৩ লাখ শূন্য পদে সুযোগ পাবে কোটায় চাকরিপ্রত্যাশীরা

অনলাইন ডেস্ক // সরকার নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের (আগের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী) চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছে। তবে চতুর্দশ থেকে বিশতম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে (আগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী) কোটা পদ্ধতি বহাল রয়েছে। জনপ্রশাসনের অনুমোদিত পদের বিপরীতে চার লাখ শূন্য পদের মধ্যে তিন লাখই তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর। ফলে এসব পদে সুযোগ পাবেন বিভিন্ন কোটায় চাকরিপ্রত্যাশীরা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণীর অনুমোদিত পদ রয়েছে ২ লাখের কিছু বেশি। আর দ্বিতীয় শ্রেণীতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ শূন্য রয়েছে যথাক্রমে ৪৮ ও ৬৫ হাজার। অন্যদিকে তৃতীয় শ্রেণীর ১০ লাখ পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ২ লাখ। চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত ৩ লাখ ৩৫ হাজার পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৭৯ হাজারটি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ত্রয়োদশ গ্রেডের পর থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার বিষয়টি কোটা পর্যালোচনা কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে ছিল না। সেজন্য চতুর্দশ থেকে বিশতম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা নিয়ে কোনো সুপারিশ করেনি কমিটি। আগের নিয়মেই এসব গ্রেডে নিয়োগ হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে কোটা বাতিল করে গত বৃহস্পতিবার জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, সরকার সব সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ জারি করা পরিপত্রে উল্লেখ করা কোটা পদ্ধতি সংশোধন করেছে। নবম (আগের প্রথম শ্রেণী) ও দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণী) পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। একই সঙ্গে এসব পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে।

দেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ পদ্ধতি চালু হয় ১৯৭২ সালের এক নির্বাহী আদেশে। এর ভিত্তিতে নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল। বাকি ৪৫ শতাংশ নিয়োগ করা হচ্ছিল মেধার ভিত্তিতে। এছাড়া সংরক্ষিত কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে ১ শতাংশ পদ প্রতিবন্ধী প্রার্থী দিয়ে পূরণের নিয়ম চালু হয় ২০১২ সালে। তবে সংরক্ষিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণের প্রক্রিয়া চলে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি নিয়ে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আবারো আন্দোলন শুরু হলে গত ২ জুন কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনায় কমিটি গঠন করে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সরকারি কর্মকমিশনের সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব।

১৭ সেপ্টেম্বর এ কমিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুপারিশ জমা দেয়। তাতে সরকারি চাকরির নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত পদে কোনো কোটা না রেখে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালুর সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনের অন্যতম তিনটি সুপারিশ ছিল— নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, এসব গ্রেডে বিদ্যমান কোটা বাতিল ও কোটা বাতিলের ফলে বিদ্যমান কোটার সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে নির্দিষ্ট সময়ে পর্যালোচনা করে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া।

কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার/বাতিল’ প্রস্তাব আকারে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ৩ অক্টোবর কোটা বাতিল করে পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ৪ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।

মন্তব্য

মন্তব্য