প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে জমজমাট ও রমরমা অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বাণিজ্য

 

মোঃ খলিলুর রহমান, ক্রাইম রিপোর্টার //
বন্দর নগরী চট্টগ্রাম বন্দর থানাধীন, কলসী দিঘীর পাড়স্থ টেকের মোড়, ওমরশাহ্ পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করে বলে জানায়। এলাকাবাসী বিবরণে প্রকাশ কয়েক বছর ধরে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় দেশজুড়েই এলপিজি ব্যবহার বেড়েছে। গত ৪ বছরে দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার ৫ গুন বেড়েছে। আর চাহিদা বাড়ায় বাজারজাতকারী কোম্পানীগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। ফলে যেখানে সেখানে অবৈধভাবে দোকান বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করে যাচ্ছে। বর্তমানে পাড়া, মহল্লার যথা কলসী দিঘী রোডের, ধুমপাড়া রোড ট্যাকের মোড়, ওমরশাহ্ পাড়া এলাকা আনাচে কানাচে মুদি দোকান, কাঠের দোকান, পার্টসের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে এলপিজি গ্যাস। যেখানে সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করে ওই ঝুকিপুর্ণ সিলিন্ডার বেচাকেনা করে যাচ্ছে। বেশিরভাগ দোকানি বিস্ফোরক পরিদপ্তর লাইসেন্স ছাড়াই এলপিজির ব্যবসা করছে। ওসব দোকানির অনেকেরই গ্যাস সিলিন্ডার কেনাবেচার অনুমোদন তো দুরের কথা, ট্রেড লাইসেন্সই নাই। এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিকারেরও কোন ব্যবস্থা নেই। জনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাড়ছে প্রাণ হানির ঘটনাও। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গত বছরে বিস্ফোরক পদার্তে যেসব দুর্ঘটনার তদন্ত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হয়েছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দুর্ঘটনা। এমন পরিস্থিতিকে দেশজুড়ে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রি রোধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিদপ্তর (জিএনসিরআরপি) অভিযান চালাবে। জিএনসি আরপি এবং বিস্ফোরক পরিদত্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে মতে, দেশে বিগত ৪ বছরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি পাঁচগুন বেড়েছেক। গত অর্থ বছরে দেশে আমদানি করা ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার ৭২টি এবং দেশে তৈরী ১১ লাখ ৪ হাজার ৩৪৫টি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করা হয়েছে। আর এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনা হয়েছে ৫০ লাখের বেশী। তার আগের অর্থ বছরে ওই বিক্রির পরিমান ছিল ৫২ লাখ ৮৯ হাজার। ২০১৫-২০১৬ইং অর্থ বছরে ২১ লাখ ৮৫ হাজার এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয়। ২০১৪-২০১৫ইং অর্থ বছরে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ১০ লাখ সিলিন্ডার। বর্তমানে লাখ লাখ সিলিন্ডার বিক্রি হলেও সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার মজুদের জন্য সব মিলিয়ে মাত্র ৬ হাজার লাইসেন্স নিয়েছে। তার মধ্যে অনেকেই আবার লাইসেন্স নবায়ন করেনি। চট্টগ্রামে হাজার হাজার লাইসেন্স বিহীন এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান রয়েছে। যেমন আগ্রাবাদ চৌমুহনী রুকু ইন্টারন্যাশনাল, পাঠানটুলী, বহদ্দারহাট, লালখান বাজার, নিউমার্কেট এলাকা, বন্দর থানাধীন ১ ঘন্টার অনুসন্ধানে জানা যায়। ধুমপাড়া, সাগর পাড় রোড মোঃ সালাউদ্দিন মালিকানাধীন হাজী এন্টারপ্রাইজ ৪০টির লাইসেন্স থাকলে মুজদ রয়েছে ১৫০ এর উপরে। মোঃ আলতাব হোসেনের মালিকানাধীন আনোয়ার ষ্টোর, রাজিব মালিকানাধীন বিছমিল্লাহ ষ্টোর, মোঃ আলাউদ্দিন এর মালিকানাধীণ আরাফাত ষ্টোর, ডাঃ পান্না রাণী মালিকনাধীণ মা-মনি মেডিকেল ধুমপাড়া, ধুমপাড়া মেইন রোডে কাঠের দোকানে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দোকানও রয়েছে।
ধুমপাড়া মোড়ে আলম ইলেক্ট্রনিক্স ওই সব দোকানে লাইসেন্সবিহীন এলপি গ্যাস অবৈধভাবে বিক্রি করে যাচ্ছে। কলসী দিঘীর পাড়স্থ কার্টুন ফ্যাক্টরীর সংলগ্ন মা হার্ডওয়্যার এন্ড হোল সোলার ইলেক্ট্রনিক্স এলপি গ্যাসের দোকান, তথ্য সংগ্রহের কালীন সময় কোন লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। দোকানে ১০০-১৫০টি এলপি গ্যাসের বোতল রয়েছে। তার পার্শ্ববর্তী মিন্টু ষ্টোর মুদি দোকানের সাথে এলপি গ্যাস বিক্রি করছে। তার ৪০টি এলপি গ্যাস বোতল রাখার অনুমতি তাকলেও তার বাসা ঘর ভাড়া নিয়ে এলপি গ্যাসের ষ্টোর করে রেখেছে সেখানে ২০০ বোতল এলপি গ্যাস মজুদ করে রেখেছে। আল আমিন ইলেক্ট্রনিক্স এখানে এলপি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। কলসী দিঘীর কার্টুন ফ্যাক্টরীর সামনে মহসিন কলোনী রোড মোঃ রুবেল মিয়ার দোকানে লাইসেন্স ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বোতল। টেকের মোড় পুলিশ ফাঁড়ির পিছনে রেললাইনে মোঃ ইলিয়াছ মিয়ার দোকানে খোকন ভবনের সামনে লাইসেন্স ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বোতল।সম্প্রতি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরসি) টাঙ্গাইল জেলায় অভিযান চালায়। সংস্থাটির অভিযানে ৯৫ শতাংশ দোকানে বিষ্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানা যায়। সংস্থাটি অবৈধভাবে বিক্রির অপরাধে ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করেছেন। চট্টগ্রামে বিস্ফোরক আইনের শর্ত লঙ্গন করে মজুদ করা হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। অনুমোদন ছাড়াই ঝুকিপূর্ণভাবে বিক্রিও করা হচ্ছে এসব সিলিন্ডার। ফলে প্রায়ই ঘটেছে দুর্ঘটনা, নিহত ও হচ্ছেন অনেকে। তাই মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।এরই অংশ হিসাবে গত ৩০ মে অক্টোবর ১টা ইং রোজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় কর্তৃক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান সমূহ পরিচালিত হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় এর সহকারী পরিচালক জনাবা নাসরিন আক্তার ও বিভাগীয় সহকারী পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস, কর্তৃক হালিশহর থানা এলাকায় তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসময় বিস্ফোরক আইনের শর্ত লঙ্ঘন করে ঝুঁকি পূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের অধিক মজুদ করায় নগরীর হালিশহরের কে এসব এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজকে অনুনমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করে দেন।

মন্তব্য

মন্তব্য