তিতাস-হোমনায় প্রার্থী হতে চান সাবেক সচিব এডভোকেট আলী আহমেদ

হালিম সৈকত,কুমিল্লা //
কুমিল্লা-২ ( তিতাস-হোমনা) একের পর এক আসছে চমক। এক সময় এই আসনে আ’লীগের তেমন কোন শক্ত প্রার্থী না থাকলেও বর্তমানে এই আসনে আ’লীগের রয়েছে একাধিক প্রার্থী। বর্তমানে যার নামটি জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন এডভোকেট আলী আহমেদ। যিনি ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ মাতৃকার মুক্তি জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সম্মুখ সমরে যিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। যুদ্ধাহত এই মুক্তিযোদ্ধা আলী আহমেদ ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানেও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন।
বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মী এবং জনগণের ইচ্ছায় তিনি প্রার্থী হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ।
চাকুরী জীবনের প্রথম দিকে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। পরে ওকালতি পেশাকে বেঁছে নেন। এডভোকেট হিসেবে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন। পরে বি.সি.এস ক্যাডোরে তিনি ম্যাজিস্ট্রেট হন। হয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক, সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্ম সচিব, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী এবং সব শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকুরি করেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের রোষানলে পরে তিনি চাকুরিচ্যূত হন। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে তিনি তার চাকুরি পুনরায় ফিরে পান।
ব্যক্তি জীবনে তিনি কখনো লোভ লালসার ধারধারে ছিলেন না। যার কারণে তিনি অবৈধ সম্পদের মালিক হতে পারেন নি। তিনি যখন চাকুরি করেছেন তখন তিনি এলাকার মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন। জনগণের জন্য কাজ করেছেন নিঃস্বার্থভাবে।
রাজনৈতিক জীবনে ১৯৬৮ সালে তিনি হোমনা উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১০ সালে কুমিল্লা উত্তর জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ এর জাতীয় নির্বাচনে আ’লীগের পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমামের সাথে অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি কাজ করেছেন।
২০০১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা এডভোকেট আলী আহমেদকে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে দল ক্ষমতায় এলে আপনার চাকুরি ফেরত পাবেন এবং দল থেকে নির্বাচন করতে চাইলে নমিনশন পাবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার কথা রেখেছিলেন, আমাকে চাকুরি ফেরত দিয়েছিলেন। আশা করি পরের কথাটিও রাখবেন।
এই দিকে আ’লীগের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন হোমনা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ, উত্তর জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি সিআইপি সেলিমা আহমদ মেরী, তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার, উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহŸায়ক সারওয়ার হোসেন বাবু। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এমকে আনোয়ারের ছেলে কায়জার মাহমুদ আনোয়ার এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। জাপার বর্তমান এমপি আমির হোসেন ভূইয়া এবং ইসলামী আন্দোলনের ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম।

মন্তব্য

মন্তব্য