শ্রীপুরে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাজীপুরের শ্রীপুরে নারায়নপুর এলাকায় অগ্নিদগ্ধের ৬দিন পর এক গৃহবধূ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। মঙ্গলবার রাতে শ্বশুর বাড়ির ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার পর গায়ে কেরোসিন ছোড়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করা হয় শাশুরী ও ননদের বিরুদ্ধে। রিতা আক্তার (২০) নামে ওই গৃহবধূ শ্রীপুরের পটকা গ্রামের রোকন ফকিরের কন্যা।

নিহতের বাবা রোকন ফকির জানান, প্রায় দু বছর আগে তার কন্যাকে একই উপজেলার নরায়নপুর গ্রামের নূরু মিয়ার ছেলে আসাদুজ্জামানের কাছে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে তার জামাতা চাকুরীর উদ্দেশে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। রোকন ফকির ও তার জামাতা আসাদ মিয়া ব্যাক্তি লোনের মাধ্যমে একত্রে একটি প্রাইভেটকার কিনেন। জামাতা-শ্বশুর একত্রে প্রাইভেটকার ক্রয় করা নিয়ে তার কন্যার সাথে শ্বশুর বাড়ির লোকদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওই বাড়িতে তার কন্যা রীতা আক্তারের গায়ে অগ্নিসংযোগ করে।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বৃহষ্পতিবার গৃহবধূর বাবা রোকন ফকির শ্বাশুড়ী হাজেরা খাতুন ও ননদ জান্নাতসহ অজ্ঞাতনামাদের অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার রাতে বাড়ির ওয়াশ রুম থেকে বের হওয়ার পর গৃহবধূর গায়ে আকষ্মিক কেরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করা হয়। গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে গৃহবধূকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বেলা ১১টার দিকে ওই গৃহবধূ মারা যান। অভিযুক্ত শ্বাশুড়ী হাজেরা খাতুন ও ননদ জান্নাতকে গ্রেপ্তার করে শনিবার গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছিল।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, আদালত রোববার গৃহবধূ মৃত্যুর আগে তাদের জামিন মঞ্জুর করে মুক্তি দেন।

মন্তব্য

মন্তব্য