে মেরে ফেলেছে বলে নিহতের স্ত্রী সুলতানা বেগম ও তার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত নকিব হাসান হৃদয়কে রোববার সকালে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘাতক হৃদয়কে আলামতসহ আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার ভোরে উত্তর সোম এলাকার রড,সিমেন্ট ও মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল হাই (৫৭) কে ছেলে নকিব হাসান হৃদয় (১৮) নিজ বাসায় পাথর দিয়ে থেঁতলিয়ে ও উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে নিহতের স্ত্রী সুলতানা বেগম ও তার পরিবারের লোকজন জানান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক হৃদয়কে আলামত সহ আটক করেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হৃদয় গত বছর কালীগঞ্জ আর,আর, এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এসসি. পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হয়। সে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে তার পরিবারের লোকজন জানায়।

ঘাতক হৃদয় জানায়, রোববার ভোরে স্বপ্নে দেখতে পায় যে, তার আত্মা বদল হয়ে বাবার শরীরে প্রবেশ করেছে এবং বাবার আত্মা তার শরীরে প্রবেশ করেছে। সে নিজেকে বাবার মত বৃদ্ধ আর বাবাকে যুবক দেখাচ্ছে। তখন সে সিদ্ধান্ত নেয় যে, বাবাকে আর বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। বিষয়টি চিন্তা করে একটি ছুরি দিয়ে প্রথমে বাবার বাম বুকে ও তল পেটে ছুরিকাঘাত করে। নিজেকে বাঁচাতে হৃদয়ের বাবা হাতের কাছে থাকা ৫ কেজি ওজনের পাথর দিয়ে ছেলের মাথায় আঘাত করে। পরে হৃদয় ওই পাথর কুড়িয়ে তার বাবার মাথায় মেরে থেঁতলিয়ে দিলে বাবা আব্দুল হাই ঘটনাস্থলেই মারা যায়। হৃদয়ের মা এবং বড় ভাই নিলয় ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রæত আব্দুল হাইকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বড় ভাই নিলয় এর সাথে স্থানীয় সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে সে দূর্ব্যবহার করে ও নো কমেন্টস বলে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, হৃদয় কোন নেশা করতো না। সে সারাদিন ঘরে বসে থেকে, রাত জেগে কেবল এয়ার ফোন ব্যবহার করতো। তবে তার কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাকে বেশ কয়েকবার মানসিক চিকিৎসককে দেখানো হয়েছে বলে ঘাতক হৃদয়ের পরিবার জানায়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বকর মিয়া , পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তী এবং পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) একে সোহেল রানা ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ পাষন্ড ঘাতক ছেলে হৃদয়কে আলামত সহ আটক করে থানায় নিয়ে যান। তারা জানান, নিহত আব্দুল হাই’কে ময়নাতদন্তের জন্য সকালে শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন। এ বিষয়ে রোববার দুপুরে নিহতের স্ত্রী সুলতানা বেগম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য