নেতাকর্মীদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন ……রবিউল আউয়াল রবি

হালিম সৈকত,কুমিল্লা //
আমি প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে রেডিও এবং টিভিতে জাতির উদ্দেশ্যেু পল্লীবন্ধুর ভাষণ প্রচার করবে বলে শুনেছিলাম।
সেই ভাষণ শোনার জন্য এলাকার মুরুব্বিদের সাথে অনেক রাত্র পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম কিন্তু সে দিন রাত্রে স্যার কে আইনি জটিলতা দেখিয়ে ভাষন প্রচার করতে দেয়নি।
কিন্তু পরের দিন স্যারের ভাষণের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হয় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে। আমি পত্রিকা কিনে রাতের বেলা ঘরে বসে নিরবে স্যারের দেওয়া পুরো ভাষণটি পড়ে ফেলি।
ভাষণে পল্লীবন্ধু এরশাদ এর নিজের, পরিবার এবং জাতীয়পাটির নেতাকর্মীদের উপড় বি এন পি সরকারের করা অন্যায় অত্যাচার মামলা হামলা নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরা হয়। তা পড়ে আমার মনে খুব কষ্ট পাই, সেই থেকে মনে মনে শপথ করি আমি এই অত্যাচার জুলুমের বিরোদ্ধে, এরশাদ ও জাতীয়পাটির পাশে থাকব। কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লাা উত্তর জেলা জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রবিউল আউয়াল রবি।
এরপর হালকা দম নিয়ে বলেন, যে আঘাত পেয়েছি সেই থেকে আমি শপথ করেছি পল্লীবন্ধু এরশাদ এবং জাতীয়পার্টির সাথে থাকবো আজীবন।
এরপর হাই স্কুলে উঠলাম। ৩/৪ বছর পর ২০০০ সালে নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় খোঁজতে থাকি এলাকায় কে জাতীয়পার্টি করেন। এক সময় জাতীয়পার্টির এক বড় ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়। নাম তার মো. নুর নবী। তিনি বর্তমানে বলরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।
ভাইকে বলি আমি জাতীয়পার্টি সক্রিয়ভাবে করতে চাই। ঐ ভাই আমাকে একজন ছাত্র নেতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই থেকে পথচলা শুরু। ২০০০ সালের ১৬ জুন দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সম্মেলনে বিপুল সংখ্যক ছাত্র নিয়ে মিছিলসহকারে হাজির হই। আমি উপজেলা শাখার সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হই।
ইতিমধ্যে যার হাত ধরে পার্টিতে যোগদান করেছিলাম সেই বড় ভাই নানা প্রতিকূলতার কারণে আওয়ামী লীগে চলে যান। পরে রইলাম আমি একা। আমি একাই গ্রামে গ্রামে ঘুরে কর্মী সংগ্রহ করে পার্টির শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখি।
২০০৪ সালে তিতাস- আলাদা উপজেলা গঠিত হলে আমি নিজে আহ্বায়ক হয়ে মাত্র ৭ জন সদস্য দিয়ে গঠন করি জাতীয় ছাত্র সমাজের কমিটি।
পরে আরো কর্মী সংগ্রহ করে গঠন করি ছাত্র সমাজের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। যুবকদের নিয়ে গঠন করি জাতীয় যুব সংহতির কমিটি এবং এরপর বয়স্ক নেতাদের দিয়ে গঠন করি জাতীয়পার্টি মূল কমিটি।
এভাবেই জাতীয়পার্টিকে সংগঠিত করার পুরনো স্মৃতিগুলো রোমন্থন করছিলেন রবি। আক্ষেপ করে বলেন, জীবনে কিছুই চাই নি। শুধু চেয়েছি পার্টির বিশালতা। পার্টি যাতে শক্তিশালী হয় সেই চেষ্টা করে গেছি সব সময়। কি পেলাম আর কি পাইনি, তার হিসাব কখনো করিনি। যতদিন বেঁচে আছি লাঙ্গলের সাথেই থাকব। ইনশাল্লাহ একদিন না একদিন পার্টি ক্ষমতায় আসবেই। সাধারণ জনগণের ভালোবাসই আমার পুঁজি। কিছ্ ুচাই না। এর বেশি চাওয়া-পাওয়া আমার নেই।
কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসনের সে জাতীয়পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী। রবি বলেন, আশা করি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ আমাকে মূল্যায়ন করবেন। তৃণমূলের নেতৃত্ব আমাকে চায়। তাদের কারণেই আমি নমিনেশন পত্র কিনেছি। তিতাস হোমনার নেতা কর্মীরাই আমার প্রাণের স্পন্দন।
রবি বর্তমানে জাতীয় যুবসংহতির কুমিল্লা উত্তর জেলার আহ্বায়ক কমটির সদস্য। এক সময় সে জেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের দপ্তর সম্পাদক, তিতাস উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি, কুমিল্লা উত্তর জেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় জাতীয় ছাত্র সমাজের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য