হোমনায় স্কুলছাত্র নির্যাতনের দায়ে শিক্ষক জেলে

হালিম সৈকত,কুমিল্লা //
কুমিল্লার হোমনায় আরাফাত হোসেন নামের ১০ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রকে বেত্রাঘাতে জখম করার অভিযোগ শিক্ষককে জেলে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে হোমনা থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলামকে আটক করে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
গত মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার ভিক্টর স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। আহত স্কুলছাত্র উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের দলিল লিখক মোঃ নূর নব্বীর ছেলে। বর্তমানে সে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মো. আমিনুল ইসলাম রিপন ভিক্টর স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকের শুন্য পদ আছে কি না জানতে চাইলে গত ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে বলে এবং পরিক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়ার জন্য মৌখিক অনুমতি প্রদান করে। তিনদিন ক্লাশ নেয়ার মধ্যেই গত ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার একটি প্যারাগ্রাফ লিখা নিয়ে ওই ছাত্রকে প্রচন্ড বেত্রাঘাত ও দেয়ালে মাথা ঠুকে রক্তাক্ত জখম করে। এই ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ওই শিক্ষককে পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ী জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চান্দকুড়া গ্রামে।
আহত ছাত্রের বাবা মো. নূরন্নবী জানান, গত মঙ্গলবার তিনি (আমিনুল ইসলাম রিপন) ক্লাসে এক ছাত্রকে দিয়ে বø্যাকবোর্ডে একটি ইংরেজি প্যারাগ্রাফ লিখে ছাত্রদের তা খাতায় উঠাতে বলেন। এটি খাতায় তুলতে গিয়ে আরাফাত হোসেন একটু সময় বেশী চায়। তাতেই শিক্ষক ক্ষেপে গিয়ে তাকে মারেন। এতে আরাফাত আহত হলে অন্য শিক্ষকরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ জানান, আমিনুল ইসলাম রিপনকে ক্লাস নেয়ার জন্য মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলো। ক্লাসে ভালো পারফর্মেন্স দেখালে হয়তো নিয়োগের ব্যাপারে বিবেচনা করা হতো। আমরা ছাত্রটিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।
এ ব্যাপারে হোমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী নাজমুল হক বলেন, প্রথমে ঘটনা জানতে পেরে তাকে আমরা আটক করি। ওই দিনই ছাত্রের বাবা বাদি হয়ে মামলা করেছেন। গতকাল (আজ বুধবার) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য