কুমিল্লায় আ’লীগের একমাত্র নারী প্রার্থী সিআইপি সেলিমা আহমদ মেরী

হালিম সৈকত,কুমিল্লা //
সারা বাংলাদেশে নারী প্রার্থীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। যদিও ইলেকশন কমিশনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে দলগুলোর কমিটিতে এক তৃতীয়াংশ নারীদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে। কিন্তু দলগুলো কি তা মানছেন? তবে এবার প্রধান প্রধান দলগুলো যেমন বাংলাদেশ আ’লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি কিছু আসনে নারীদের মনোনয়ন দিয়েছেন। তার মধ্যে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ২টি আসনে তিনজন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে দল ৩টি। ক্ষমতাসীন আ’লীগ কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসনে নমিনেশন দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেত্রী সিআইপি সেলিমা আহমদ মেরীকে। কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শাহিদা রফিক এবং একই আসনে জাপার উত্তর জেলা মহিলা পার্টির সহসভাপতি নাজমা আক্তারকে।
সেলিমা আহমদ মেরী: পেশায় একজন ব্যবসায়ী। শিক্ষাগত যোগ্যতা ব্যবস্থাপনায় ¯œাতকোত্তর। তিনি নিটল-নিলয় শিল্পগোষ্ঠীর ভাইস চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি। তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি। তিনি ব্যবসায়ী নেতা নিটল-নিলয় গ্রæপের চেয়ারম্যান মাতলুব আহমদের স্ত্রী। তিনি বিগত এক বছর যাবত তিতাস-হোমনার দুই উপজেলায় বিভিন্ন প্রচার প্রচারনা চালিয়ে আসছিলেন। হোমনা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি প্রবীন ত্যাগী নেতা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ এর স্থলে তিনি মনোনয়ন ছিনিয়ে আনলেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সুত্রে প্রার্থীদের হলফনামার বিবরণ থেকে জানা গেছে, সেলিমা আহমদ মেরীর সম্পাদ অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় অনেক বেশি।
সেলিমা আহমদ মেরীর বার্ষিক আয় ৯৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা। নগদ অর্থের পরিমাণ ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৮২ টাকা এবং ব্যাংকে ১৭ লক্ষ ২২ হাজার ৬৪৮ টাকা জমা রয়েছে।
৭ কোটি ৯২ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪৭০ টাকার বন্ড রয়েছে। স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ রয়েছে ২ কোটি ৯৪ লক্ষ ৪২ হাজার ৩১ টাকা। তাছাড়া স্বর্ণ রয়েছে ২১ লক্ষ টাকার। বাবার বাড়ি হোমনার পাথালিয়া কান্দি গ্রামে ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দামের ৩.১৮ বিঘা জমি আছে। ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি রয়েছে তাঁর।
ইতোমধ্যে তিনি তিতাস-হোমনায় নজর কারতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের সহানুভূতি রয়েছে তাঁর প্রতি। কিন্তু আ’লীগের সকল পক্ষকে এক করতে না পারলে সমস্যা হতে পারে। কারণ তিতাস এবং হোমনায় বিভক্তি দীর্ঘ দিনের। সকল পক্ষকে এক করে কৌশল ঠিক করতে না পারলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর সাথে জয়ী হওয়া চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন সাধারণ জনগন। কারণ বিগত দিনে এই আসনটি ছিল বিএনপির দূর্গ। যদিও এখন আর সেটা বলা যাবে না। কারণ বিগত ১০ বছরে আ’লীগ দলকে বেশ সংগঠিত করেছে। যদিও নেতা কেন্দ্রীক। দলের জন সমর্থন বেশ বেড়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড দলকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। সেলিমা আহমাদ মেরীকে আরও একটি বাধা পেরোতে হবে। বর্তমান এমপি জাপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন জাপার প্রার্থী হয়েছেন। যদিও আ’লীগ ও জাপা মহাজোটে রয়েছেন। তথাপি তারা উভয়ই প্রার্থী হয়েছেন। কে মহাজোটের প্রার্থী তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। আমির হোসেন এমপি নিজেকে মহাজোটের প্রার্থী দাবী করলেও এখনও তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা করা হয়নি। বিশেষ সুত্রে জানা যাচ্ছে এই আসনটি উন্মুক্ত থাকতে পারে। অন্যান্য আসনে জোট থাকলেও এখানে নাও থাকতে পারে। অর্থাৎ নৌকা এবং লাঙ্গল প্রতীকে দুজনেই লড়াই করবেন বলে জানা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনী কৌশল কি হবে তা সকল নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আলাপ আলোচনা করে অচিরেই নির্ধারণ করা হবে জানান আ’লীগের একাধিক নেতা।
সিআইপি সেলিমা আহমদ মেরী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নারীর উন্নয়নে কাজ করছেন দীর্ঘদিন যাবত। তিতাস হোমনার নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আমি নিজেকে সব সময় নিবেদিত রাখতে চাই। সে জন্য আমি সকল নারীদের সহযোগিতা চাই। ৩০ তারিখে নৌকা মার্কায় একটি ভোট দিয়ে তাদের মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে দিবেন বলে আমি বিশ^াস করি। ১৯৭১ সালেও নারীদের ভূমিকা ছিল। দেশকে এগিয়ে নিতে ৩০ ডিসেম্বরও তাদের ভূমিকা থাকবে। আমি আশাবাদী তারা আমাকেই ভোট দিবেন।
তিতাস উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কড়িকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মহসীন ভূইয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য তিতাস আ’লীগ ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে এবার নৌকা প্রতীক দিয়েছেন, সেই নৌকাকে বিজয়ী করার লক্ষেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সেলিমা আহমদ মেরী আমাদেরকে কথা দিয়েছেন তিনি বিজয়ী হলে বেকার য্কুদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। তিনি কথা দিলে কথা রাখেন এটা আমি বিশেষভাবে বলতে পারি।

মন্তব্য

মন্তব্য