কালীগঞ্জে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় আওয়ামী লীগ জড়িত নয়

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত নয়। জাতীয় পার্টির শোভাযাত্রায় বেপরোয়া গাড়ি বহরের সাথে দেওপাড়া ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় মাহিন্দ্র ও অটোরিকশা চালকদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওই সব গাড়ির চালকদের সাথে মারমুখী সংঘর্ষে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়ে বলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহীদ ময়েজউদ্দিন ফেরিঘাটে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল গণি ভূইয়ার স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পরিমল চন্দ্র ঘোষ।
লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, গত ২২ শে সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খানের নেতৃত্বে প্রাডো, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ৪০/৫০ টি মোটরসাইকেল যোগে শোভাযাত্রা করে গাজীপুর (৫) কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার শহীদ ময়েজউদ্দিন সড়কে আওয়ামী লীগকে উসকানিমূলক ¯েøাগান দিতে থাকে। রাস্তায় চলার সময় তাদের ব্যবহৃত যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে ওই সড়কে চলাচলরত একাধিক মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওইসব গাড়ির চালক ও স্থানীয়দের সাথে জাতীয় পার্টির শোভাযাত্রাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পূর্ববর্তী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে পরিকল্পিতভাবে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে ওই ঘটনাকে আওয়ামী লীগের উপর দোষ চাপিয়ে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্রা মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করে । এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়।
সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় মাহিন্দ্র ও অটোরিকশা চালকদের সাথে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের । পাশাপাশি তারা এই অভিযোগও করেন কালীগঞ্জে জাতীয় পাটি দ্বিধাবিভক্ত। যেদিন খুনি আজম খান তার স্ত্রী রাহেলা পারভীনকে জাতীয় পাটি কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক করেছে। আমরা এটাও জানতে পেরেছি ওইদিন মাহিন্দ্র ও অটোরিকশা চালকদের সাথে সংঘর্ষের পরপরই জাতীয় পার্টির বিভক্ত অন্য গ্রæপটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্বিতীয়বার খুনি আজমকে গণধোলাই দেয়। পরবর্তীতে কালীগঞ্জে আর কোনো দিন প্রবেশ করবে না বলে প্রতিশ্রæতি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানায়। একই সাথে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের জন্য খুনি আজম ও তার দোসরদের বিচার ও গ্রেফতারের দাবি জানায়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীনতম একটি রাজনৈতিক সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার মেধা, ধৈর্য্য ও আদর্শ দিয়ে সেই রাজনৈতিক সংগঠনটি সু-সংগঠিত করেছেন। ১৯৮৪ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বৈরচারী বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশে ২২ দল আহুত হরতালের আহবান করলে ওইদিন ময়েজউদ্দিন গাজীপুরের কালীগঞ্জে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার সময় কালীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় খুনি আজম খানের নেতৃত্বে চিহিৃত সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল গণি ভূইয়া, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম তোরন, যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বশির আহমেদ, জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান খান ফারুক মাষ্টার, গাজীপুর জেলা পরিষদের সদস্য শফিউল কাদের নান্নু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাজেদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ।

মন্তব্য

মন্তব্য