কক্সবাজারে নৌকার  মনোনয়ন পেতে মরিয়া এক ঘরে “তিন জন”

 

মোঃজাহেদুল ইসলাম(জাহেদ)//

কক্সবাজার সংসদিয় আসন-৩(সদর/রামু)উক্ত আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এক ঘরের তিন ভাই বোন। একজন উক্ত আসনের বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, অপরজন রামু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল এবং তাদের একমাত্র বোন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনিন সরওয়ারকাবেরী।আপন এই তিন ভায় ভোনের সবচেয়ে বড় পরিচয় সাবেক রাষ্ট্রদূত আওয়ামী লীগের এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনিতীবিদ মরহুম ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর সন্তান।সারা বছর জুড়ে আলোচনায় থাকার জন্য তিন জনই কোননা কোন কর্মসুচি নিয়ে লেগে থাকেন মাঠ পর্য়ায়ে। বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ও মনোনয়নের জন্য একই পরিবার থেকে তিন  জনই তদবির করে।যা প্রকাশ্যে মাঠেকাঁদা ছুড়াছুড়ির দ্বরুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত গড়িয়ে কেন্দ্র ঘোষিত ২০০৮ সালে উক্ত পরিবার থেকে বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা দিয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়।আসনটিতে এবার ও একই পরিবারের পুর্বের অবস্থা বিরাজ করায় জেলা জুড়ে আওয়ামী রাজনিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।কেননা প্রতিবার নির্বাচন আসলেই  ৩ ভাইবোন এমনআচরনে ভোটের মাঠে দলের জন্য বড় বাধা বলে মনে করেন আওয়ামী নেতারা।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উক্ত পরিবারের ৩জনই আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা ঘোষনা করে মাঠে প্রচারণা চালানোর কারণে বেকায়দায় দলীয় নেতা কর্মীরা। তাদের দাবি পারিবারিকসমঝোতার ভিত্তিতে মাঠে নামলে দলের সাংগঠনিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভীত মজবুত হবে। তবে দল থেকে মনোনয়ন পাবার আগেমাঠে প্রচারণা চালানো দোষের কিছু নয়।সদর-রামু আসনে পারিবারিক বিরোধে খোদ রামুর আওয়ামী পরিবার চরম বিরক্ত হয়ে অনেকেই তাদের বলয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নিরুপায় হয়ে রাজনীতি অঙ্গন থেকে দুরে সরে যাচ্ছে।যেহেতু আগামি সংসদনির্বাচনে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়ে মাঠে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনিন সরওয়ার কাবেরী।ইতিমধ্যেতিনি স্বইচ্ছায় স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও প্রচার করেছেন। তাছাড়া আগামি নির্বাচনে দল থেকে উক্ত আসনে মনোনয়ন পাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করে কাবেরি বলেন বিভিন্ন এলাকায় নানা কর্মসুচি সহ লোকজনের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।বর্তমান সাংসদ তথা বড় ভায় মাইমুম সরওয়ার কমলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি আরো জানান,গত ৫ বছরে কক্সবাজারে সুশাসন নিশ্চিত হয়নি এবংপ্রধানমন্ত্রী যেভাবে এমপিদের জন্য সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন তার অর্ধেক ও উক্ত আসনে বাস্তবায়ন হয়নি। এবং প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবযাওয়ার কিছুদিন আগে আমার সাথে মনোনয়ন বিষয়ে কথা হয়েছে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া গতবার ও আমাকে মনোনয়নদিতে চেয়েছিলেন কারণ নেত্রীর কাছে নারী নেতৃত্ব খুবই পছন্দের।বড় ভায়  কাজলের অনুরোধে আমি নির্বাচন থেকে সরে আসি।আশরাফ চাচা (সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম) আমাকে নেত্রীর কাছে নিয়ে গিয়ে মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন বলেকাবেরী দাবি করলেও দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করবেন না তাই পরিবারের সবার উচিত তাকে ছাড় দেওয়া বলে জানান। কেননা তিনিগতবার ও ভাইদের ছাড় দিয়েছেন।অপরদিকে কাবেরির ভাই  রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসোহেল সরওয়ার কাজলের প্রত্যাশা এবার নেত্রী তাকে মনোনয়নের জন্য অগ্রাধিকার দেবেন।কাজল জানান, আমি ৪ বার মনোনয়নচেয়েছি গতবার আমার নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এবং মাহবুবুল আলম হানিফ নেত্রীর কাছে আমাকে নিয়ে গিয়ে মনোনয়ননিশ্চিত করলেও আমি তখন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় তাই এবারওআমি মাঠে রয়েছি। রামুতে ৯৯টি ওয়ার্ড কমিটি সক্রিয় করেছি সদরে ও প্রচারণা চালাচ্ছি। কিছু দিন আগেও নেত্রীর সাথে কথা হয়েছে তাই আশাকরি মনোনয়ন পেতে কষ্ট হবেনা। যদি মনোনয়ন নাও দেন, তাহলে যাকে দেন তার পক্ষে কাজ করে যাব কারন মনোনয়নেরচেয়ে দল বড়।পারিবারিক বিরোধ কিংবা পরিবার থেকে আরো অনেকে মনোনয়ন চাইতে পারে কিন্তু আমি নেত্রীর প্রতিশ্রুতি মনেরেখেছি এবং রামু /সদরের বেশিরভাগ নেতাকর্মীর সাথে বছরজুড়ে আমার যোগাযোগ রয়েছে তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস এবার মনোনয়নআমি পাব বলে জানান কাজল।বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল

মন্তব্য

মন্তব্য