মানিকগঞ্জে ৪৩ কেজির অধিক অবৈধ স্বর্ণসহ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য ০৫ গ্রেফতার

ফারজানা আক্তার মনি // র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গি, অপহরণকারী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, প্রতারকচক্র, মাদক ব্যবসায়ী, এজাহারনামীয় আসামী, চোরাকারবারীদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও সময়ে সময়ে সংগঠিত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আসামীদের আইনের আওতায় এনে সাধারণ জনমনে স্বস্থি ফিরিয়ে আনতে র‌্যাব সদা তৎপর রয়েছে।
একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালানকারী চক্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আসছে। এই সকল চোরাচালানকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ টিম গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে।
এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৪ অক্টোবর ২০১৮ ইং তারিখ আনুমানিক ০৯.৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক হয়ে অবৈধ স্বর্ণ পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কিছু সদস্য ঢাকা থেকে অবৈধ স্বর্ণ সু-কৌশলে বহন করে নিয়ে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল ১১.৩০ ঘটিকায় মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের তরা ব্রীজের আনুমানিক ৩০০ গজ আগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা শুরু করে। অভিযান পরিচালনা কালে তারা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে, অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের ০৫ (পাঁচ) জন সদস্য (ক) ইয়াহইয়া আমিন (৪২), (খ) শেখ আমিনুর রহমান (৩৭), (গ) মোঃ মনিরুজ্জামান রনি (৩৫), (ঘ) শেখ জাহিদুল ইসলাম (৩৩) এবং (ঙ) মোঃ জহিরুল ইসলাম তারেক (২৮)’দেরকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে অবৈধ স্বর্ণের চালান সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রথমে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে তাদের দেহ তল্লাশী করে অভিনব পন্থায় লুকানো অবস্থায় সর্বমোট ২৪৩ (দুইশত তেতাল্লিশ) টি প্রচলিত স্বর্ণের বার এবং ১৫ টি বড় সইজের (মোবাইল ফোনের সাইজ প্রতিটি ১ কেজি ওজন) উদ্ধার করা হয়। সর্বমোট ২৫৮ বার যার ওজন ৪৩ কেজি। উক্ত স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১৮ কোটি টাকার অধিক।
এছাড়াও ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, তারা দীর্ঘ সময় যাবৎ উল্লেখিত চোরাচালানের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। চোরাচালানের মাধ্যমে আনিত স্বর্ণের বার তারা দেশের সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে আসছে।
ধৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে যা যাচাই বাছাই করে পরবর্তীতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ভবিষ্যতে আমরা স্বর্ণ চোরাচালানকারীদের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

মন্তব্য

মন্তব্য