কালের সাক্ষী কালীগঞ্জে সাড়ে ৩শত বছরের পুরানো তেঁতুল গাছ

মো. ইব্রাহীম খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি //
কালের সাক্ষী হয়ে ডালপালা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সাড়ে ৩শত বছরের পুরানো তেঁতুল গাছটি। কে বা কারা তেঁতুল গাছটি রোপন করেছে তার সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারেনি। তবে লোকমুখে তেঁতুল গাছের ইতিহাস জানতে গিয়ে রোপনের সঠিক দিন তারিখ জানা যায়নি। কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী গ্রামের জাতীয় ঈদগাঁয় কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পুরানো তেঁতুল গাছটি। তেঁতুল গাছটির পশ্চিম পাশে ঈদগাঁ সংলগ্ন ফুলদী গাউছিয়া সুন্নী দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। পাশে রয়েছে দুটি পুরানো পুকুর। পুকুরে মাটি খনন করলে পুরানো কিছু কয়লা রংয়ের গাছের গোড়ালি পাওয়া যায়। যা জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার করলে আগুন জ¦লে দীর্ঘক্ষণ।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেঁতুল গাছের ঘের ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি। প্রচুর ডালপালা নিয়ে ঈদগাঁ মাঠজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে গাছটি। গাছটিতে যেই তেঁতুল ধরে তা খেতে খুবই টক। স্থানীয় ফিরোজ মিয়া (৪৫) বলেন, তার চাচা সাহাবউদ্দিন সরকার ১০ বছর পূর্বে মারা গেছেন তখন তার বয়স হয়েছিল ১১৫। তিনি বলে গেছেন তার জন্মের পর থেকে তেঁতুল গাছটি দেখে আসছেন। তেঁতুল গাছের সঠিক জন্মলগ্ন তিনি বলতে পারেনি।
স্থানীয় মুজিবর রহমান (৪৩) বলেন, তার দাদা আজমত আলী ৩০ বছর আগে মারা যান। তখন দাদার বয়স ছিল ১০০ বছর। তিনি তার দাদাকে তেঁতুল গাছের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে, তার দাদা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে তার দাদা বলেছেন, তার দাদাকেও জিজ্ঞাস করেছিলেন তিনিও সঠিক তথ্য দিতে পারেনি।
ফুলদী গাউছিয়া সুন্নী দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপার মো. বাহাউদ্দিন (৫৫) বলেন, এক সময় এটা একটি ভয়ানক জঙ্গল ছিল। শুধু ঈদের সময় ফুলদী এলাকার মানুষরা এখানে ঈদের নামাজ আদায় করতো। প্রতি মঙ্গলবার বিকেলে এখানে হাট বসতো। এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় হাট বসার ফলে ১৯৮৬ সাল থেকে সাপ্তাহিক হাট বসা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তেঁতুল গাছের সঠিক ইতিহাস আমাদের জানা নেই। আমাদের আদি পুরুষরা এর কোনো তথ্য বলতে পারেনি। তবে গাছটির বয়স ৩০০/৩৫০ বছরের পুরানো হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, পুরো ফুলদীটি একটি দ্বীপের মতো ছিল। আগের মানুষ গাজীপুর ধীরাশ্রম থেকে নৌযোগে নরসিংদী পলাশে যেতে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতো। ঐই সময় নৌকার দিক নির্দেশনার জন্য এই ফুলদ্বীপে জ¦ালানি তেলের আলো জ¦ালিয়ে রাখতো। ফুলদ্বীপের নাম থেকে এলাকার নামকরন হয় ফুলদী। ৫/৬ বছর পূর্বে গাছটির ঘোরার চারপাশে বাউন্ডারি করে দেয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী জাতীয় ঈদগাঁর আশেপাশে পুকুর খনন করলে প্রচুর পুরানো গাছের মুতা পাওয়া যায়। যা দেখতে কয়লার মতো কালো। তা জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার করলে আগুন দীর্ঘক্ষণ থাকে। তেঁতুল গাছটিতে কোনো রকম কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে দাবানো যায় না। গাছটির কোনো ডালপালা ভেঙ্গে গেলে ডালের ভেতরের অংশ কালো দেখা যায়।
ঈদগাঁ জমির মোহতায়ালি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল ওহাব তিনি বলেন, ৭৬ শতাংশ জমির ওপর ঈদগাঁটি। তার দাদা কেমু বেপারী ঈদগাঁর জায়গাটি দান করেন। তারপর তার বাবা দেখভালের দায়িত্বে ছিল । এখন তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তেঁতুল গাছের ইতিহাস বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এর সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারেনি । আমার বাবা-দাদাও তার তথ্য বলতে পারেনি। তবে আনুমানিক ৩০০/৩৫০ বছরের বেশি হতে পারে।

মন্তব্য

মন্তব্য