শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানা ভাঙচুর

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদক,
গাজীপুরের শ্রীপুরে উজিলাব এলাকায় ইসটিম ওয়ারস লিমিটেড নামক একটি তৈরি পোশাক কারখানায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে। সোমবার সকাল ১০টায় ওই কারখানার ভেতরে শ্রমিকরা ভাংচুর চালায়। গাজীপুর শিল্প পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানায়,গত সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ অক্টোবর মাসে বেশ কয়েকবার তারিখ নির্ধারণ করেও পরিশোধ করেনি। এমনি করে সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর দুই মাস অতিবাহিত হয়। বকেয়া বেতনের দাবি জানালে গত ২৫অক্টোবর শিল্প পুলিশের উপস্থিতিতে কারখানা থেকে ঘোষণা দেয়া হয় আগামী ৫ নভেম্বর তাদের সমুদয় বকেয়া পরিশোধ করা হবে। আজ সোমবার তারা কারখানায় কর্মস্থলে যোগ দিতে যায়। এ সময় সেখানে শিল্প পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে বেতন না পাওয়ার আশঙ্কায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তারা। শ্রমিকেরা তাদের কর্মস্থল কারখানার বিভিন্ন ফ্লোরে গিয়ে কাজ বন্ধ রেখে প্রথমে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে কারখানার ম্যানেজমেন্ট এর লোকদের সাথে কারখানায় পুলিশ মোতায়েন ও বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে বাকবিতন্ডায় জডিয়ে পড়ে। এ সময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সেলাই মেশিন ও বিভিন্ন গ্লাস ভাংচুর করে।

কারখানার অপারেশন শাখার মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) রাজিব কুরি জানান, সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ দিনের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের সোমবার (৫ নভেম্বর) তাদের বেতন পরিশোধ করার ঘোষণা দেয়া হয় গত ২৫শে অক্টোবর। কিন্তু শ্রমিকেরা সকালে কারখানায় ঢুকেই কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজার) রেজাউল করিমের সাথে পুলিশের উপস্থিতি ও বকেয়া বেতন নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ চালিত সেলাই মেশিন ও কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের গ্লাস, ফুলের টব ভাংচুর করে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে টাকা নিয়ে আসার পর তাদের পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করার কথা ছিল বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু ভাঙচুর এবং শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে আজকে বেতন দেওয়া হবে কিনা এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক ইস্কান্দার হাবিব জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের আহবানে নিরাপত্তার জন্য সকাল ৮টা থেকেই কারখানার বাইরে শিল্প পুলিশ টহল দিচ্ছিল। ভেতরে ভাংচুরের খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বের করে দিয়ে কারখানা মূল গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। কারখানার মূল গেট বন্ধ করে দেয়ায় অনেক শ্রমিক গেটের উপর দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, আবার কিছু শ্রমিক বাইরে থেকে বিক্ষোভে অংশ নেয়। দুপুর ২ টার পর কারখানার মূল ফটক খুলে দিলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শ্রমিকেরা চলে যায়।

মন্তব্য

মন্তব্য