বাউফলে সম্পত্তির লোভে বাবাকে হত্যা, মামলার তদন্ত

মো:ফিরোজ বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে সম্পত্তির লোভে বাবাকে হত্যা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় উপজেলার কনকদিয়া গ্রামে ওই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন পটুয়াখালীর পিবিআই কর্মকর্তা এসআই তৌয়বুর রহমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কনকদিয়া গ্রামের কালু হাওলাদার (৬৭) দুই পরিবারের ১১ ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার জীবন অতিবাহিত করছিলেন। কিছু দিন পূর্বে তাঁর দ্বিতীয় পরিবারের সন্তান রুহুল আমিন ও ইয়াকুব হাওলাদার বাবার সম্পত্তি ও ব্যবসার টাকা হাতিয়ে নিতে শুরু করে নানা ছলচাতুরী। একপর্যায়ে সুকৌশলে বাবাকে ম্যানেজ করে সকল সম্পত্তি হেবা দলিল করে নিজের নামে লিখে নেয় দ্বিতীয় পরিবারের সন্তান রুহুল আমিন। এতে সহযোগিতা করেন ভাই ইয়াকুব ও বোন তাছলিমা বেগম। এছাড়াও বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশুনার দায়িত্বে থাকার সুবাধে ব্যবসার সকল টাকাও হাতিয়ে নেয় তারা। ঘটনার তিন মাস পূর্বে কালু হাওলাদার ছেলেদের অসৎ উদ্দ্যেশের বিষয়টি বুঝতে পেরে সম্পত্তির দলিল ও ব্যবসার টাকা ফেরৎ চেয়েছেন ছেলেদের কাছে। এতেই ঘটে বিপত্তি। তখন থেকেই বাবাকে খুন করার পরিকল্পনা শুরু করেন তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দ্যেশে গত ৮ মে মাকে নানা বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সন্তানরা। এরপর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কালু হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে দ্বিতীয় পরিবারের সন্তান রুহুল আমিন, ইয়াকুব হাওলাদার ও তাছলিমা বেগম। হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় তার। পরে কালু হাওলাদারে প্রথম পরিবারের সন্তান ও মামলার বাদী ইউছুফ আলমকে মোবাইল ফোনে বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান দ্বিতীয় পরিবারের সন্তানেরা। খবর পেয়ে ছেলে ইউছুফ বাড়িতে এসে দেখতে পান তার বাবাকে হত্যা করে বাড়িতে লাশ ফেলে পালিয়ে গেছে আসামিরা। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে লাশ উদ্ধার করেন। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে এবং রাতের মধ্যে লাশ দাফন করতে মামলার বাদী ইউসুফকে হুমকি দেয় আসামিরা। এ ঘটনায় পরের দিন বাউফল থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে সময়ক্ষেপন করেন। পরে বাধ্য হয়ে চার মাস পরে ১০ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (২য়) আদালতে ইউসুফ আলম তাঁর ৩ সৎ ভাই-বোনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা (নং-৩৪৮/১৮) দায়ের করেন। মামলার খবর পেয়ে আসামিরা মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানান বাদী ইউসুফ আলম। আদালত পটুয়াখালী পিবিআই কে ১১ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন ।
গতকাল সরেজামিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে মোঃ সুলতান আহম্মেদসহ কয়েকজনে জানান, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে । সম্পূর্ন মাথা কাপড় দিয়ে বাধা ছিল। গোসলের সময়ে নিহতের দ্বিতীয় পরিবারের সন্তানেরা নিহতের মাথা এলাকাবাসী কাউকে দেখতে দেয়নি। যারা সম্পত্তি লিখে নিয়েছে তারা সম্পত্তি ভোগ দখলের জন্যই এ হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে বলে ধারণা করেছেন তাঁরা। আসামীরা মামলার কথা জানতে পেরে রাতের আধাঁরে নিহতের লাশ কবর থেকে সরিয়ে ফেলেছে বলে জানান মামলার বাদী ইউসুফ আলম ।
মামলার তদন্তকারী পটুয়াখালী পিবিআই কর্মকর্তা এসআই তৌয়বুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত কাজ চলতেছে। তদন্ত রিপোর্ট দাখিল না করা পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।

মন্তব্য

মন্তব্য